cool hit counter
Home / প্রশ্ন ও উত্তর / আমাকে ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইল করে বাচ্চা আবোরশন করানো হয়, ও বলে তুমি অনেক মোটা….

আমাকে ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইল করে বাচ্চা আবোরশন করানো হয়, ও বলে তুমি অনেক মোটা….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/ আজকের প্রশ্নঃ আমাকে ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইল করে বাচ্চা আবোরশন করানো হয়, ও বলে তুমি অনেক মোটা…

আমাকে
আমার বয়স ২৩ বছর। অনার্স কমপ্লিট করেছি। শুরু থেকে বলছি- আমার বাবা-মা উভয়ই চাকরিজীবী। আমি এবং আমার ছোট একটি ভাই আছে। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মাকে কাছে পাই নি, একা একা বড় হয়েছি। সেই শুন্যতায় একজনকে খুব ভালোবেসে ফেলি, পরিচয় হয় মোবাইলে। তখন কলেজে পড়ি। কিছুদিন পর আমরা দেখা করি বাসায়। আমার বাসায়। কারণ বাসায় কেউ থাকত না। আমার পরিবার আমার ছোটভাইকে সহ বেড়াতে গিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি ওকে বাসায় আসতে বলি। বলে রাখি আমার জীবনে ওই প্রথম মানুষ যাকে আমি ভালোবাসি। সেই ভরসায় বাসায় আসতে দিয়েছি। আমার সঙ্গে ওর শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং জীবনের প্রথম কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করে।

এর পর দুবছর এভাবে লুকিয়ে বাসায় আসতো। একদিন বাসায় ধরা খেয়ে যাই আম্মুর কাছে। তারপর আম্মু বলছে যে- বিয়ে করে ফেল। বলে রাখি- আমার বাবা হজ করে এসেছে। আমিও আমার জীবনের প্রথম পুরুষকেই বিয়ে করেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিয়ের আগেই ওর সঙ্গে কিছু মেয়ের প্রেম সম্পর্কে আমি প্রমাণ পাই। অনেকবার সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছি, কিন্তু ও কোনো না কোনোভাবে আমার মন নরম করে ফেলত। আমিও ভাবতাম ভালোবাসি। আর বিয়ের পরও সেও অনেকবার আমার কাছে প্রমাণসহ ধরা খেয়েছে। বিয়ের পর আমি অনেক মোটা হয়ে যাই, বিয়ের আগেও মোটা ছিলাম। এরমধ্যেই আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে বুঝ দিয়ে রীতিমতো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে বেবীটা আবোরশন হয়। আর ও ওর পরিবারের কাউকে আমাদের বিয়ে সম্পর্কে বলে নি। আমি যতবার বলাতে চেষ্টা করিয়েছি আমাকে বলে তুমি স্লিম হও, আর আমি নিজপায়ে দাঁড়িয়ে নিই। ওর বাবা মারা যাবার কিছুদিন পর আমার সঙ্গে ওর পরিচয় হয়েছিল। আমি ওকে অনেক সাপোর্ট করেছিলাম এবং করছি। প্রায় দুলাখ টাকার মতো নিয়েছে আমার থেকে। আমি ওকে জিনিষ পর্যন্ত কিনে দিয়েছি।

মাঝখানে দুবছর ওরসঙ্গে রাগ করে যোগা্যোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম, কারণ ওকে আমি রিচার্জ করে দিতাম কিন্তু ও আমার সঙ্গে কথা না বলে ফেসবুকে একটি মেয়ের সঙ্গে অশ্লীল চেটিং করতো। আমাকে ওর সেই আইডি সম্পর্কে একজন জানায়। আমি ওর অনেক পাসওয়ার্ড জানতাম। ভাগ্যক্রমে একটা দিতেই ইনবক্স এ দেখি ওর গোপনাঙ্গের ছবি ওই মেয়ের কাছে! আর ওই মেয়ের সমস্ত অঙ্গের ছবি ওর ইনবক্স এ! তারপর থেকে ওকে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিবার আমাকে বলেছে- আমার পড়াশোনা শেষ হলে পরে দিতে। যাহোক কিছুদিন আগে ও এসে আমাকে কনসিভ করানোর চেষ্টা করে, আমিও হয়ে যাই। কিন্তু আবার ওর সব কুকর্মের কথা মনে পড়ে যায়। আমি এই দুবছর কারো সঙ্গে সম্পর্ক করি নি। আমার ইচ্ছেও হয় নি। ওকে দেখলেই আমার মনে পড়ে আমার অ্যাব্রোশনের কথা।

ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ। ওর বাবা মারা যাবার পর ও ওর পরিবার চালায়। কিন্তু ওর বড়ভাই, একজন বড়বোন সংসারে কোনো খরচ দেয় না, তাঁদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও। আর আমার স্বামী পরিবারের জন্য পাগল। আমি ওকে এও বলছি যে আমাকে বাসায় নিয়ে যাও একসঙ্গে আয় করে দুজনে সংসার চালাব। ও বলে মা তোমাকে মেনে নেবে না, তুমি অনেক মোটা। আরো বলে যে- আমার মা মরে যাবে এটা ভেবে যে আমি চারবছর আগেই বিয়ে করেছি। এটা কোনো কথা আপু? আমার পরিবার ওর পরিবার থেকে অনেক বেশি সচ্ছল। আমার মা ওরসঙ্গে কথা বলেছে এবং অনেক আগেই ওর বাসায় জানাতে বলেছিল, ও বলে নি। ও বলে- আমার বড়ভাই বিয়ে করে নি, আমি কীভাবে বলি? এখন শেষ ঘটনা- কিছুদিন আগেও ওর আরও দুটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। আমি ওটা বললে- আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। বলে- পুরনো কথা নিয়ে পড়ে থেক না। ও নেশাও করে। এটা নিয়েও আমাদের ঝগড়া হয়। বলে হতাশায় খাই। টাকা হলে আর খাব না। আবার আমার বাসায় এসে মাফ চায়। আরও বলে- ‘আমি বিদেশ যাব, আমাকে টাকা দাও কিছু; তুমি আমি একসঙ্গে সুখে থাকব।’ যদি আমি বলি আমার আম্মু দেবেও, কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না- আমার কী করা উচিত?

প্রথমে বড় আপাকে, তারপর মেঝো আপা আর এখন আমাকে….পড়ুন বিস্তারিত

আমার মন বলে ওকে নিয়ে আমি সুখী হব না। ও আমাকে তখনই খোঁজে যখন ওর টাকা এবং শারীরিক সম্পর্কের প্রয়োজন পড়ে। আমাকে বলে- আমি অনেক ভুল করেছি, আমায় ক্ষমা করে দাও। বিদেশে গেলে টাকার সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে আমরা সুখী হব। কিন্তু আসলে ও আমার মন অনেকবার ভেঙেছে। ও কোনো ঈদ বা কোনো আনন্দের দিনে আমাকে কোথাও নিয়ে যায় না এবং উৎসব আসার আগেই ঝগড়া শুরু করে। তাই আমি অভিমান করে আর ঘুরতে যেতাম না। এখন আমি কী করবো? ডিভোর্স দিয়ে দেবো? নাকি টাকা দিয়ে দেখবো আমাকে সুখে রাখে কি না? কিন্তু আমার মন বলে ওরসঙ্গে আমি কোনোদিনই সুখী হব না। আপু আমায় বলেন আমি কী করবো? আমি আসলে মুক্তি চাই শান্তি চাই।

আপু, আপনি কই এখনো বুঝতে পারছেন না যে আপনি কেবলই একটা টিস্যু পেপার এই লোকের কাছে? সে আপনাকে কোনদিনও ভালবাসেনি। না, আপনার শরীরকেও না। সে মনে মনে চেয়েছে অন্য কিছু, অন্য কাউকে। তাঁদেরকে কাছে না পেয়ে আপনার শরীরকে ব্যবহার করেছে। আর আপনিও সেটা হতে দিয়েছেন।

নিজের সর্বনাশ যা করার করে ফেলেছেন আপু, এখন কেন মায়ের সর্বনাশ করবেন? কেন মায়ের টাকা এই নষ্ট ছেলেটাকে দেবেন? না ছেলেটি ভালো, না তার পরিবার। যে শাশুড়ি মোটা বলে পুত্রবধূকে গ্রহন করবেন না, কিংবা যে পরিবারের বৌ হবার জন্য আপনাকে স্লিম হতে হবে… সেখানে যে আপনি মোটেও ভালো থাকবেন না, সেটা বলে দেয়ার অপেক্ষা কি রাখে?

এখনো কিছু ফুরিয়ে যায়নি আপু, এখনো সময় আছে। ডিভোর্স দিয়ে দিন আর নিজের জীবনকে শুধরে নিন। একটা ভুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিন্তু নতুন কিছুর সূচনা করা যায় না আপু। মন শক্ত করুন। প্রথম ভালবাসাকেই স্বামী বানাতে হবে, এইসব অহেতুক আবেগ মনে রাখবেন না। স্বামী তাঁকেই বানাতে হবে যে আপনাকে রানী বানিয়ে রাখবে, এই ধরণের নিচ লোক যা কোনদিন পারবে না।

একবার নয়, দুইবার নয়, এভাবে বহুবার সে আমাকে ….. পড়ুন বিস্তারিত

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

বিশেষ দ্রষ্টব্য
আমি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা আইনজীবী নই। কেবলই একজন সাধারণ লেখক আমি, যিনি বন্ধুর মত সমস্যাটি শুনতে পারেন ও তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন। পরামর্শ গুলো কাউকে মানতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ যদি নতুন কোন দিক নির্দেশনা পান বা নিজের সমস্যাটি বলতে পেরে কারো মন হালকা লাগে, সেটুকুই আমাদের সার্থকতা

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

আমার

আমার শিক্ষিকাকে আমার খুব ভালো লাগত, তাই আমি উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর …