cool hit counter
Home / সেক্স / স্ত্রীরাও ধর্ষণ করেন স্বামীদের! অসভ্য যৌন আক্রমণ,

স্ত্রীরাও ধর্ষণ করেন স্বামীদের! অসভ্য যৌন আক্রমণ,

ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে যৌনমিলন করাই হচ্চছ ধর্ষণ । ধর্ষণ একটি অসভ্য যৌন আচরণ। সহজভাবে বললে, অসভ্য যৌন আক্রমণ। ধর্ষণ এর সংজ্ঞাটিই ভীষণ পুরুষতান্ত্রিক। এই সংজ্ঞা যতদিন থাকবে, ততদিন কেবল নারীই ধর্ষিত হবে, অসম্মানিত হবে, অপমানিত হবে ও নির্যাতিত হবে। এই সংজ্ঞাই নারীকে সম্ভ্রমহানির গুহা থেকে বেরুতে দেয় না। এই সংজ্ঞায় যৌনতা ও যৌন আক্রমণের সকল ক্ষমতা চলে যায় পুরুষের কাছে। পুরুষ তখন ক্ষমতা ভেবে, আধিপত্য ভেবে আরও অধিক মাত্রা ও পরিমাণে ধর্ষণ করতে থাকে। অথচ বোকা নারীরা বোঝেন না, এই সংজ্ঞাটি মেনে নেওয়াই তাদের জন্য চরম অবমাননাকর।

 

ধর্ষণ

নারীরা ধর্ষণ করছে পুরুষদের

১৭ আগস্ট বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ফারজানা হুসাইনের লেখাটি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ফারজানার লেখাটি ভালো। ফারজানা গল্পে, তথ্যে, তত্ত্বে নারীরা কীভাবে নির্যাতিত, কীভাবে দাম্পত্য র্ধষণের শিকার তা তুলে ধরেছেন। কিন্তু ফারজানা, পুরুষেরাও তো নির্যাতনের শিকার, প্রতিদিন কোটি কোটি পুরুষ যে ধর্ষিত হয়ে, যৌনাঙ্গের ব্যথা নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তা কি শুনতে পান?

দিন বদলেছে। নতুন দিনে, নতুন ভাবে ভাবতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সমতার সমাজ ও পৃথিবী।বিশ্বাস করতে হবে উদারতায়, মানবতাবাদে। সমতায় বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি সকল মানুষই সমান। ফলে নারীর জন্য যা প্রযোজ্য, পুরুষের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না কেন? যৌন আক্রমণ ও নির্যাতনের কেবল নারীই শিকার, না পুরুষও এর শিকার? পুরুষেরাও যৌন আক্রমনের শিকার হন। যৌন হেনস্থা ও ধর্ষিত হন। ধর্ষণের মৌলিক জায়গা তো ‘অনিচ্ছা সঙ্গম’। কোনও পুরুষও যদি কোনও নারী কর্তৃক সঙ্গমে বাধ্য হন, নারী যদি পুরুষের যৌন অনাগ্রহ, অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করেন এবং অগ্রাহ্য করে তাকে রতিক্রিয়ায় বাধ্য করেন- তবে সেটিও ধর্ষণ। ধর্ষিত কেবল নারীই হন না। অনিচ্ছা, অনাগ্রহ, বাধ্য সঙ্গমে পুরুষও ধর্ষিত।

পুরুষ তখন তো আর পুরুষই নন। কোনও পুরুষ যদি সন্তান উৎপাদনে অসমর্থ হন, তখন চারপাশের মানুষ তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। পুরুষ যেন সন্তান উৎপাদনের বীজ। তাকে সন্তান উৎপাদন করতেই হবে। সে সন্তান উৎপাদন করতে বাধ্য। নারীর যৌন বিলাসে পুরুষ যদি অর্থপূর্ণ ভূমিকা না রাখতে পারে তাহলে সেই পুরুষ তখন নপুংশুক, কিম্পুরুষ-এমন অসভ্য, অশালীন কুৎসিত মন্তব্য করতেও ছাড়ে কি কেউ?

ফারজানা হুসাইনের লেখাটি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ফারজানার লেখাটি ভালো। ফারজানা গল্পে, তথ্যে, তত্ত্বে নারীরা কীভাবে নির্যাতিত, কীভাবে দাম্পত্য র্ধষণের শিকার তা তুলে ধরেছেন। কিন্তু ফারজানা, পুরুষেরাও তো নির্যাতনের শিকার, প্রতিদিন কোটি কোটি পুরুষ যে ধর্ষিত হয়ে, যৌনাঙ্গের ব্যথা নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তা কি শুনতে পান? ভেবেছেন, কখনও কত পুরুষ নির্যাতিত স্ত্রীদের যৌন নিপীড়নে? আপনি একটি গল্প বলেছেন। গল্প নয়, ঘটনা বলেছেন। এমন ঘটনা তো পুরুষের জীবনেও ঘটছে অহরহ। আমরা নারীকে যৌনবস্তু ভাবি, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র ভাবি, যৌন বিলাসে ব্যবহার করি। একবার ভাবুন তো পুরুষও কি কম যৌন বস্তু? কোনও পুরুষ যদি অপেক্ষাকৃত কম রতিক্রিয়াশীল হন, তখন কি হয় সমাজে তার অবস্থা? সমাজ সংসার সেই পুরুষকে কীভাবে দেখে? পুরুষ তখন তো আর পুরুষই নন। কোনও পুরুষ যদি সন্তান উৎপাদনে অসমর্থ হন, তখন চারপাশের মানুষ তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। পুরুষ যেন সন্তান উৎপাদনের বীজ। তাকে সন্তান উৎপাদন করতেই হবে। সে সন্তান উৎপাদন করতে বাধ্য। নারীর যৌন বিলাসে পুরুষ যদি অর্থপূর্ণ ভূমিকা না রাখতে পারে তাহলে সেই পুরুষ তখন নপুংশুক, কিম্পুরুষ- এমন অসভ্য, অশালীন কুৎসিত মন্তব্য করতেও ছাড়ে কি কেউ? পুরুষ কি কেবলই নিজের জন্য ইডিগ্রা, নিডিগ্রা খায়? নাকি কখনও কখনও নারীও বাধ্য করে তাকে এসব খেতে, খেয়ে হৃদরোগ বাধাতে। নারীর যৌন সুখের জন্য পুরুষ কতকাল আর যৌনবস্তু হিসাবে ব্যবহৃত হবে? নাকি আপনিও ভাবেন, পুরুষের কাজ তো তাই – যৌনক্রিয়া আর সন্তান উৎপাদন।

ধর্ষণ

 

আমরা প্রচলিত ধারনায় বন্দি অনেককাল। তাই পুরুষও যে যৌন হয়রানির শিকার হয়, যৌন লালসা তাকেও যে বিব্রত করে, অসম্মানিত করে তা বুঝতে অসমর্থ। এই তো সেদিন, ঈদের শপিংয়ে বসুন্ধরা সিটিতে এক্সেলেটরে নামছিলাম, প্রচণ্ড ভীড়, হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কে যেন আমাকে পেছন থেকে চাপ দিচ্ছেন। পেছনে তাকিয়ে দেখি, এক বিগত যৌবনা তার বিশাল স্তনযুগল আমার পিঠে ঠেসে ধরেছেন। আমি অস্বস্তিতে ভুগি। ক‘দিন আগে ঢাকা- কাঠমুন্ডু ফ্লাইটে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। কথা হয়, গল্প হয়, আড্ডা হয়। কাঠমুন্ডু নেমে দুজন দুজনের মতো হাওয়ায় মিশি। ঢাকায় ফেরার পর, তরুণীর সঙ্গে দু’তিন দিন কথা হয় ফোনে। কি যেন বোঝাতে চান তরুণী, বুঝি না আমি। ক’দিন পর ওই তরুণী আমাকে মোবাইলের মেসেজে নারীর পিনোন্নত স্তন, পুরুষের উত্থিত শিশ্ন- এসব ছবি পাঠান। বিরক্ত হই, বিব্রত হই এমন যৌন উৎপীড়নে । কোন নারী আমাকে যৌন পীড়ন করলে সেটি কেন পীড়ন নয়? নাকি আমি পুরুষ বলে ধারণা করতে হবে আমার কাজ শুধু ‘ওই’!

ফারজানা আপনি বলেছেন, সামাজিক অবকাঠামো আমাদের শেখায়-‘স্ত্রী হলো স্বামীর সম্পত্তির মতো।’ আপনার কথা মানছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পাশাপাশি এও শেখায় ‘স্বামী হলো স্ত্রীর সম্পত্তির মতো’ আমাদের স্ত্রীরা এমনই ভাবে। হাঁটা-চলার সময় স্ত্রীদের অবস্থা দেখেছেন, কেমন স্বামীদের বাহুলগ্ন করে রাখেন। কারও দিকে তাকালেও সন্দেহ, আপত্তি। আমাদের স্বামীরাই কেবল, স্ত্রীদের সম্পত্তি ভাবে না, স্ত্রীরাও স্বামীদের সম্পত্তি ভাবে। কোনও বিবাহিত পুরুষ কি স্বাধীন? না, স্ত্রীর অধীন তাকে থাকতে হবে। এটাই বিশ্বস্ততা। বিবাহিত পুরুষের কোথাও একা ঘুরতে পারেন না, বেড়াতে পারেন না স্ত্রী ছাড়া।

‘লস অব লিবিডো’ নামে একটি মনযৌন বিষয় আছে, যাতে অনেক বিবাহিত পুরুষেরাই ভোগে। স্ত্রীদের বা নারীদের প্রচলিত ধারণা, স্বামী বিয়ের রাত থেকেই রতিক্রিয়া করবে। না হলে সে পুরুষ নয়। তখনই পুরুষদের এই জাতীয় মানসিক সমস্যা হয়।

এক রাত বাইরে থাকলে, স্ত্রী ভিন্ন অন্য কোথাও থাকলে, বেড়ালে তার দিকে সন্দেহের অশ্লীল দৃষ্টি ‘তুমি কোথায় ছিলে, কার সঙ্গে ছিলে, কার সঙ্গে রাত কাটিয়েছো? কারও সঙ্গে রাত না কাটিয়েও তো মানুষ রাত কাটাতে পারে। মানুষের জীবনে কখনও কখনও, কোনও কোনও সময় একাকীত্বেরও প্রয়োজন হয়। পারবে কোনও বিবাহিত পুরুষ সম্মান নিয়ে সন্দেহমুক্তভাবে এমনি একা রাত কাটাতে। ভোগের বস্তু শুধু নারী নয়, ভোগের বস্তু পুরুষকেও ভাবা হয়।

ধর্ষণ

ফারজানা, আপনি অনেক তত্ত্ব দিয়েছেন, তথ্যে ভারী করে তুলেছেন লেখা। আমি অত তত্ত্ব দেব না, আমি যা বলি তা আমার জীবন থেকে নেওয়া। এখানে বিয়ের যে প্রক্রিয়া তা অনেটা লটারির মতো। বেশিরভাগ পুরুষ আগে থেকে জানেন না তার স্ত্রী কেমন? পুরুষের জীবনও বিয়ের পর বিকটভাবে বদলায়। ১৮ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টায় কেবল নারীদের বিয়ে হয় না, পুরুষদেরও বিয়ে হয়। আমি এমন অনেককে জানি, যাদের স্ত্রীরা নানা ভাবে চায়, স্বামীরা চায় না। তখন তাকে ‘অক্ষম’ ‘সমস্যা আছে’ ‘পার না’ ‘আগেই নষ্ট করেছো‘ – এমন যারপরনাই অশালীন কথা বার্তা শুনতে হয়।

ফারজানা নিরীক্ষা আর গবেষণার কথা বলেছেন। সমীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো দিয়েছেন তা ‘নারী’ শব্দটির জায়গায়, ‘পুরুষ’ শব্দটি দিয়ে দেখুন তো। ধর্ষিত কিন্তু কম হচ্ছে না পুরুষেরাও। যে বৈবাহিক ধর্ষণের কথা আপনি বলেছেন, তা বড্ড একপেশে; যা একের কথা বলে, অন্যের কথা বলে না। একের স্বার্থ সুরক্ষা করে, অন্যের অধিকারের মূল্য দেয় না। এককে ধর্ষণ থেকে বাঁচায়, অন্যকে ধর্ষিত করে।

‘লস অব লিবিডো’ নামে একটি মনযৌন বিষয় আছে, যাতে অনেক বিবাহিত পুরুষেরাই ভোগে। স্ত্রীদের বা নারীদের প্রচলিত ধারণা, স্বামী বিয়ের রাত থেকেই রতিক্রিয়া করবে। না হলে সে পুরুষ নয়। তখনই পুরুষদের এই জাতীয় মানসিক সমস্যা হয়।

যৌনতার বিষয়টি যতটা না শারিরীক, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক। ক’জন স্ত্রী আছেন বোঝেন স্বামীকে, বুঝতে চান পুরুষকে? পুরুষ তো তাদের ধারণায় যৌন বস্তুই। ফলে প্রচলিত অর্থে স্বামী-স্ত্রীর যে সম্পর্ক, তার প্রায় প্রতিটি শেষ পর্যন্ত কোনও না কোনওভাবে, কারও না কারও দ্বারা ধর্ষণই হয়ে ওঠে।

ফারজানা নিরীক্ষা আর গবেষণার কথা বলেছেন। সমীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো দিয়েছেন তা ‘নারী’ শব্দটির জায়গায়, ‘পুরুষ’ শব্দটি দিয়ে দেখুন তো। ধর্ষিত কিন্তু কম হচ্ছে না পুরুষেরাও। যে বৈবাহিক ধর্ষণের কথা আপনি বলেছেন, তা বড্ড একপেশে;যা একের কথা বলে, অন্যের কথা বলে না। একের স্বার্থ সুরক্ষা করে, অন্যের অধিকারের মূল্য দেয় না। এককে ধর্ষণ থেকে বাঁচায়, অন্যকে ধর্ষিত করে।

ফারজানা আমি নিজেই ধর্ষিত হয়েছি। জীবনের বিভিন্ন সময়। একবার নয়, একাধিকবার। এক নারী নয়, একাধিক নারী আমাকে ধর্ষণ করেছেন । যৌন হয়রানির শিকারও হয়েছি অনেকবার।

আমি চাই আজকের সভ্য দুনিয়ায় কেউই কাউকে যৌন বস্তু হিসাবে ভাববেন না। কেউই যৌন নিগ্রাহের, হয়রানির, অত্যাচারের, নিপীড়নের শিকার হবেন না। বৈবাহিক, অবৈবাহিক কোন ধর্ষণ যেন কেউ না হয়। শুধু নারী কেন, ধর্ষণের শিকার পুরুষও যেন না হয়। স্বামীদের ধর্ষণ যেমন চাইছি না, স্ত্রীদের ধর্ষণও চাইছি না তেমনি। নারী নির্যাতন নয়, পুরুষ নির্যাতনেরও আমি বিরোধী। কোন মানুষই নির্যাতিত হবে না সভ্য সমাজে। না পুরুষ, না নারী। না আপনি, না আমি।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন

Check Also

শারীরিক মিলনে

শারীরিক মিলনে কি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়?

শারীরিক মিলনের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে এই বিষয়ে আমরা অবগত। শারীরিক মিলনে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা মধ্যে একটি …