cool hit counter
Home / প্রশ্ন ও উত্তর / যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার উপায় কি?

যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার উপায় কি?

যৌন অঙ্গ বা যৌনাঙ্গ বা প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শরীরের সে সকল অঙ্গ যেগুলো যৌন প্রজননে সংশ্লিষ্ট এবং প্রজনন তন্ত্রের অংশ। উন্নত প্রাণীতে এটি নিচের অংশগুলো নিয়ে গঠিত

যৌনাঙ্গ

যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার উপায়

স্ত্রী যৌনাঙ্গ

* বার্থোলিনের গ্রন্থি
* সারভিক্স
* ক্লিটোরিস বা ভগাঙ্কুর
* ক্লিটোরাল হুড
* ক্লিটোরাল গ্রন্থি বা গ্ল্যান্স ক্লিটোরিস (glans clitoris)
* ফ্যালোপিয়ান নালি
* লেবিয়াম
* ডিম্বাশয়
* স্কিনির গ্রন্থি
* জরায়ু
* যোনি
* ভালভা

 

পুরুষের যৌনাঙ্গ

* বালবোইউরেথ্রাল গ্রন্থি
* এপিডিডাইমিস
* লিঙ্গ
* লিঙ্গাগ্রত্বক
* গ্ল্যান্স পেনিস লিঙ্গমুণ্ড
* প্রোস্টেট
* অণ্ডকোষ
* সেমিনাল ভেসিকল
* শুক্রাশয়

প্রশ্নঃ আমরা সবাই নিজেদের শরীর নিয়ে অনেক সচেতন থাকি। যেমন কিভাবে নিজেকে আরও সুস্থ, সবল ও আকর্ষণীয় করা যায়, কিভাবে নিজেকে ‘ফিট’ রাখা যায়, কিভাবে সাজলে বয়ফ্রেন্ড -এর কাছে আরও সুন্দর লাগবে, কোন শার্ট-প্যান্ট পরলে গার্লফ্রেন্ড লাইক করবে। কিন্তু আমার মনে হয় অনেক সময়ই আমরা আমাদের নিজেদের শরীরের অতি প্রয়োজনীয় একটি অংশ – নিজেদের যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চল নিয়ে একটু কমই ভাবি। আমারা ভাবি না আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের মত আমাদের যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চল – উভয়েরই সঠিকভাবে যত্ন নিতে বা পরিচর্যা করতে হয়। অনেকে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও ঠিক কিভাবে এই অংশগুলোর যত্ন নিতে হবে তা জানে না। তাই আমার প্রশ্ন হল, ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই কিভাবে তাদের নিজ নিজ যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চল পরিচর্যা করবে যাতে করে শরীরের এই অংশগুলি healthy, strong and risk free থাকে। কারণ সুস্থ ও রোগমুক্ত যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চলই পারে আনন্দময় ও সুখী যৌন জীবন উপহার দিতে। By the way, আমি এখানে যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চল বলতে শুধু লিঙ্গ বা যোনি বুঝাইনি, একজন ছেলে এবং মেয়ের শরীরে যতগুলা যৌন অঞ্চল রয়েছে সব গুলারই কথা বুঝিয়েছি।

 

অাপনার ডক্টরের উত্তরঃ আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হল যে সে নিজেই নিজের বেশিরভাগ পরিচর্যা করে নেয় – যেমন জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, ঠিকঠাক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখে, নিয়মিত মৃত কোষসমূহ নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে ইত্যাদি। আমাদের কাজ শুধু শরীরকে তার নিজের কাজ করতে একটু সহায়তা করা। সেই উদ্দেশ্যে যৌনাঙ্গ ও যৌন অঞ্চলসহ সমগ্র শরীরের পরিচর্যার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও শারীরিক কসরৎ (এক্সারসাইজ) করা আমাদের কর্তব্য। যৌন সঙ্গমের সময় শুধু যৌনাঙ্গ ছাড়াও মোটামুটি সমগ্র শরীরের পেশী, অস্থি ইত্যাদিও তাতে অংশগ্রহণ করে। তাই সুখী যৌন জীবনের জন্য সুস্থ সবল যৌনাঙ্গ ছাড়াও সুস্থ সবল শরীরও একান্ত প্রয়োজন। নিয়মিত এক্সারসাইজ করে ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ানো উচিৎ এবং হাত, পা, উরু, পেট, কোমর, তলপেট ইত্যাদি অঞ্চলের পেশীও সবল করা উচিৎ। বাজে খাবার (junk food, যেমন পিৎজা, বার্গার, বড়া, ভাজা-ভুজি ইত্যাদি) যতটা সম্ভব এড়াতে পারলে ভাল। নিয়মিত সঠিক মাত্রায় প্রোটিন, শর্করা, ফ্যাট ও ভিটামিন-মিনারেলস সমৃদ্ধ আহার করলে স্বভাবতই শরীর সুস্থ থাকে ও যৌন জীবন ভাল হয়। যৌনসঙ্গমে যৌনাঙ্গের থেকেও বেশি ভূমিকা নেয় মস্তিষ্ক, তাই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। মানসিক অবসাদ (depression), উদ্বেগ (anxiety) ইত্যাদি হয়ে থাকলে তার চিকিৎসা করা সুখী যৌন জীবনের জন্য অপরিহার্য। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদিও যৌন জীবনের পথে অন্তরায়, তাই নিজেদের জীবনধারায় পরিবর্তন এনে এইসব অসুখ হবার সম্ভাবনা যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হয়।

এইবারে আসছি যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার কথায়। প্রথমত যৌনাঙ্গসমূহ নিয়মিত জল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যৌনসঙ্গমের পর সম্ভব হলে মূত্রত্যাগ করে নিলে মূত্রথলী ও মূত্রনালীতে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে। যৌনসঙ্গমের পর অবশ্যই নিজ নিজ যৌনাঙ্গ জল দিয়ে ধোওয়া উচিৎ। ছেলেদের উচিৎ প্রত্যহ স্নানের সময় লিঙ্গ পরিষ্কার করা। লিঙ্গমুন্ড যেখানে বাকী লিঙ্গের সাথে যুক্ত থাকে সেই স্থানে এক প্রকার সাদাটে পদার্থ (স্মেগমা – smegma) জমা হয়। বিশেষত যাদের লিঙ্গাগ্রচর্ম (foreskin) বিদ্যমান, অর্থাৎ যাদের সুন্নৎ করা হয়নি তাদের অতি অবশ্যই প্রত্যহ স্নানের সময় foreskin একটু পেছনে টেনে নিয়ে কেবল জল দিয়ে ওই সাদাটে পদার্থ পরিষ্কার করা উচিৎ। এমনকি সুন্নৎ করা থাকলেও জল দিয়ে প্রত্যহ লিঙ্গমুন্ড ধোওয়া উচিৎ। কিন্তু লিঙ্গমুন্ডে কখনোই সাবান লাগানো ঠিক নয়, তাতে ওই অঞ্চলের সংবেদনশীল ত্বক ড্রাই হয়ে ফেটে যেতে পারে এবং জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মেয়েদেরও বাইরের যৌনাঙ্গ যেমন ক্লিটোরিস, ভালভা বা যোনিদ্বারসমূহ ও মূত্রছিদ্রের আশেপাশের অঞ্চল নিয়মিত পরিষ্কার জল দিয়ে ধুতে হবে (সাবান না ব্যবহার করাই ভাল)। মেয়েদের ক্ষেত্রেও ক্লিটোরিস ও ক্ষুদ্রোষ্ঠের (labia minora) চারপাশে স্মেগমা জমতে পারে যা জল দিয়ে নিয়মিত ধুয়ে ফেলতে হয়। তাই বলে পরিষ্কার করার সময় বেশি বলপ্রয়োগ একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে যোনির ভেতরে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করাই ভাল, যোনি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখতে সক্ষম। ছেলে-মেয়ে উভয়েরই মলদ্বার সংলগ্ন অঞ্চলও প্রত্যহ পরিষ্কার করতে হয়, তবে এখানেও সাবান ব্যবহার যতটা সম্ভব কম করা যায় ততই ভাল। মলদ্বারের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাই অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে তা ড্রাই হয়ে ফেটে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। মলদ্বারের ভেতরেও অহেতুক কোন কিছু প্রবেশ করানো অনুচিৎ। তবে যৌনাঙ্গ (লিঙ্গমুন্ড, যোনি, যোনিদ্বার, ক্ষুদ্রোষ্ঠো, ক্লিটোরিস) ও মলদ্বারের সংবেদনশীল বিশেষ অঞ্চল ছাড়া বাকি স্থানে সাবান ব্যবহারে কোন বাধা নেই।

 

নারীদের যৌনাঙ্গ সুন্দর রাখার উপায় কি? জেনে নিন

নিয়মিত লক্ষ্য রাখতে হবে যে যৌনাঙ্গে কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে কিনা। যেমন যৌনাঙ্গ থেকে হঠাৎ কোন দূর্গন্ধ বের হলে বা পূঁজ বা বাজে গন্ধযুক্ত রস বের হলে তা সংক্রমণের লক্ষণ। এছাড়া যদি মূত্রের এবং বীর্যের স্বাভাবিক রঙ বা গন্ধে কোন আকস্মিক পরিবর্তন হয় তবে সেটাও কোন অসুখের লক্ষণ। এমতাবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখানো উচিৎ। ছেলেদের ক্ষেত্রে ইউরোলজিস্ট ও মেয়েদের ক্ষেত্রে স্ত্রী-রোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সুস্থ যৌন জীবনের অপর একটি চাবিকাঠি হল যৌনরোগের সংক্রমণ রোধ করা। তাই সঙ্গমের সময় কনডম ব্যবহার করা একটা ভাল অভ্যাস। একাধিক যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনী না রাখাই ভাল। নতুন কোন সঙ্গি বা সঙ্গিনীর সাথে সঙ্গমের পূর্বে তার মেডিক্যাল ইতিহাস জেনে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ যে তার লুকোনো যৌনরোগ নেই। মনে রাখবে “He/She may look clean, but is He/She really clean?” যৌনরোগ নিরসন করাও যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার একটি অঙ্গ।

যৌন জীবন সুখকর করতে “কেগেল এক্সারসাইজ” উপকারী। এই এক্সারসাইজের মাধ্যমে বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আয়ত্ব করা যায়। শুধু তাই নয় কেগেলে এক্সারসাইজ করলে উত্তেজিত লিঙ্গের দৈর্ঘ্য সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং উত্তেজনা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। মেয়েরাও কেগেল এক্সারসাইজের মাধ্যমে নিজেদের যোনির দেওয়ালের পেশির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে, যাতে যৌনসঙ্গমের সময় লিঙ্গের উপর পর্যায়ক্রমে চাপ বৃদ্ধি এবং হ্রাস করে যৌনসঙ্গমের অনুভূতিকে আরও মধূর করা সম্ভব হয়। যৌনাঙ্গ পরিচর্যা করার অন্যতম উপায় “কেগেল এক্সারসাইজ” সম্মন্ধে বিশদে জানতে এই পোস্ট দেখ।

অনেকের ধারণা যে যৌনকেশ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ, তাই নিয়মিত যৌনকেশ কাটা উচিৎ। কিন্তু এই ধারণা একদম ঠিক নয়। যৌনকেশের উপস্থিতি যৌনাঙ্গকে নোংরা করেনা, বা যৌনাঙ্গে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেনা। নিয়মিত স্নানের সময় জল (প্রয়োজন হলে মাইল্ড সাবান যার pH 7) দিয়ে যৌনকেশ পরিষ্কার করলে তার থেকে কোন সমস্যা হয়না। তবে অনেকে ফ্যাশন করার জন্য যৌনকেশ কাটতে পছন্দ করে। মেয়েদের আবার পিরিওডের সময় রক্ত যৌনকেশে লেগে যায়, সেটার হাত থেকে রেহাই পেতেও অনেকে নিয়মিত যৌনকেশ কেটে বা কামিয়ে ফেলে। যৌনকেশ ছাঁটার বা কামিয়ে ফেলার উপযোগী বিভিন্ন যন্ত্র বাজারে পাওয়া যায়। নিজের পছন্দমত যেকোন একটি ব্যবহার করা যেতে পারে। যৌনকেশ কামিয়ে নিতে হলে তার জন্যে রয়েছে রেজার বা ইলেকট্রিক শেভিং মেশিন। বিশেষ ধরনের hair removing cream -ও এই উদ্দেশ্য খুব ভাল কাজ করে। Waxing করাও সম্ভব। বেশি টাকা থাকলে লেজার ট্রিটমেন্ট বা ইলেকট্রোলাইসিস করে যৌনকেশ চিরতরে কামিয়ে ফেলা যায়। তবে কেউ যদি কামানোর থেকে ট্রিমিং করা বেশি পছন্দ করে সেক্ষেত্রে রয়েছে ট্রিমিং মেশিন বা কাঁচি। তবে নিয়মিত সেভিং মেশিন বা রেজার দিয়ে যৌনকেশ কামালে বা Waxing করলে ওই অঞ্চলের ত্বকের রঙ গাঢ় হতে পারে ও চুলকানি বা ফলিকিউলাইটিস হতে পারে। তাই কিছু বিশেষ দিনে উপলক্ষ্যে যৌনকেশ কামিয়ে নিলেও নিয়মিত (regular purpose) ট্রিমিং করাই (ছোটো করে ছেঁটে নেওয়া) ভাল।

নারীদের যৌনাঙ্গের ভিতর আঙ্গুল দেয়া কি ঠিক? জানুন এখান থেকে

শরীরের বাকি যেসমস্ত যৌনাঙ্গ , যেমন স্তন, নিতম্ব ইত্যাদি যাদের যৌন ক্রিয়ায় ভূমিকা রয়েছে সে সব পরিচর্যার উপায় স্বাভাবিক শরীর পরচর্যার মতই। তাই সেসমন্ধে অধিক আলোচনা নিস্প্রয়োজন। শুধু মহিলাদের এটা খেয়াল রাখতে হবে যে তাদের স্তনে কোন রকম অস্বাভাবিকত্ব হচ্ছে কিনা। যেমন স্তনের ভেতরে কোন ডেলা বা পিণ্ডের (lumps) মত কিছু হয়েছে মনে হলে তৎক্ষণাৎ স্ত্রী-রোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

আমার

আমার শিক্ষিকাকে আমার খুব ভালো লাগত, তাই আমি উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর …

One comment