cool hit counter
Home / Health Tips / লেজার হেয়ার রিম্যুভাল ট্রিটমেন্টের আগে আপনার যা করা উচিৎ জেনে নিন

লেজার হেয়ার রিম্যুভাল ট্রিটমেন্টের আগে আপনার যা করা উচিৎ জেনে নিন

লেজার একটি আক্ষরিক নাম। ইংরেজি অক্ষর LASER এর L হল Light, A হল Amplification, S হল Stimulated, E হল Emission, R হল Radiation; LASER এর পূর্ণ শব্দটি হল Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. অর্থাৎ উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধন। সাধারন আলোতে বিভিন্ন মাপের তরঙ্গ থাকে। একই বর্ণের আলোতে একই মাপের তরঙ্গ থাকলেও তারা বিভিন্ন তলে চলে। কিন্ত লেজারে সব তরঙ্গই হয় একই মাপের এবং তারা চলে একই তলে অর্থাৎ লেজার রশ্মি সংসক্ত। এ রশ্মি অত্যন্ত ঘন সংবদ্ধ একমুখী বলে তা অনেক পথ অতিক্রম করতে পারে এবং এরা মাত্র কয়েক মাইক্রন (১ মাইক্রন = ১০-৩ মি. মি.) চওড়া। এজন্য এতে প্রচণ্ড তাপশক্তি সঞ্চার করা সম্ভব হয় এবং তাপমাত্রা সূর্যের ওপরকার তাপমাত্রাও বেশি হয়। ফলে লেজার রশ্মি দিয়ে মানুষের একটা চুলকেও ছিদ্র করা সম্ভব।

লেজার

লেজার হেয়ার রিম্যুভাল ট্রিটমেন্টের আগে আপনার যা করা উচিৎ

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই তার শরীরের লোম থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে চায়, যাতে প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ওয়াক্সিং বা টুইজিং এর ব্যথা সহ্য করতে না হয়। শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করে ত্বক মসৃণ ও কমনীয় করতে লেজার রশ্মির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করার আগে আপনার কিছু বিষয় জেনে নেয়া প্রয়োজন যেমন-

 

১। একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ ডারমাটোলজিস্ট খুঁজে নিন

ভালো এবং স্বনামধন্য লেজার হেয়ার রিম্যুভাল ক্লিনিক বাছাই করুন। যোগ্যতাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত পেশাদার চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা করবেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন। যদি আপনি ক্লিনিকটির সম্পর্কে নিশ্চিত না হন তাহলে তাদের লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট দেখাতে বলুন। এগুলি সাধারণত ক্লিনিকে প্রদর্শন করা হয়, তাই ভালো করে দেখে নিন। আপনি ইন্টারনেট থেকেও ক্লিনিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সেখানে গ্রাহকদের পর্যালোচনা দেয়া থাকবে। সেগুলো পড়ে নিতে পারেন।

২। আপনার সন্দেহের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন

লেজার ট্রিটমেন্ট করার সময় ব্যথা পাওয়া যায় কিনা, পুড়ে যেতে পারে কিনা বা কোন ধরণের দাগ হবে কিনা- এই ধরণের আপনার মনে হতেই পারে। তাই আপনার ডারমাটোলজিস্টকে জিজ্ঞেস করুন। চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কেও তাকে জিজ্ঞেস করুন যেমন- কিভাবে করা হয়, কতক্ষণ লাগতে পারে, আপনাকে কতবার বা কতটি সেশনে অংশগ্রহণ করতে হবে, কেমন ফলাফল পাবেন, চিকিৎসার পর আপনার করনীয় কি, চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগে ও পরে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিতে হবে ইত্যাদি।

৩। প্যাচ টেস্ট

হেয়ার রিম্যুভাল ক্রিম ব্যবহার করার আগে যেভাবে ত্বকের সামান্য একটু জায়গায় ক্রিম লাগিয়ে আপনার ত্বকের সংবেদনশীলতা যেমন- র‍্যাশ বা লাল হয়ে যায় কিনা তা দেখার পরামর্শ দেয়া হয়। ঠিক তেমনি লেজারের মাধ্যমে হেয়ার রিম্যুভাল ট্রিটমেন্ট শুরু করার আগেও আপনার ত্বকের সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করার জন্য আপনার ডারমাটোলজিস্ট বা টেকনিশিয়ান আপনার ত্বকের প্যাচ টেস্ট করবেন। যদি না করা হয় তাহলে তাদেরকে বলুন এই টেস্টটি করতে।

৪। ত্বক পরীক্ষা

আপনার ত্বক ও চুলের ধরণ বুঝে ডারমাটোলজিস্ট আপনার লেজার ট্রিটমেন্টের পরিবর্তন বা সংশোধন করবেন। তাই চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে তারা আপনার ত্বক ও ত্বকের লোমের পরীক্ষা করছেন কিনা তার বিষয়ে নিশ্চিত হন।

৫। ফলোআপ

আপনার লেজার হেয়ার রিম্যুভাল চিকিৎসাটি তখনই কার্যকরী হবে যখন আপনি ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে সবগুলো সেশনে অংশ গ্রহণ করবেন। যদি আপনি রেশম কোমল ত্বক পেতে চান তাহলে আপনার ডারমাটোলজিস্ট নির্দেশিত সবগুলো সেশন সম্পন্ন করতে হবে।

৬। চিকিৎসাকালীন যত্ন

চিকিৎসাকালীন সবগুলো সেশনের মধ্যেই আপনার ত্বকের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ জেনে নিন ও মেনে চলুন এবং ত্বকের সুরক্ষার জন্য সঠিক কাপড় পরিধান করুন।

লেজার একটি স্পন্দিত আলোক রশ্মি যা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ত্বকের ভেতর দিয়ে চুলের গোড়ায় পৌঁছে যায় এবং এর তাপের ফলে হেয়ার ফলিকলকে নষ্ট করে দেয়। তাই ভবিষ্যতে সেই স্থানে পুনরায় চুল গজায়না। চুলের আকৃতির উপর নির্ভর করে একটি সেশনে ১০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত লাগতে পারে। একটি সেশনের পরে কয়েকদিন ত্বক সানবার্ন হলে যেমন দেখায় তেমন দেখাতে পারে ও তেমন অনুভব হতে পারে। ঠান্ডা চাপ এবং ময়েশ্চারাইজার যন্ত্রণা কমতে সাহায্য করতে পারে। কয়টি সেশন লাগতে পারে ও কতটুকু স্থানের হেয়ার রিম্যুভাল করাতে চান তার উপর চিকিৎসার ব্যয় নির্ভর করে।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

ডিম

ডিম কখনোই হাফ সিদ্ধ করে খাবেন না, কিন্তু কেন? দেখুন ভিডিওসহ

ডিম খেতে অনেকেই ভালবাসেন। কিন্তু যে জিনিস খেতে ভাল লাগে, তাতেই বিপত্তি। ডিমের বেলায়ও তাই। …