cool hit counter
Home / Beauty Tips / ফুল কভারেজ ফাউনডেশন রুটিন

ফুল কভারেজ ফাউনডেশন রুটিন

যারা নতুন নতুন মেকাপ করা শুরু করেছেন তারা প্রায়ই ইউটিউবে এবং বিভিন্ন বিউটি ব্লগারদের ব্লগে বা আর্টিকেলে পড়ে থাকবেন ফুল কভারেজ ফাউনডেশন সম্পর্কে। বেশিরভাগ ফুল কভারেজ ফাউনডেশন টিউটোরিয়াল আসলে খুব সহজ করে তৈরি করা হয় এবং ফাউনডেশন রুটিনটা দেখানো হয় ধাপে ধাপে কারণ মেকাপ এক্সপার্টরাও জানেন যে ফুল কভারেজ ফাউনডেশন রুটিন টিউটোরিয়ালের ভিউয়ারদের শতকরা ৮০ ভাগই বিগিনার। অনেকেই মনে করেন যে ফুল কভারেজ ফাউনডেশন ব্যবহার করলে আর অন্য কোনও প্রোডাক্ট যেমন প্রাইমার বা কন্সিলার ব্যবহার করা লাগেনা। এটা পুরোপুরি সত্যি নয়। ফুল কভারেজ ফাউনডেশনের মূল সুবিধা হচ্ছে যে যাদের ডিসকালারেশন , আন-ইভেন স্কিনটোন , রেডনেস আছে , তাদের জন্য খুবই ভালো কভারেজ দেয় এই ধরনের ফাউনডেশন। মনে রাখতে হবে যে শুধু ফাউনডেশনের ব্যবহারে ব্লেমিশ কভার করা নয় বরং প্রাইমার> কন্সিলার > ফাউনডেশন > পাউডার এর সম্পূর্ণ রুটিন যা আপনার আন-ইভেন স্কিন-টোনকে কন্সিল করবে এবং ব্লেমিশের জন্য প্রয়োজনীয় কভারেজ দিবে সেটাই হল ফুল কভারেজ ফাউনডেশন রুটিন।

ফাউনডেশন

আসুন জেনে নিই ধাপে ধাপে ফুল কভারেজ ফাউনডেশন রুটিন সম্পর্কেঃ

১. ফেস ক্লিনজিং এবং ময়েশ্চারাইজিংঃ
সবচেয়ে প্রথম ধাপ হল মুখটা ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেয়া। এক্ষেত্রে আপনি আপনার রেগুলার ফেস-ওয়াস ব্যবহার করতে পারেন বা একটা ভালো দেখে ক্লিঞ্জিং মিল্কও ব্যবহার করতে পারেন। মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ করে নিবেন বিশেষ করে যাদের স্কিন খুবই ড্রাই বা শুষ্ক ধরনের তারা অবশ্যই মেকাপ রুটিন শুরু করার আগে মুখটিকে ভালো ভাবে ময়েশ্চারাইজ করে নিবেন।

আপনি আপনার পছন্দমত যেকোনো ক্লিনজিং মিল্ক যা আপনার স্কিনে খুব ভালো স্যুট করে ব্যবহার করতে পারেন। আলফা এইচ এর মাইক্রো ক্লিনজ , ডিক্লিইয়র হাইড্রা রেডিয়েন্স স্মুথিং ক্লিনজিং মুজ , ইভা লুম ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন।

২. প্রাইমারঃ

ফাউনডেশন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ভালো একটা প্রাইমার ব্যবহার করে নিবেন। এ ধাপটি অনেকেই এড়িয়ে যান তবে এটিও কিন্তু আসলে ফাউনডেশন, পাউডার বা অন্যান্য প্রোডাক্টের মতই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ কেননা প্রাইমার আপনার মেকাপের বেজ হিসেবে কাজ করে, মেকাপটিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। প্রচলিত প্রাইমারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হল ম্যাক এর প্রেপ এন্ড প্রাইম। এছাড়া , এনওয়াইএক্স এর স্মাশবক্স ফটো ফিনিশ প্রাইমার , বেনিফিটের পোর ফেশনাল প্রাইমার ( এটি আপনার পোরসগুলোকে কম দেখাবে ), ল’রিয়েল প্যারিস এর লুমি ম্যাজিক , ক্লিনিকের সুপার প্রাইমার কালার কারেক্টর , মেইবিলিন বা এলফ এর প্রাইমার ব্যবহার করে দেখতে পারেন ।

প্রাইমার খুবই অল্প পরিমাণে নিবেন এবং পুরো মুখে মাসাজ করে লাগিয়ে নিবেন যেভাবে আপনি ময়েশ্চারাইজার লাগান।

৩. ফাউনডেশনঃ

অনেকেই প্রাইমারের পরে আগে কন্সিলার লাগিয়ে নেন এবং তারপর ফাউনডেশন ব্যবহার করেন । তবে , আপনি যখন একটি ফুল কভারেজ ফাউনডেশন ব্যবহার করবেন , তখন আপনার ব্লেমিশ , রেডনেস , আন-ইভেন স্কিন-টোন, ডিস-কালারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কভারেজ আপনি আপনার ফাউনডেশন থেকেই পাবেন আর তাই এক্ষেত্রে আগে ফাউনডেশন ব্যবহার করতে হবে এবং তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী বা হাইলাইটের জন্য কন্সিলার ব্যবহার করতে পারেন।

ফুল কভারেজ ফাউনডেশনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ফাউনডেশন হল- রেভলন কালার স্টে, এসটি লওডার এর ডাবল উইয়ার স্টে ইন প্লেস, কভার এফ এক্স নাচারাল ফিনিশ , নিউট্রজিনা হেলদি স্কিন ,ক্লিনিক এর পোর রিফাইনিং সলিউশনস ইনস্ট্যান্ট পারফেক্টিং , ম্যাক্স ফ্যাক্টর অল ডে ফ্ললেস থ্রি ইন ওয়ান , ববি ব্রাউন লং উইয়ার ইভেন ফিনিশ , ম্যাক এর প্র লং উইয়ার ইত্যাদি।

ফাউনডেশন অ্যাপ্লাই করার জন্য বিউটি ব্লেন্ডার, সিগমা বা রিয়েল টেকটিক এর ফাউনডেশন ব্রাশ অথবা ফিঙ্গার টিপস এর সাহায্যে ট্যাপিং মোশনে বা চেপে চেপে ফাউনডেশন অ্যাপ্লাই করুন। ফাউনডেশন লাগানোর সময় ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে এমন ভাবে ঘষবেন না যাতে ফাউনডেশন মুছে যায় বরং ফিঙ্গার টিপস এর সাহায্যে এমন ভাবে চেপে চেপে অ্যাাপ্লাই করুন যাতে ফাউনডেশনটা সেট হয়ে যায়।

৪. কন্সিলারঃ

ফুল কভারেজ ফাউনডেশন ব্যবহারের ফলে আপনার স্কিনে ডিস-কালারেশন, পিম্পলের দাগ বা রেডনেস থাকলে, সেটার কভারেজ আপনি আপনার ফুল কভারেজ ফাউনডেশন থেকেই পাবেন। এরপরও যদি মনে হয় যেকোনও ফ্ল কভার করা হয়নি বা আন্ডার আই এরিয়া , আন্ডার আই ব্র এরিয়া , আপার আই ব্র এরিয়া হাইলাইট করার জন্য কন্সিলার ব্যবহার করতে পারেন।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কন্সিলারগুলোর মধ্যে কভারেজ প্রোপার্টিজের দিক দিয়ে ম্যাক এর প্র লং উইয়ার কন্সিলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোডাক্ট। এছাড়া আপনি আপনার পছন্দমতো যেকোনো কন্সিলার যা আপনার স্কিনে স্যুট করে যেমন মেইবিলিন এর কভার স্টিক , ববি ব্রাউন ক্রিমি কন্সিলার , সুয়ে ডেভিটের অটোমেটিক ক্যামোফ্লাজ ব্যবহার করতে পারেন।

৫. সেটিং পাউডারঃ

সবশেষে আপনার ফাউনডেশনটিকে একটি হাই ডেফিনেশন লুজ পাউডার বা Translucent পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন নারস এর পাউডার ফাউনডেশন , ডিওর এর ফরেভার স্কিন পাউডার , লওরা মারসিয়ার এর Translucent লুজ সেটিং পাউডার, সেফরার Translucent লুজ সেটিং পাউডার অথবা আপনার কালেকশনের যেকোনো লুজ পাউডারই আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ফুল কভারেজ ফাউনডেশন লুক রেডি হয়ে গেছে। এটিকে আপনার পছন্দমতো কনটুরিং , ব্লাশার , হাইলাইট, আই মেকাপ এবং লিপস্টিক দিয়ে কমপ্লিমেন্ট করতে ভুলবেন না।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Check Also

বিউটি টিপস

মেয়েদের প্রয়োজনীয় কিছু বিউটি টিপস

প্রতিটি মানুষই নিজেকে অন্যদের কাছে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে চায় বিশেষ করে মেয়েরা তাদের বিউটি …