cool hit counter
Home / মা ও শিশুর যত্ন / শিশু মিথ্যা বললে প্রতিকারের উপায়

শিশু মিথ্যা বললে প্রতিকারের উপায়

বেশিরভাগ শিশু ই কোন না কোন ভাবে মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু যখন আপনি প্রথম আপনার সন্তানকে মিথ্যা বলতে শোনেন তখন আপনি খুবই বিস্মিত হন। সব পিতামাতাই চান তার সন্তান সত্য কথা বলুক। কী কারণে শিশুরা মিথ্যা বলে এবং কীভাবে তাদের সত্যি বলায় উদ্বুদ্ধ করা যায় সে সম্পর্কেই আজ জেনে নেই চলুন।

শিশু

শিশু মিথ্যা বললে কি করবেন?-

১। কোন কিছু ঢাকার জন্য যেনো সে সমস্যায় না পড়ে।

২। তারা মিথ্যা কথা বলছে এটা শোনার পর আপনি কি প্রতিক্রিয়া দেখান তা দেখার জন্য।

৩। নিজেদের গল্পকে আরো রোমাঞ্চকর করে তোলার জন্য অথবা নিজেদের সম্পর্কে আরো ভালো অবস্থান তৈরি করার জন্য।

৪। মনোযোগ আকর্ষণের জন্য যদিও সে জানে যে আপনি সত্যিটা জানেন।

৫। কোন কিছু পাওয়ার জন্য যেমন- দাদি বা নানিকে বলা যে, “মা আমাকে ডিনারের আগে ললি দেয়”।

কখন মিথ্যা বলা শুরু করে :

শিশু রা খুব ছোটবেলা থেকেই মিথ্যা বলা শুরু করে সাধারণত ৩ বছর বয়স থেকে। শিশু তখনই মিথ্যে বলা শুরু করে যখন সে বুঝতে পারে যে আপনি তার মন বুঝতে পারছেন না। ৪-৬ বছরের শিশু রাই বেশি মিথ্যে কথা বলে। শিশু র চেহারার অভিবেক্তি ও কণ্ঠস্বর শুনে আপনি বুঝতে পারবেন যে সে মিথ্যা কথা বলছে। শিশুর যখন স্কুলে যাওয়ার বয়স হয় তখন সে মিথ্যা বলায় পটু হয়। তখন এই মিথ্যা বলাটা আরো বেশি জটিল হয়ে উঠে কারণ সে অনেক বেশি কথা বলে এবং অন্যরা কী ভাববে তা সে বুঝতে পারে। ৮ বছর বয়সে শিশুরা সফলভাবেই মিথ্যা বলতে পারে যা অন্যরা ধরতে পারেনা।

সত্যি বলার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন যেভাবে :

শিশু যখন সত্যমিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারার মত বড় হয় তখন তাকে সত্য বলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা ও সহযোগিতা করা ভালো। আপনার পরিবারে সত্য বলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করুন এবং সত্য বলার জন্য আপনার সন্তানের প্রশংসা করুন। তাকে সততার বিষয়ে ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন এবং সে যখন মিথ্যা বলে তখন সেটা আপনি পছন্দ করেন না এটাও তাকে বলুন। আপনি আপনার সন্তানকে এই রকম কিছু বলার চেষ্টা করুন যে, “তুমি যখন আমাকে সত্যি কথা বলোনা তখন আমি খুব দুঃখ পাই এবং হতাশ হই”।

আপনার সন্তানকে সততা ও সত্য বলার জন্য উৎসাহিত করতে পারে এমন কিছু টিপস হচ্ছে :

যদি আপনার সন্তান কোন বিষয়ে গল্প তৈরি করে তাহলে তাকে বলতে পারেন, “এটা খুবই ভালো একটি গল্প হয়েছে, আমরা এটিকে বই আকারে প্রকাশ করতে পারি”। এর ফলে তার মধ্যে কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পাবে তবে মিথ্যাকে অনুৎসাহিত করে।
মিথ্যা বলার প্রয়োজন পড়ে এমন কোন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে সাহায্য করুন আপনার সন্তানকে যেমন- যদি আপনার সন্তানকে দেয়া দুধের গ্লাস থেকে দুধ চলকে পড়ে যায় তাহলে তাকে এবং তখন যদি আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন যে বাকি দুধ কোথায় গেল তখন সে মিথ্যা বলতে প্রলুব্ধ হতে পারে। এটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আপনি বলুন, এখানে দেখছি দুধের সঙ্গে একটা অঘটন ঘটে গেছে, চল পরিষ্কার করে ফেলি।
মানুষের শ্রদ্ধা বা সম্মান পাওয়ার গল্প আপনার সন্তানকে শোনান। যদি আপনার সন্তানের সাথে এমন কিছু ঘটে তাহলে তার প্রশংসা করুন। তাই যখন সে নতুন কিছু শিখে তখন তার আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।
আপনার পরিবারের গ্রহণযোগ্য আচরণের বিষয়ে নিয়ম নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করুন।
আপনার সন্তান যখন কোন ভুল করে তা স্বীকার করে তার জন্য তার প্রশংসা করুন। তাকে বলুন, “তুমি সত্যি কথাটা বলায় আমি সত্যিই খুব খুশি হয়েছি”।
আপনার সন্তানকে সততার মূল্য সম্পর্কে বুঝানোর জন্য গল্প বলুন বা গল্পের বই পড়ে শোনান যেমন- রাখাল ছেলের বাঘ নিয়ে মিথ্যা বলার গল্পটি শোনান।

 

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Check Also

বুকের দুধ

সবার সামনে বুকের দুধ খাওয়াবো না কেন?

শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই৷ অথচ সেই বুকের দুধ যদি কোনো মা তাঁর শিশুকে …