cool hit counter

শিউলি ফুল

ফুল হল পরিবর্তিত বিটপ। সপুষ্পক উদ্ভিদের যে রুপান্তরিত অংশ ফল ও বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবিস্তারে সাহায্য করে তাকে ফুল বলে। কান্ড , শাখা প্রশাখা শীর্ষে অথবা পাতার কক্ষে ফুল জন্মায়। ফুল উদ্ভিদের সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন অংশ। সমস্ত সপুষ্পক উদ্ভিদের ফুল ফোটে ও এরা উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

ফুল

শিউলি ফুল (বৈজ্ঞানিক নাম: Nyctanthes arbor-tristis) হচ্ছে নিক্টান্থেস (Nyctanthes) প্রজাতির একটি ফুল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল, ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয় এবং ১০ মিটারের মত লম্বা হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। সুগন্ধি জাতীয় এই ফুলে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা বৃতি ও মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্ত। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে।[১] এই ফুল শরৎকালে ফোটে। এর ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শরৎ ও হেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে থাকা শিউলি অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে।

 

বৈজ্ঞানিক নাম: Nyctanthes arbor-tristis
লাতিন Nyctanthes-এর অর্থ হচ্ছে “সন্ধ্যায় ফোটা” এবং arbor-tristis-এর মানে হচ্ছে “বিষণ্ন গাছ”। সন্ধ্যায় ফোটা আর সকালে ঝরা ফুলের মাঝে বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এই রকম নামকরণের কারণ বলে ধারণা করা হয়। শিউলিকে কখনও কখনও “tree of sorrow” বা “দুঃখের বৃক্ষ”-ও বলা হয় কারণ দিনের আলোতে এই ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।

শিউলিকে মাঝে মাঝে Nyctanthes arbortristis বা Nyctanthes arbor tristis নামেও উচ্চারণ করা হয়, যদিও সাধারণভাবে এটি শিউলি নামেই পরিচিত।

 

প্রচলিত নামঃ
Night-flowering Jasmine (নাইট ফ্লাওয়ার জেসমিন)
Harsingar (হারসিঙ্গার)
কোরাল জেসমিন
পারিজাত
শেফালিকা
পারিজাতা
পারিজাতাকা
রাগাপুস্পি
খারাপাত্রাকা
প্রজক্তা
এলাকা ভিত্তিক নামঃ
বাংলা ভাষায় – শিউলি বা শেফালি
সংস্কৃত ভাষায় – নালাকুমকুমাকা, হারসিঙ্গারাপুস্পক, সুকলাঙ্গি, রাজানিহাসা, মালিকা, অপরাজিতা, বিজয়া, নিসাহাসা, প্রহার্ষিনী, প্রভোলানালিকা, বাথারি, ভুথাকেশি, সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি।
তামিল ভাষায় – পাভাঝা মাল্লি বা পাভালা মাল্লি
ওড়িয়া ভাষায় – গঙ্গা শিউলি
মনিপুরী ভাষায় – সিঙ্গারেই
অসমিয়া ভাষায় – শেওয়ালি (শেৱালি)
প্রতীকঃ
শিউলি ফুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ[২] এবং থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি[৩], রাজ্য প্রতীক বা রাষ্ট্রীয় ফুল।

ব্যবহার[সম্পাদনা] এই ফুল হলুদ রঙ তৈরী করতে ব্যবহার করা যায়। এই ফুলের বোঁটা গুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে মেশালে চমৎকার রঙ হয়।

 

ঔষধবিজ্ঞানঃ
Immunostimulant, Hepatoprotective, antileishmanial, Antiviral এবং Antifungal ঔষধ গুলো তৈরি করতে শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।
এর পাতা sciatica, arthritis, fevers, নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার চিকিৎসার জন্যে ঔষধ বা বড়ির মত করে আয়ুর্বেদিক ঔষধ  তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসার জন্য শিউলির ব্যবহারঃ
পুরাণের কথাঃ

কৃষ্ণ শিউলি গাছ তুলে আনছে, ভাগবত পুরাণথেকে, চিত্রাঙ্কন, ১৫২৫-১৫৫০
শিউলির আরেক নাম পারিজাত! হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে অনেক বার এসেছে শিউলি ফুল বা পারিজাত এর কথা। [১২][১৩]

কৃষ্ণের দুই স্ত্রী- সত্যভামা ও রুক্মিণীর খুব ইচ্ছে তাদের বাগানও পারিজাতের ঘ্রাণে আমোদিত হোক। কিন্তু পারিজাত তো স্বর্গের শোভা! কৃষ্ণ স্ত্রীদের খুশি করতে চান। তাই লুকিয়ে স্বর্গের পারিজাত বৃক্ষ থেকে একটি ডাল ভেঙ্গে এনে সত্যভামার বাগানে রোপণ করেন, যার ফুল রুক্মিণীর বাগানেও ঝরে পরে সুগন্ধ ছড়ায়। এদিকে স্বর্গের রাজা ইন্দ্র তো ঘটনাটা জেনে খুব রেগে যান! তিনি বিষ্ণু অবতারের উপর গোপনে ক্রুদ্ধ ছিলেন। এই কারনে তিনি কৃষ্ণকে শাপ দেন কৃষ্ণের বাগানের পারিজাত বৃক্ষ ফুল দেবে ঠিকই কিন্তু ফল কোনদিন আসবে না, তার বীজে কখনও নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে না।
আরেকটি গল্পও আছে, এই ভেষজ বৃক্ষের!

হিন্দু দেবতার পূজোয় শিউলিই এমন ফুল যেটি মাটিতে ঝড়ে পরলেও তাকে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ উইকিপিডিযা

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।