cool hit counter

একবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম, স্যারের কাছে তখন…

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/ আজকের প্রশ্নঃ একবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম, স্যারের কাছে তখন থেকেই আমার ইম্প্রেশন খারাপ…

আমার

আমি ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করি। তারপর একটি প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হই। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু হয়। আমি কয়েকমাস ক্লাস করার পর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। বাড়িতে চলে আসি। তারপর ২০১৩ সাল থেকে আবার ক্লাস শুরু করি নতুন করে। কিন্তু সে সময় কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ি। আমার পার্সেন্টেজ কম থাকায় আমাকে ফার্স্ট প্রফেশনাল পরীক্ষা দেওয়ার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয় না।

 

ছয় মাস ক্লাস, পরীক্ষা দেওয়ার পরেও আমাকে ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে আটকান হয়। ছয় মাস পর তারপরের পরীক্ষাতেও স্যার আমাকে বসতে দেননি। অন্য দুই ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লিয়ারেন্স আছে প্রথমবার থেকেই। ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্টে দেখা করলে স্যার শুধু বকাবকি আর গালাগালি করেন। স্যারের কথামতো সব পরীক্ষা দিয়েও বসার অনুমতি পাইনি। অন্য দুই ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুরোধ করা হলে, দুই ডিপার্টমেন্টের হেডের সঙ্গেই স্যার খারাপ ব্যবহার করেন। পরে আমাকে ডেকে নিয়ে বকাবকি করেন যে আমি অন্যকে দিয়ে সুপারিশ করাই কেন? পরিবার থেকে কথা বলেও লাভ হয়নি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি।

বলে রাখা ভালো যে, ২০১৩ সালে একবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম। স্যারের কাছে তখন থেকেই আমার ইম্প্রেশন খারাপ। কথায় কথায় স্যার এই আত্মহত্যার কথা বলেন, ডিপার্টমেন্টের অন্য স্যার-ম্যামদের কাছে এগুলো বলেন। পরে ওনারা আমাকে আবার জিজ্ঞেস করেন যে, আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলে কেন? তোমার মতো ছাত্রদের পড়াশোনা হবে না, ইত্যাদি।

আমি একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এতগুলা টাকা নষ্ট হলো, সঙ্গে আমার ক্যারিয়ার। পরিবার থেকে বলছে- আর চেষ্টা করার দরকার নেই, বাসায় চলে আসো। পরিবার থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছি, কিন্তু মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে গিয়েছি। অল্পতেই সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি, কারো সঙ্গে কথা বলতে গেলে মাথায় যন্ত্রণা হয়, কাউকে সহ্য করতে পারি না। মা আর বাবার সঙ্গে এত বাজেভাবে কথা বলি! পরে মাথা ঠাণ্ডা হলে খুব কষ্ট হয়, যন্ত্রণা হয়।

আমার বাবা সরকারি কর্মচারী। জায়গা বিক্রি করে আমাকে ভর্তি করিয়েছিলেন। টাকার কথা চিন্তা করলে মরে যেতে ইচ্ছা করে। বাবার এতগুলা টাকা শুধু শুধু নষ্ট করলাম, কোনো কাজে লাগল না। আমি এখন কী করব? আমার ভুল ছিল জানি। কিন্তু ভুল সংশোধনের কোন সুযোগ আমি পাইনি। অনুগ্রহ করে আমাকে একটি পথ দেখান, যাতে আমি তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বাবার এই টাকাটা তুলতে পারি।

হ্যাঁ আপু, মিথ্যা সান্ত্বনা দিব না, এটা সত্য যে ভুল আপনি করেছেন। এবং অনেক বড় বড় ভুল করেছেন। কিন্তু আপু, আপনার চিঠি পড়েই স্পষ্ট বুঝতে পারছি যে অনেক কিছুই আপনি লেখেন নি, গোপন করে গিয়েছে। সমস্ত সত্য না জানলে আসলে সঠিক পরামর্শ দেয়া যায় না। আপনি স্রেফ আত্মহত্যা করতে গিয়েছেন বলে একজন শিক্ষক আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেবেন, এটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়। আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা, আত্মহত্যার আগে পরে নিশ্চয়ই এমন কোন ঘটনা আছে যেগুলো আপনার শিক্ষাজীবন নষ্ট করার জন্য দায়ী এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে আপনার ইমেজ নষ্ট করার জন্যও দায়ী। আত্মহত্যা করতে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও ছোট কোন বিষয় নয়। যে কারণেই আপনি সুইসাইডের চেষ্টা করে থাকেন না কেন, এটা অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত ছিল যে বাবা জমি বিক্রি করে আপনাকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। এখন সেটা ভেবে কী লাভ বলুন।

আমার যৌন আনন্দ লাভের আগেই আমার স্বামীর বীর্য বের হয়ে যায় কি করা উচিৎ? পড়ুন বিস্তারিত

দেখুন আপু, জীবন এত সহজ জিনিস নয়, কোন সিনেমা নয় যে ৩/৪ বছরের মাঝে আপনি পিতার খরচ করা বিপুল অংকের টাকা তুলে আনতে পারবেন। আপনি যে দেরিতে হলেও বাবার কষ্টের কথা চিন্তা করেছেন, এটাই বড় কথা। এই মুহূর্তে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে কিছুই নেই, তাই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে প্রথমেই চিন্তা করুন কীভাবে নতুন করে লেখাপড়া শুরু করা যায়। আপনার ভাগ্য অসম্ভব ভালো যে এত চমৎকার একটি পরিবার পেয়েছেন, এত কিছুর পরও তাঁরা আপনাকে সাপোর্ট করছে। তাই যেভাবেই হোক লেখাপড়া শুরু করুন। প্রয়োজনে অন্য কোথাও, অন্য কিছুতে। একজন কাউন্সিলারের কাছেও যাবেন, নিয়মিত থেরাপি নেবেন। আপনার হতাশা কাটানোর জন্য এটা খুবই জরুরী। হতাশা কাটতে শুরু করলে জীবনেও নতুন পথে খুঁজে পাবেন। আজকাল অনেক ভালো ভালো বিষয়ে ডিপ্লোমা করে চট করে একটা কাজে ঢুকে যাওয়া যায়। আপনি বাইরে কোন ভার্সিটিতে আপ্লাই করার ট্রাইও করতে পারেন। স্কলারশিপ পেয়ে গেলে খুবই ভালো। নতুন করে নিজের জীবন আবার শুরু করতে পারেন। রাতারাতি ধনী হবার চিন্তা বাদ দিয়ে বরং নিজের জীবনটা গোছাতে শুরু করুন। আপনার মা বাবা সেটাতেই খুশি হবে।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।