cool hit counter
Home / প্রশ্ন ও উত্তর / দুই সন্তানের জননী মেজ আপু, অন্য ছেলেদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছে…

দুই সন্তানের জননী মেজ আপু, অন্য ছেলেদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছে…

আমরা ৪ বোন, দুই ভাই। বড় আপুর বিয়ে অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে (১৯৮৯ তে)। আমার বড় আপুর ২ মেয়ে, ২ ছেলে। উনার স্বামী একজন স্বার্থপর মানুষ। নিজের স্বার্থের জন্য আমার বাবার কাছ থেকে সব জমি নিয়ে গিয়েছে আর এখন উনি অনেক ধনী, আমাদের থেকে বেশি। আর আমরা ৩ বোন কিছুই পাইনি। আমার বড় দুই ভাই জমি পেয়েছে।

আপু

আমার মেঝো আপুর বিয়ে হয়েছে ২০০০ সালে। ওর স্বামী একটু লোভী কিন্তু বুঝতে দেয়না আমার আপু। আমার মেঝো আপুকে অনেক জ্বালিয়েছে। মেঝো আপুর ১ মেয়ে, ১ ছেলে। আমার বড় ভাইয়া ২০০৭ সালে বিয়ে করেছে কিন্তু ওর বউটা অনেক শয়তান। ভাবীর পরিবার গরীব বলে সে তার বাবার পরিবারে খরচ দেয় আর আমার ভাইয়াকে নিয়ে থাকে তার বাসায়। আমার ভাইয়াও কিছুই বলেনা ওর বউকে। কারণ আমার বড় ভাইয়াও এই জন্য অন্য মেয়েদের নিয়ে থাকে। আর আমার বাবার বাসায় আমার ছোট বোন একাই থাকে আর আমার মা বাবা গ্রামে থাকে । কারণ আমাদের ঢাকায়ও অনেক কিছু আছে, গ্রামেও আছে।

আপু, আমার মেঝো আপুর সাথে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ রিলেশন ছিলো। আমি সবসময় ওর সাথে সবকিছু শেয়ার করতাম। ও খুব ভালো ছিলো আর ওর শ্বশুর শাশুড়ির জন্য অনেক কিছু করেছে, সবার জন্যই করে। কিন্তু ওর একটা সমস্যা হচ্ছে ও সবার কথা সবাইকে বলে ঝগড়া বাধায়। আমাদের পরিবারে বেশি করে এটা সবার কাছে ভালো থাকার জন্য। আমি সবকিছুই বুঝতে পারি অনেক দিন পর। আমার পরিবারে সবার সাথে সবার ঝগড়া বাধায় ও। কিন্তু আমার আপু নিজের বাড়ী করার পর কেমন যেন একটু খারাপ পথে চলে গিয়েছে।

২০১৩ সাথে ওর বাড়িতে উঠেছে। তারপর ও ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে। এরপর থেকে ও কেমন যেন হয়ে যায়। হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে এবং ছেলেদের বাসায় আসতে বলে। ওর ছোট ছেলে নিজে দেখে এই ব্যাপারটা। ওর ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। একদিন ওর ছেলে আমার ছোট বোনকে সব বলে দেয় এবং এও বলে যে ওর মাকে ওর মা বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়না এবং আমাদের ধরিয়ে দিতে বলে। ও ওর বাবাকে বলে দিতে চায় কিন্তু ওকে মেজ আপু মারে, পরে ওকে লোভ দেখায়। আমি আগস্টে আপুর বাসায় যাই কদিন থাকবো বলে, কিন্তু ওর মন খারাপ হয়। পরে আমার চোখের আড়ালে ও এই কাজগুলো করে আমাকে অন্য বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে। ও রাতে করে এই কাজগুলো।

আপু ওর জন্য ধর্ম ত্যাগ করেছি আর ওর বন্ধুরা মিলে আমাকে… পড়ুন বিস্তারিত

পরে আমি আমার ছোট বোন আর মা কে জানাই। আপু ওর স্বামীর সাথে সবসময় ঝগড়া করে। ওর চলাফেরা এবং এলাকার কিছু বাজে মানুষের সাথে মেশা নিয়ে ওদের ঝগড়া হয়। আমি সমাধান দেই। কদিন পর আবারো ঝগড়া হয় এই কাজগুলো নিয়ে, ওর মেয়ে ছেলে আমাকে জানায়। ওর মেয়ে ক্লাস এইটে পড়ে। তারপর আমি কিছু না পেয়ে আমার ছোট বোনের সাথে কথা বলে তারপর মেজ আপুর স্বামীকে বলে দেই এবং উনিও আমাকে অনেক কিছু বলে। তাকে বলতে মানা করি কিন্তু সে ৩ দিন পর আমার মেজ আপুকে বলে দেয়। তারপর আমার মেজ আপু, আমার ছোট বোনকে কল করে অনেক বকাঝকা করে। তারপর আমাকে বকে কিন্তু আমি বকার আগেই ওর বাসা ছেড়ে আমার বাবার বাসায় চলে আসি। এখন আর ৩ মাস ওর সাথে কোন কথা হয়না।

আমরা ওর ভালো চাই কিন্তু সুযোগে আপুর হাজব্যান্ড, আপুর সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দিলো। এখন আমার আপু আমার বাবার বাসায় আসেনা, ওর ছেলে মেয়েকেও আসতে দেয়না। আর এখন আমার পরিবারের সবার কাছে আমার আর আমার ছোট বোনের নামে উলটা পালটা কথা বলে। এখন কী করা যায় আপু? আমরা ঝগড়া চাইনা। আমরা চাই আমার আপু ঠিক হয়ে যাক এবং আবার যেন সব ঠিক হয়ে যায়।

আপু এভাবেই আমি ওকে দিনের পর দিন… পড়ুন বিস্তারিত

উত্তরঃ দেখুন আপু, আমি যা বলবো সেটা আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। আপনার চিঠির অনেক কিছুই আমার অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে, কারণ লেখার শুরুতেই আপনি পরিবারের প্রতিটি মানুষের নামেই দুর্নাম করেছেন। বড় ভাই, ভাবী, বড় বোন, দুলা ভাই কাউকে বাদ দেন নি। ব্যাপারটি এমন যে পৃথিবীর সবাই খারাপ, যা কোনভাবেই সম্ভব না। তাই আপনার মেজ আপুকে নিয়ে যা লিখেছেন, সেটাও আমার অতিরঞ্জিতই মনে হচ্ছে। যেমন , আপনি লিখেছেন যে আপনার বোন রাতে এসব করে, অর্থাৎ অন্য ছেলেদের বাসায় আনে। প্রশ্ন হচ্ছে, রাতে যদি তিনি এসব করেন, তাহলে তাঁর স্বামী কই থাকে? রাতের বেলা যেহেতু, স্বামীর তো বাসায়ই থাকার কথা। তাই না? যদি স্বামী বাসায় না থাকেন, তাহলে রাতের বেলা থাকেন টা কই নিজের স্ত্রী পরিবার ফেলে?

একটি সোজা সাপটা কথা বলি, আপনি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতিটি জটিল করে তুলেছেন বেশি বুঝতে গিয়ে। দয়া করে আর করবেন না। আপনার এবং আপনার ছোট বোনের কোন অবস্থাতেই উচিত হয়নি মেজ বোনের দাম্পত্য জীবনে নাক গলানোর। আপনারা মেজ বোনের দোষটাই দেখছেন, তাঁর স্বামী হয়তো আরও বড় কুকর্ম করে থাকতে পারে সেটি আপনাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। পরকীয়া ১০০ ভাগ নিন্দনীয় একটি কাজ, কিন্তু সেই পরকীয়া আপনার বোন ও তাঁদের মধ্যেকার একান্তই ব্যক্তিগত একটি সমস্যা, যা তাঁরা প্রাইভেটলি মীমাংসা করবেন। ছোট বোন হয়ে এসবের মাঝে কথা বলতে যাওয়াটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সব দিক দিয়েই। এটা আপনার কথা বলার স্থান নয়।

আপনাদের উচিত ছিল বোনের বাচ্চাদের কথাগুলো আপনার মাকে জানানো। এবং মাকে দিয়ে বা বড় বোনকে দিয়ে মেজ বোনের সাথে গোপন আলোচনা করা যে তাঁর বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে। তাতে কাজ অলেও হতে পারত। আপনারা কথা বলায় ও তাঁর স্বামীর কাছে চুগলী করায় বোনের ইগো হার্ট হয়েছে, এখন তিনি আপনাদের কথা আর শুনবেন বলে মনে হয় না। আর যে মা পরকীয়ার জন্য ছেলেকে মারতে পারে, সে এটা নিয়েও চিন্তা করবে বলে মনে হয় না যে তাঁর কর্মে বাচ্চারা আঘাত পায়। এখন যা করার আপনার দুলাভাইকেই করতে হবে। আপনার মাকে দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলুন। চিৎকার আর মারামারি করে কখনো পরকীয়ার রাস্তা থেকে সইর‍্যে আনা যায় না। শাসনের সাথে সাথে ক্ষমা করার মানসিকতা ও আবারও ভালবাসতে পারাও জরুরী। তাছাড়া বোন দুলাভাই সংসার টিকিয়ে রাখতে চায় কিনা, সেই সিদ্ধান্তও তাঁদেরকেই নিতে হবে।

আবারও বলছি, ব্যাপারটা খুব স্পর্শকাতর। ছোটদের এটা থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

আমার

আমার শিক্ষিকাকে আমার খুব ভালো লাগত, তাই আমি উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর …