cool hit counter
Home / অন্যান / অবশেষে প্রকাশিত হল তনু কে যেভাবে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছিল…

অবশেষে প্রকাশিত হল তনু কে যেভাবে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছিল…

রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়্। নিহত তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাধারণ ইতিহাসের ২য় বর্ষের ছাত্রী। তার বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি কলোনীতে পরিবারের সাথে থাকতেন সোহাগী জাহান তনু (২০)। রবিবার বিকাল ৩টায় সে বাড়ির কাছেই ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কোয়াটারে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় এবং ষষ্ঠ বীরের সৈনিক জাহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যান। রাত সাতটার দিকে সার্জেন্ট জাহিদের প্রথম শ্রেণির মেয়েকে পড়ানোর পর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

তনু

তনু কে যেভাবে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছিল

তিনি আরো জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কোয়াটার সংলগ্ন পাহাড় হাউস এলাকার কাছের কালভার্টের কাছে সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ সময় তার মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং কামিজ ছেড়া ছিল। লাশের পাশে অসংখ্য চুল ছেড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত তনু থাকতেন কুমিল্লা সেনানিবাসের আবাসিক এলাকা ৫৮/১ পাহাড় হাউসের একটি টিনশেড বাসায়। জানা গেছে, নিহত কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায় হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।
মজার মজার নতুন জোকস পেতে লাইক , শেয়ার এবং কমেন্ট দিয়ে আমাদের সাথেই মেতে থাকুন ।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত সামসুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একই থানার এসআই সাইফুল জানান, মেয়েটির চুল কাটা ছিল। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তনুর বাবা ও ভাইয়ের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন কেউ তুলছে না বলে তাদের সাথে কথা বলা যায় নি। নিহত সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের কর্মী ছিল।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আহমেদ জানান, কালকে যখন রাত হয়ে যাওয়ার পরেও তনু বাসায় ফিরছে না দেখে তার বাবা খুঁজতে বের হয়। এ সময় রাস্তায় তিনি মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে দেখতে পান কিছু দুরে মেয়েদের চুল ছেড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং একটি মোবাইলও পড়ে আছে। তারপর জঙ্গলের ভেতর রক্ত ও তনুর লাশ দেখতে পান। নিহত তনুর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের মীর্জাপুরে ।
মজার মজার নতুন জোকস পেতে লাইক , শেয়ার এবং কমেন্ট দিয়ে আমাদের সাথেই মেতে থাকুন ।
সোহাগীর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওর (সোহাগী) মৃত্যুর পর বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাঁদের কথা বলার মতো মানসিক শক্তি নেই। আমার এক খালাতো বোনের কাছ থেকে শুনেছি, ক্যান্টনমেন্টের এক সৈনিক ওকে (সোহাগী) বিরক্ত করত।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন গতকাল বিকেলে তাঁর দপ্তরে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে জানান, ‘পুলিশকে সময় দিতে হবে। তদন্তে আস্তে আস্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। এ ছাড়া ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

সোহাগী হত্যার প্রতিবাদে কণ্ঠসাধন আবৃত্তি পর্ষদের উদ্যোগে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ডে গতকাল বিকেলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। একই দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। ক্ষুব্ধ নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সোহাগী জাহান তনু সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বলা হয়, তনুর লাশ জঙ্গলে পাওয়া গেছে। অথচ ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে, একটি পরিপাটি কক্ষে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়েছে তনুকে। হত্যার পর আসামীরা কোথা দিয়ে বের হয়ে গেছে তাও বোঝা যাচ্ছে রক্তে লেগে থাকা পায়ের ছাপগুলোতে। এখন প্রশ্ন হল- সংরক্ষিত এলাকায় কিভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় তনুকে। এটা কী সংরক্ষিত এলাকা? যদি তাই হয়, তবে এই সংরক্ষিত এলাকাটিতে প্রবেশ করার অধিকার কার? কারা যায় এখানে? তাদেরকে কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে?

গত ২২ মার্চ রোববার রাতে ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের ভাষ্য ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তনুকে। আর এই হত্যার ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত সোহাগী জাহান তনু (১৯) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সদস্য ছিলেন। সে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে।

২০ মার্চ রাত সোয়া ১০টা। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন কাজ সেরে সবে বাড়ি ফিরেছেন। এত রাতেও মেয়েটা ফেরেনি। কখনো এমন হয় না। ইয়ার হোসেন খুঁজতে বেরোলেন। তাঁকে বেশি দূর যেতে হয়নি। বাড়ির কাছেই কালভার্টের পাশে প্রথমে পাওয়া গেল মেয়ের এক পাটি জুতা, তারপর লাশ।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন মেয়ের মৃত্যুর তিন দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। মেয়ের লাশ উদ্ধারের বর্ণনা দেন অসহায় বাবা।
ইয়ার হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। সেদিন আমার ডিউটি ছিল বেলা দুইটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। রাত সোয়া দশটায় সাইকেলে করে বাসায় ফিরলাম। দেখি, তনুর মা মেঝেতে মন খারাপ করে বসে আছে। বলল, মেয়ে বাসায় ফেরেনি। আমার প্রতিবেশী ক্যান্টনমেন্ট বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিকদার কামাল। আমি বাসা থেকে বের হয়ে আগে তাঁকে বিষয়টি জানাই। এরপর টর্চলাইট নিয়ে মেয়ের খোঁজে বের হই। বেশি দূর যাইনি। বাসার কাছেই একটি কালভার্ট আছে। আমি কালভার্টের পাশে টর্চলাইটের আলো ফেললাম। দেখি আমার মেয়ের একটি জুতা পড়ে আছে। আমি চিৎকার দিয়ে কালভার্টের পাশের নিচের অংশে নেমে যাই। আমার গলা শুনে ছোট ছেলে রুবেল বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে ওর মোবাইলটা পড়ে ছিল। আমি খুঁজতে খুঁজতে এগোই। একটু উঁচু জায়গায় জঙ্গল ও গাছগাছালির মধ্যে তনুকে পেলাম। গাছের তলায় ওর মাথা দক্ষিণ দিকে আর পা উত্তর দিকে পড়ে আছে। মাথার নিচটা থেঁতলে গেছে। পুরো মুখে রক্ত আর আঁচড়ের দাগ। আমরা পাঁচজন মিলে ওকে সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) নিয়ে যাই।’
ইয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে দুইটা টিউশনি করত। এক দিন পর পর যেত। সাড়ে চারটার দিকে যখন বেরোত, ওর মা আনোয়ারা বেগম এগিয়ে দিত। ফেরার পথেও ওর মা কিছু দূর গিয়ে নিয়ে আসত। ওই দিন তনু ওর মাকে বলেছিল, সে একাই আসতে পারবে। এখানে থেকে আমার মেয়েটা স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা শেষ করেছে। আমি এখানে ৩১ বছর চাকরি করি। সাত-আট বছর ধরে কোয়ার্টারে থাকি। নিরাপদ এলাকা। কারা ওকে মেরেছে? এখন এ নিয়ে কী বলব? আল্লাহ দেখেছেন। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’
তনুর বাবা কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। তনু ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের নাট্যকর্মী ও একজন সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন।
বিচার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ: তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৬৮টি মানবাধিকার সংস্থার জোট সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি মানববন্ধন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মূকাভিনয়ের মাধ্যমে তনু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সিনেমায় নায়িকা হতে আসা সুন্দরী মেয়েটিকে পরিচালক…

নায়িকা
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন কুমিল্লার সাংস্কৃতিক কর্মীরা। নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা অবিলম্বে তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

মীর কাসেম

মৃত্যুর সময় কি বলেছিল মীর কাসেম ? বিস্তারিত পড়লে অবাক হবেন!

শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মীর কাসেম …