cool hit counter
Home / অজানা তথ্য / রমজান মাসে কি দিয়ে ইফতার করা সবচেয়ে উত্তম তা জেনে নিন

রমজান মাসে কি দিয়ে ইফতার করা সবচেয়ে উত্তম তা জেনে নিন

হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহর প্রিয়তম হাবিব হজরত মোহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, যখন রমজান মাস প্রবেশ করে তখন আকাশের দ্বারগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদের শিকলাবদ্ধ করা হয়। অন্য বর্ণনায় আছে, রহমতের দ্বারগুলো অবারিত করা হয় (মিশকাত শরিফ : ১৮৫৫)।এ মাসের প্রথম রাত থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন এ কথা বলে যে, হে কল্যাণ তালাশকারী সম্মুখে ‘অগ্রসর হও’ আর হে মন্দের অন্বেষণকারী ‘থেমে যাও’ (মিশকাত : ১৮৬৪)।

রমজান

রমজান  মাসে কি দিয়ে ইফতার করা সবচেয়ে উত্তম তা জেনে নিন

অথচ রমজান মাস এলেই ইবাদত-বন্দেগির চেয়ে আমরা খাবার আয়োজনে বেশি ব্যস্ত থাকি। ফলে রোজার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি। ইফতার এবং সেহরিতে বিশাল খাবারের আয়োজন না করে ইবাদতে মশগুল থাকলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টি আমাদের জন্য সবদিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান একটি সময়। নবীজীর (সা.) আশ্বাস অনুসারে স্রষ্টা এ সময় যেন তার রোজাদার বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন এবং তার একটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে তিনি কবুল করে নেন। আমরা ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখি নবীজীর (সা.) অভ্যাস ছিল শুধু খেজুর আর পানি খেয়ে রোজা ভঙ্গ করা এবং অতঃপর মাগরিবের নামাজ আদায় করা। মাগরিবের নামাজ পড়ে তারা একবারে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন।
ইফতার করার এই অভ্যাসটা যে কতটা বৈজ্ঞানিক-আমরা যদি দেখি যে এর লাভ কী? রোজা ভাঙতে প্রথমে খেজুর এবং পানি দেহে সুক্রোজ তৈরি করছে। ফলে মুহূর্তে তৃষ্ণা এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে। এরপর নামাজে যাচ্ছি। পাকস্থলী তখন সারাদিন বসে থাকার পর একটু কাজ পেয়ে সক্রিয় বা কর্মক্ষম হয়ে নিল। এরপর সে আরও বড় এবং কঠিন কাজের উপযোগী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেল। এবার আপনি রাতের খাবার গ্রহণ করুন। খাবারে পর্যাপ্ত মাছ-মাংস অর্থাৎ আমিষ থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই।

তাই ইফতার এ ভাজা-পোড়া না খেয়ে খেজুর ও পানি খেয়ে রোজা ভঙ্গ করুন এবং তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে নিন। সর্বোপরি রোজার আত্মিক-আধ্যাত্মিক প্রাপ্তিও নষ্ট হয়ে যায় এই ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে। কারণ নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘অতিরিক্ত পানাহার থেকে বিরত থাক। তা না হলে তোমার অন্তরতম সত্তার মৃত্যু ঘটবে’ : মুসলিম। অর্থাৎ মনোযোগটা যদি শুধু এরপর আর কী খাব-এ চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে তা হলে আমরা হয়তো আমাদের হূদয়ের সুকোমল অনুভূতিগুলোকেই হারিয়ে ফেলতে পারি। তাই ইফতারে স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত খাবার গ্রহণ করুন। পুরো রমজানে আপনি অত্যন্ত ঝরঝরে ও ফুরফুরে থাকবেন।

এ মাস ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হল জান্নাত। পারস্পরিক সহানুভূতির মাস হিসেবে রমজানের কোনো জুড়ি নেই। কেননা রোজার উপবাসের মধ্য দিয়ে ধনীরা ক্ষুধা-পিপাসা কাতর অভাবীর দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করতে সক্ষম হন। ফলে তারা এ মাসে ফকির-মিসকিনের প্রতি একটু বেশি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠেন। তাই তো দেখা যায়, প্রিয় নবী (সা.) এ মাসে প্রত্যেক বন্দিকে মুক্তি করে দিতেন এবং প্রত্যেক ভিক্ষুককে দান করতেন।

আল্লাহতায়াল বলেন, রমজান (এমন একটি মাস), যাতে কোরান নাজিল করা হয়েছে আর এই কোরান (হচ্ছে) মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সত্পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং (মানুষের জন্য হক বাতিলের) পার্থক্যকারী। তা ছাড়া এই মহান মাসের প্রথম রাতে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিমের (আ.) ওপর ছাইফাসমূহ অবতারিত হয়। তাওরাত নাজিল করা হয় ৭ রামদানে, ইনজিল অবতারিত হয় এই মাসের ১৪ তারিখে এবং জাবুর অবতারিত হয় অত্র মাসের ১৩ তারিখে।

বোখারি শরিফের ৬ নম্বর হাদিসটি হজরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) মানুষের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন এবং প্রিয় নবী (সা.) রমজান মাসে দানশীলতার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছতেন, যখন জিব্রাঈল (আ.) তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতেন। আর জিব্রাঈল (আ.) রমজানের প্রতি রাতেই আল্লাহর প্রিয়তম হাবিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতেন এবং তাকে কোরান শিক্ষা দিতেন। অবশ্যই আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Check Also

কুকুরের কামড়ে

কুকুরের কামড়ে পেটে কী আসলেই বাচ্চা হয়?

কুকুর নামটি শুনলেই আমাদের অনেকের মনে একটি বিশেষ ভীতি কাজ করে। ভীতির অন্যতম কারণ হচ্ছে …