cool hit counter

ছয় মাস ধরে স্ত্রীর পিরিওড হচ্ছেনা, কি করা উচিৎ?

প্রশ্নঃ ভাইয়া, আমি একটা বড় সমস্যায় আছি। আমার স্ত্রীর গত ৬ মাস ধরে কোন  পিরিওড / মেন্স/মাসিক হচ্ছে না। আবার প্রেগনেন্সি টেস্ট দ্বারা গর্ভবতী হওয়ারও কোন লক্ষণ পাচ্ছিনা। বিয়ে করছি ৯ মাস হয়ছে। বিয়ের পর থেকে কোন পিল ইউজ করিনি। আমি বিয়ে করার আগে আরেক জায়গায় তার বিয়ে হয়ছিল। সেখানে ৬ মাস ছিল। সেখানে মাঝে মাঝে ফেমিকন পিল খেত। এমন অবস্থায় কি করতে পারি? আসলে তেমন কোন সেইভ টাকা না থাকায় এখন পর্যন্ত কোন ডাক্তার দেখাইনি। এমন সংকট অবস্থায় আপনার কাছে সঠিক সমাধান চাচ্ছি। লজ্জা ভেঙ্গে নিজের সব কথায় বলছি। এবার বাকিটা আপনার উপর। প্লিস একটু বিস্তারিত বলবেন।

পিরিওড

প্রেগন্যান্সি ছাড়াও পিরিওড দেরিতে বা মিস হওয়ার অন্যতম ১০ টি কারণ জেনে নিন

উঃ প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ। গত ৬ মাস ধরে পিরিওড না হবার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। উপযুক্ত পরীক্ষা না করে এটা বলা সম্ভব নয় ঠিক কি কারণে আপনার স্ত্রীর পিরিয়ড বন্ধ আছে। গর্ভনিরোধোক বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলে অনেকের পিরিয়ড স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু আপনার স্ত্রী অন্তত ৯ মাস আগে থেকেই পিল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তাই এখনো পিরিয়ড স্বাভাবিক না হওয়াটা চিন্তার বিষয়। আপনার বিয়ে হয়েছে ৯ মাস, আর পিরিওড বন্ধ গত ৬ মাস ধরে। তার মানে ধরে নিচ্ছি যে বিয়ের পর প্রথম তিনমাস স্বাভাবিক Period হয়েছে। অতএব এটা বোঝা যাচ্ছে যে আপনার স্ত্রীর পিরিওড বন্ধের জন্য (আপনার সাথে বিয়ের পূর্বে খাওয়া) ফেমিকন দায়ী নয়।

আপনার স্ত্রীর বয়স কত? তার বয়স কি মেনোপজের বয়সের (মোটামুটি চল্লিশ বছর) কাছাকাছি? তাহলে মেনোপজের (রজোনিবৃত্তি) জন্য পিরিওড বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি কিভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করেছিলেন? মনে রাখবেন বাড়িতে প্রস্রাব ব্যবহার করে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে সকালের প্রথম প্রস্রাব ব্যবহার করা উচিৎ। রক্ত পরীক্ষা করে রক্তে hCG হরমোনের মাত্রা মেপে দেখতে পারেন। অনেক সময় কিছু বিশেষ কারণে প্রস্রাব পরীক্ষা করে প্রেগন্যান্সি বোঝা যায়না। তবে আপনার স্ত্রী ৫-৬ মাসের প্রেগন্যান্ট হলে এতদিনে বিভিন্ন বাহ্যিক লক্ষণ (ওঅজন বৃদ্ধি, স্তন ভারী হওয়া, পেট-তলপেটের আয়তন বৃদ্ধি ইত্যাদি) দেখা যেত।

এছাড়াও পিরিওড না হবার আরও কয়েকটি কারণ হল –

১. খুব বেশি ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস এবং অতিরিক্ত এক্সারসাইজঃ অতিরিক্ত অনুশীলন (এক্সারসাইজ) এবং খুব বেশি ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে শরীরে হরমোন ক্ষরণের মাত্রার তারতম্য ঘটে, যার ফলে পিরিওড দেরি বা মিস হতে পারে। এটা এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ। কারণ খুব বেশি ওজন বৃদ্ধি পেলে বা কমে গেলে বা অতিরিক্ত এক্সারসাইজ করলে সেটা গর্ভধারণের জন্য সঠিক অবস্থা নয় – তাতে গর্ভস্থ ভ্রূণ এবং গর্ভবতী দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে। তাই শরীর নিজে থেকেই গর্ভধারনের সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার জন্য ওভিউলেশন (ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গমন) বন্ধ করে দেয় যার ফলে Period দেরি বা মিস হয়। দৌড়বিদ, সাতারু প্রমূখের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই একই কারণে পিরিওড দেরি বা মিস হয়। আপনার স্ত্রীর কি বিয়ের পর খুব বেশি ওজন বেড়েছে বা কমেছে?

২. মানসিক চাপঃ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চল পিরিওডের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অতিরিক্ত মানসিক চাপে হাইপোথ্যালামাসের এই কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়, যার ফলে মাসিকদেরি বা মিস হয়। অতএব যদি আপনার স্ত্রী ডিভোর্স, আবার বিয়ে ইত্যাদি নিয়ে বা অন্য কোন কারণে খুব মানসিক চাপে থাকেন তাহলেও স্বাভাবিক পিরিওড না হতে পারে।

৩. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (Polycystic ovary syndrome – PCOS)– মেয়েদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকার কারণে যে লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায় তাদেরকেই একত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বলে। এই রোগের অন্যতম লক্ষণ হল অনিয়মিত পিরিওড। এমনকি মাসিক পুরো বন্ধ হয়েও যেতে পারে। এছাড়াও PCOS এর অন্যান্য লক্ষণসমূহ হল মুখে এবং গায়ে অতিরিক্ত লোম, ব্রন, তলপেট ব্যাথা, গর্ভধারণে সমস্যা, ওজন কমাতে সমস্যা। আবার খুব বেশি রজস্রাবও হতে পারে। অনেকের আবার ওভারিতে সিস্ট (ছোট্ট তরল ভর্তি থলে) হয়। PCOS -এর কারণ সঠিক জানা যায় নি, তবে গবেষকদের অনুমান এটা অনেকটাই জেনেটিক ব্যাপার। PCOS -এর ফলেও পিরিওড দেরি বা মিস হতে পারে। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন যে তার পিরিওড কি সবসময় (বিয়ের আগে) নিয়মিত হত কিনা। এই রোগে প্রায়শই মাসের পর মাস পিরিওড হয়না।

৪. থাইরয়েডের সমস্যাঃ থাইরয়েড হল গলাতে অবস্থিত একটি অন্তক্ষরা গ্রন্তি যেখান থেকে থাইরয়েড হরমোন ক্ষরিত হয়। এই গ্রন্থির কোন সমস্যা হলে থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। এমতাবস্থায় পিরিওড দেরি বা মিস হওয়া সম্ভব। থাইরয়েড সমস্যার আরও কয়েকটি লক্ষণ হল অবসাদ, অতিরিক্ত চুল ওঠা, ওজন বৃদ্ধি এবং সবসময় ঠান্ডা লাগছে মনে হওয়া।

৫. দৈনিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তনঃ ভ্রমণ, কাজের সময়ের পরিবর্তন, বিয়ে ইত্যাদির মাধ্যমে যদি দৈনিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ঘটে তাহলেও পিরিওড দেরি বা মিস হতে পারে। তবে এটা স্বল্পস্থায়ী ব্যাপার যাতে কোন ক্ষতি হয় না। এছাড়া নতুন কোন ঔষধ খেতে শুরু করলেও পিরিয়ড দেরি বা মিস হতে পারে। আপনর স্ত্রী কি কোন ঔষধ খায়?

৬. জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিঃ কিছু কিছু জন্মনিয়ন্ত্রক পদ্ধতি যেমন পিল, IUD ইত্যাদির প্রভাবেও পিরিওড দেরি বা মিস হতে পারে। আবার হঠাৎ করে ওইসব জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার বন্ধ করলেও স্বাভাবিক পিরিয়ড ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে জন্ম নিয়ন্ত্রক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে যদি পিরিয়ড দেরি বা মিস হয় তবে সেটা চিন্তার কোন কারণ নয়। আপনার স্ত্রী কি ইনট্রা-ইউটেরাইন-ডিভাইস ব্যবহার করেন?

৭. অসুস্থতাঃ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরলে বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার জন্যেও অনেক সময় পিরিওড অনিয়মিত হতে পারে। আপনার স্ত্রীর শরীরে কি অন্য কোন অসুখের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে?

উপরের কারণ ছাড়াও পিরিওড দেরি বা মিস হবার আরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন, ড্রাগ সেবন করা, পর্যাপ্ত পৌষ্টিক দ্রব্যের অভাব, ডিম্বাশয় বা মস্তিষ্কে টিউমার, ক্যান্সার, রক্তাল্পতা ইত্যাদি। অতএব বুঝতেই পারছেন উপযুক্ত পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয় ঠিক কি কারণে গত ৬ মাস ধরে আপনার স্ত্রীর পিরিওড হচ্ছেনা। তাই আপনার কাছে অনুরোধ আপনার স্ত্রীকে কোন স্ত্রী-রোগবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। উনি কিছু পরীক্ষা যেমন রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসোনোগ্রাফি, শারীরিক পরীক্ষা ইত্যাদি করলেই বুঝতে পারবেন ঠিক কি হয়েছে। ডাক্তার দেখাতে বা এইসব পরীক্ষা করতে খুব বেশি খরচ হবেনা। আপনি কোথায় থাকেন এবং সেখানে ডাক্তার দেখানো ও পরীক্ষা করানোর খরচ কেমন সেটা আমরা জানিনা। তবে মনে হয়না এতে ৫ থেকে ৬ হাজারের বেশি খরচা হবে। শুভেচ্ছা রইল।

নারীদের পিরিওড সংক্রান্ত পোষ্টগুলো এখানে

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।