cool hit counter

আমাদের বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হবার পর জানতে পারি যে ও শারীরিকভাবে অক্ষম….

প্রতিদিনই আপনার ডক্টর অনলাইন বাংলা স্বাস্থ্য টিপস পোর্টালের ফেসবুক ফ্যানপেজে অনেক ম্যাসেজ আসে। সব ম্যাসেজর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।তাই পাঠকদের কাছে প্রশ্নটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় (প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে)। আপনি ও আপনার সমস্যার কথা লিখতে পারেন অামদের ফেসবুক ফ্যানপেজে https://www.facebook.com/apoardoctor/ আজকের প্রশ্নঃ আমাদের বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হবার পর জানতে পারি যে ও শারীরিকভাবে অক্ষম, এখেন কি করব বুঝতে পারছি না। দয়া করে পরামর্শ দিন।

বিয়ের

বিয়ের  আগে জানতে পারি যে ও শারীরিকভাবে অক্ষম

আমি ডাক্তার। পাশ করেছি তিনবছর হলো। মেডিক্যাল পেশা কখনোই ভালো লাগে নি। কিন্তু ছোটবেলা থেকে ভালো ছাত্রী, ভালো রেজাল্ট। প্রাইভেটে পড়ানোর সামর্থ্য আমার বাবার ছিল না। আর মেডিক্যাল ছাড়া কোথাও চান্স পাই নি। তাই মেডিক্যালে পড়ি। আমার একটা সম্পর্ক ছিল তিনবছরের। আমাদের সিনিয়র। ও না থাকলে আমার পক্ষে পাশ করে ডাক্তার হয়ে আসা অসম্ভব ছিল। আমাদের বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হবার পর আমি জানতে পারি ও শারীরিক অক্ষম। খুব খারাপ সময় গেছে তখন। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। কাছের বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করলাম । সবাই বললো- ওকে বিয়ে করা ভুল হবে। কারণ একটি সময় ভালোবাসার ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর আমারও কেনো যেন মনে হলো- ওর প্রতি বিরক্তি বা রাগ এসে যাবে আমার। আমি হয়তো ওর পরিবার আর ওকে সুখী করতে পারব না।

ব্রেকআপ হলো। বাসা থেকে বিয়ের তোড়জোড়। আমার চারিত্রিক কিছু সমস্যা আছে। আমি জানি। তারমধ্যে প্রবল সমস্যা হলো- নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে না পারা। আমি অভিনয় করতেও পারি না। কাউকে ভালো না লাগলেও তারসঙ্গে হেসে কথা বলা, সৌজন্য বজায় রাখাটা তো সামাজিকতা। আমি পারি না। আমার বিয়ের জন্য বাবা মা ফ্ল্যাট, গাড়ি, টাকা-পয়সাওয়ালা ছেলে খোঁজ করতে শুরু করল। আমার ইচ্ছা ছিল সৎ মেধাবী উদ্যমী একটি ছেলেকে জীবন সঙ্গী করব। একটু একটু করে জীবনটা গুছাব। বাবা-মার ব্যাপারটা বুঝতাম। নিজেরা অর্থনৈতিক অসচ্ছলতায় ভুগেছে বলেই এমনটা চাইত। বিয়ে হলো। বাবা মার ইচ্ছেমতো বিয়ে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসে আমি খুশি হয়ে গেলাম। সবাই ভালো। আমাকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দেয় না। পড়াশোনাকে প্রাধান্য দেয়। আমার ভালো লাগল। বিয়ের আটদিনের মাথায় আমার স্বামীর চাকরি চলে গেল। এতে সমস্যা হয় নি। সংসার তো শ্বশুর চালান। প্রথমে একটু কষ্ট পেলেও কিছু বললাম না। ও বাইরে আবেদন করলো। হলো না। ওর সিজিপিএ কম। IELTS এ স্কোর কম। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে না।

যাহোক, নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মন দিলাম ।নিজে মাছি মারব, আর হাজব্যান্ডকে টাকা বানানোর মেশিন ভাববো- এমন মানসিকতা কখনও ছিল না আমার। কিন্তু ওর উদাসীনতা, একটা যুবক হিসাবে ওর উদ্যমের অভাব দেখে কষ্ট পেতাম। আমার বাবা দেশের বাইরে থাকেন। আমার মা সম্পূর্ণ একা থাকে বাসায়। আমাদের কোনও কাজের লোকও নেই। চাকরি, ঘরের কাজ ,বাইরের কাজ, সব সামলেও কোনো আনুষ্ঠানিকতা তিনি বাদ রাখেন নি। আমরা হিন্দু। বিয়ের পর একবছর ধরে জামাই ষষ্ঠী, প্রেতপক্ষ, নববর্ষে মুড়ি-মুড়কি, ফল পাঠানো, গ্রীষ্মে ফল পাঠানো- সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছেন। বিয়ের প্রথমবছরে কিছু বাদ রাখেন নি। আমার শ্বশুর বাড়ি, ননাসের বাড়ির সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছে সবকিছুতেই। বিয়ের দ্বিতীয়বছরে দুর্গাপূজার আগে একটি পার্বন- প্রেতপক্ষ বলে। সেটাতে আবার সবাইকে বলতে চাইলে আমি মানা করলাম। এত বড় দাওয়াত সামলাতে একা একা কষ্ট হয়। বাবা এর কয়দিন পরেই আসার কথা। বাবা আসলে একেবারে আয়োজন করতে বললাম। মা আমাকে আর ওকে খাওয়ালো। বাবা দেশে আসলো। বিয়ের দশমাস পর ওর চাকরি হলো।

এরপর থেকে কেমন যেন অন্যরকম লাগত। গম্ভীর। অফিস থেকে বাসায় এসে মা-বাবার সঙ্গে গল্প করে এসে কেমন থমথমে চেহারা করে বসে থাকত। একদিন জোড় দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- কী ব্যাপার? ও যা বললো তাতে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমার মা নাকি ওকে অপমান করেছে। ওর চাকরি ছিল না। এটা নিয়ে ওর বাবা, বোনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ওর চাকরি না থাকলেও আমার খাওয়া পরার তো অভাব ছিল না। তাহলে কেন এসব বলেছে আমার মা! ও তো বিধবার ছেলে না। তাহলে কেন শুধু ওকে দাওয়াত দিলো। ওর বাবা-মা বোনের শ্বশুর বাড়ি কেন বাদ পড়লো! আমার মা ধূর্ত। কেন বলে উনার একটা মেয়ে!- আরও অনেক কথা শোনালো। অথচ ও বেকার থাকা অবস্থায় আমি নিজে কখনও ওকে এটা নিয়ে কিছু বলি নি। ওর মন খারাপ হবে বলে একটা রাত মায়ের কাছে গিয়ে থাকি নি। আমার মা হয়তো ওর বাবার কাছে হতাশা প্রকাশ করেছে। ওকে কখনওই কিছু বলে নি। এই ব্যাপারটা আমার মাথায় চেপে বসে আছে। আমি ওর সঙ্গেই আছি। কিন্তু সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক করতে পারছি না।

 

আপনার ডক্টরের উত্তরঃ

আপু, আপনার অতীতে কী হয়েছে সেটা নিয়ে আলোচনায় যাবো না। আপনার কাছে যেটা ভালো মনে হয়েছে সেটাই করেছেন। তবে হ্যাঁ আপু, বর্তমান সম্পর্কে আমি বলবো যে আপনি আসলে ওভার রি অ্যাক্ট করছেন। এবইং অনেকটা স্বার্থপর আচরণঅ করছেন। সংসার জীবন ফুলের শয্যা নয়, এই জীবনে অনেক কিছু ঘটবে একসাথে থাকতে গেলে। কিন্তু তারমানে এই নয় যে স্বামীকে ভালোবাসা যাবে না বা অভিমান ভুলে সম্পর্ক সুন্দর করা যাবে না।

আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার স্বামীর কি খুব একটা দোষ আছে এই বিষয়ে? জবলেস থাকা একজন পুরুষের জন্য খুবই অপমান সূচক আমাদের দেশে। একজন মানুষের যদি চাকরি চলে যায় এবং আর চাকরি না হয়, সেটা নিজের বন্ধুবান্ধব হলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা ঠিক নয়। কেননা এই ব্যাপারটায় যে কেউ অপমানিত বোধ করতে পারেন। সেখানে আপনার স্বামী তো স্বামী তো নতুন জামাই, একটা দুঃসময়ে পড়েছেন। আপনার আম্মার আসলে উচিত হয়নি বিষয়টি নিয়ে স্বামীর পরিবারের সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাওয়া। মাত্র কয়েকটা মাসই তো হয়েছিল, এমন নয় যে বছরের পর বছর স্বামী বেকার।

দেখুন আপু, দুনিয়াতে একেকটা মানুষ একেক রকম। আপনি সবাইকে নিজের মত আশা করতে পারেন। যার সাথে বিয়ে হয়েছে, তিনি এখন আপনার বর। এই মানুষটির ভালোমন্দ সম্মান-অসম্মান দেখা কিন্তু আপনারই দায়িত্ব। আত্মনির্ভর হওয়া খুব ভালো ব্যাপার, কিন্তু আত্মকেন্দ্রিক না। আপনার মা কাজটি ঠিক করেন নি, কিন্তু সেটার জন্য আপনি স্বামীর সাথে মানিয়ে নিতে পারছেন না এটা অনুচিত। আপনার উল্টো উচিত ছিল স্বামীর মান ভাঙ্গানো। অন্যদিকে দাওয়াতের ব্যাপারটা… নতুন জামাই, দাওয়াত প্রত্যাশা করতেই পারেন। আপনার মায়ের সমস্যা আছে বা কষ্ট হয়, এটা তো স্বামী জানেন না। আপনি যদি সেই সময়েই স্বামীকে বুঝিয়ে বলতেন যে মা দাওয়াত দিয়েছে, কিন্তু মায়ের কষ্ট হবে ভেবে আপনি গ্রহণ করেন নাই, তাহলে কিন্তু আপু কোন সমস্যাই থাকতো না। কথা বললে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়, যেটা আমার মনে হচ্ছে আপনি করছেন না আপু।

একটু মনকে মেলে ধরুন ইগোকে পাশে রেখে, আমার মনে হয় জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

বিয়ের পর বাসর রাত সম্পর্কে কি বলে ইসলাম?

বিশেষ দ্রষ্টব্য
আমি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা আইনজীবী নই। কেবলই একজন সাধারণ লেখক আমি, যিনি বন্ধুর মত সমস্যাটি শুনতে পারেন ও তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন। পরামর্শ গুলো কাউকে মানতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ যদি নতুন কোন দিক নির্দেশনা পান বা নিজের সমস্যাটি বলতে পেরে কারো মন হালকা লাগে, সেটুকুই আমাদের সার্থকতা।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।