cool hit counter

নারী ও পুরুষের যৌবন এর সঞ্চার

নারী ও পুরুষের যৌবন এর সঞ্চার

কথায় বলে যৌবন জীবনে একবারই আসে যৌবন আগমন ও মাসিক ধর্ম নারী ও পুরুষ উভয়ের জীবনেই বিভিন্ন সময়ে যৌবনের সঞ্চার ঘটে থাকে। তবে যৌবন আগমন উভয়ের ঠিক একই সময়ে ঘটে না- বিভিন্ন সময়ে ঘটে। নারীর যৌবন আগমন ঘটে আগে- পুরুষের ঘটে কিছু পারে।

যৌবন

 নারী পুরুষের যৌবন

গ্রীষ্মপ্রধান দেশে পুরুষের যৌবন আগমন ঘটে আঠারো থেকে কুড়ি বছরের মধ্যে। শীতপ্রধান দেশে- অর্থাৎ ভারতের বহির্দেশে যুবকদের যৌবন আগমন ঘটে বাইশ থেকে পঁচিশ বছর বয়সে। নারীর যৌবন আগমন ঘটে গ্রীষ্মপ্রধান দেশে চৌদ্দ থেকে ষোল বছর বয়সে- আর শীতপ্রধান দেশে আঠারো থেকে কুড়ির মধ্যে।

যৌবন ধর্মের তালিকা

শীতপ্রধান দেশে যৌবন আগমন
পুরুষ- ২২-২৫
নারী- ১৮-২০
গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যৌবন আগমন
পুরুষ- ১৮-২০
নারী- ১৪-১৬
শীতপ্রধান দেশে যৌবন নিরোধন
পুরুষ- ৬৫-৭০
নারী- ৫০-৫৫
গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যৌবন নিরোধন
পুরুষ- ৫৫-৬০
নারী- ৪৫-৫০

পুরুষের যৌবন আগমনের লক্ষণ

অবশ্য মাঝে মাঝে উপরের প্রকৃতিগত নিয়মেও ব্যতিক্রম দেখা যায়।
পুরুষের যৌবন আগমন বিভিন্ন লক্ষণের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে।
যেমন-
(১) কষ্ঠস্বর ভারী হয়।
(২) গোঁফের মধ্যে রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(৩) বগলে ও বসি-দেশে লোম দেখা যায়।
(৪) তাদের দেহের মধ্যে বীর্য্য বা শক্তি সৃষ্টি হয়।
(৫) মানসিক পরিবর্তন ঘটে।

নারীর যৌবন আগমনের লক্ষণ

নারীর যৌবন আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তার দেহে যে সব চিহ্ন ফুটে ওঠে তা হলোঃ- তাদের দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন।
১। দেহে নারী-সুলভ কমনীয়তা ফুটে ওঠে।
২। হাত, পা, জঙ্ঘন, নিতম্ব ইত্যাদিতে মেদ জমে ওঠে।
৩। বক্ষদেশ উন্নত হয়ে ওঠে।
৪। মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়।
৫। প্রায় আঠাশ দিন অন্তর মাসিক বা ঋতুস্রাব হয়ে থাকে।
এই ঋতুস্রাব হলো নারীর যৌবন আগমনের সবচেয়ে বড় চিহ্ন।

মাসিক বা ঋতু

নারীর যৌবন আগমনর থেকে যৌবন এর সীমা পর্যন্ত এই সময়ে প্রতি আঠাশ দিন অন্তর নারীর যোনি থেকে কিছুটা রক্ত ও শ্লেষ্মা বেরিয়ে আসে। একই বলা হয় মাসিক বা ঋতু।
বাৎস্যায়ন বলেন- এই ঋতু নারীর বিবাহের সূচনা বোঝায়।
বাৎস্যায়নের মত বিবাহের সূচনার সময়, ঋতুস্রাবের ঠিক প্রারম্ভে। কিন্তু আজকাল ও বিধান প্রাই মানা হয় না- কারণ ভারত সরকার আঠারো বছরের আগে কোনও নারীর বিবাহ অসিদ্ধ বলে ঘোষনা করেছেন।

ঋতুর সময়ে বিভিন্ন সতর্কতা

ঋতুমতী নারীর সময় বা ঐ সময়ের পরে কতকগুলি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য। তা না হলে তার দৈহিক ও মানসিক নানা প্রকার ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়ে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে।
ঋতু যে একটি সাধারণ বস্তু নয়, তা আমাদের ভারতীয় সব শাস্ত্রকারদের বেশ জানা ছিল- তাই তাঁরা এটা মেনে চলতেন সব সময়ে।
শাস্ত্রের ভাষায়ঃ-
ঋতুমতী যদা নারী চণ্ডালী প্রথমেহনি।
পাপীয়সী দ্বিতীয়ে চ তৃতীয়ে নষ্টরূপিনী।
উপস্বিনী চতুর্থে চ লাতা চৈব বিশুদ্ধতি।
প্রথমেহ হ্নি অগত্যা চ গমনে জীবন ক্ষয়।
দিনভেদে ঋতুমতী নারীর বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে ভারতীয় শাস্ত্রে। নারীর ঋতু হলে তিন দিন কোন নারীকে কি নামে ডাকা হয় এবং তার প্রকৃতি কি হয় তা বলা হয়েছে।
যেদিন নারী জাতি প্রথম ঋতুমতী হয় সেদিন সে চণ্ডালিনীসদৃশা হয়ে থাকে। তেমনি দ্বিতীয় দিনে সে হয় মহাপাপীয়সী, তৃতীয় দিনে হয় নষ্টরূপী, চতুর্থ দিনে সে হয় উপস্বিনীসদৃশা। চতুর্থ দিনে নারী যথাবিধি স্নান করলে সে পবিত্রা হয়ে থাকে।
ঋতু হলে প্রথম দিন নারী স্পর্শ করবে না। সেই দিন উপগত হলে পরমায়ু হ্রাস হয়ে থাকে। যদি দ্বিতীয় দিনে নারী গমন করা হয় তাহলে সেই পুরুষকে মহাপাপে লিপ্ত হতে হয়।
তৃতীয় দিনেও নারীকে পরিত্যাগ করা উচিত। সেই দিন নারীকে স্পর্শ করলে সেই নারী বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বন করে এবং সেই পুরুষকেও বেশ্যাগমনজনিত পাপে লিপ্ত হতে হয়। চতুর্থ দিনে নারী স্নান করে বিশুদ্ধা হলে তারপর তাকে স্পর্শ করবে।

শাস্ত্রের এই কথাগুলির মধ্যে যে কতটা বাস্তবতা প্রচ্ছন্ন আছে তা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়। তারপর ঋতুকালীন বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফল বলা হচ্ছে।
(ক) ঋতুর পরই নারীর জরায়ু থাকে নরম ও সংবেদনশীল। ঐ সময় কোন ব্যায়াম, দৌড় ঝাঁপ, ছুটাছুটি, লাফালাফি করা উচিত নয়।
(খ) ঋতুর সময় নিয়মিতভাবে দৈহিক বিশ্রাম অবশ্য কর্তব্য। তাই আমাদের দেশে ঋতুর সময় তিন দিন পূর্ণভাবে নারীর অশৌচ পালন করা হয়ে থাকে। এর অর্থ আর কিছুই নয়। এই তিন দিন বিশেষ ভাবে গৃহকর্ম থেকে নারীকে বিশ্রাম দেওয়া কর্তব্য।
(গ) ঋতুর সময় ঋতুস্রাব মুছে ফেলার জন্যে বা রক্ত শুষে নেবার জন্যে অনেকে অত্যন্ত ময়লা কাপড়ের টুকরো ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে এটি যে কত বড় ভুল জিনিস এবং এর জন্যে যে কতটা অনিষ্ট হতে পারে এটি তারা গভীরভাবে দেখবার অবসর পান না।
যদি কাপড়ের বা কার্পাস তুলোর টুকরোতে কোন রোগের বা দুরারোগ্য ব্যাধির জীবাণু থাকে তবে তা যোনিনালী দিয়ে দেহের ভিতরে প্রবেশ করবে।
এর ফলে জরায়ু বা গর্ভাশয় কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এজন্য অনেক সময় ধনুষ্টংকার বা রতিজ রোগ বা অন্য কোন রোগ হতে পারে। ঋতুমতী নারীর তাই এ বিষয়ে সাবধান থাকা একান্ত প্রয়োজন। ঋতুমতী নারীর উত্তর ধৌত কার্পাস বস্ত্র ব্যবহার করা উচিত।
(ঘ) ঋতুর সময় কখনও শরীরে ঠান্ডা লাগান উচিত নয়-রাত্রি জাগাও উচিত নয়। ঐ সময় শরীর দুর্বল থাকে। সহজেই ঠাণ্ডা লাগতে পারে। রাত জাগলেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
(ঙ) ঋতুস্রাবের সময়ে পরিষ্কার কার্পাস টুকরো বা সাবান গরম জল ইত্যাদি দ্বারা পচা কাপড়ের টুকরো যোনিতে ব্যবহার করা উচিত।
(চ) ঋতুস্রাবের সময় অন্ততঃ তিন চার দিন কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন মিলনে ব্রতী হওয়া উচিত নয়। তাতে জরায়ু কোন না কোন ভাবে আহত হতে পারে। তার ফলে নানা ক্ষতি হতে পারে।
(ছ) ঋতু কালীন মাটির পাত্রে জলপান, কঠোর বিছানায় শয়ন করা উচিত। এ সময়ে চুলে তেল দেওয়া, গন্ধ দ্রব্য বা সুগন্ধি বস্তু ব্যবহার করা উচিত নয়। এ সব পর্যন্ত শাস্ত্রীয় মতে নিষিদ্ধ।
(জ) যদিও আজকাল ও সব নিয়ম পালন করা হয় না। তবু এগুলি পালন করা উচিত। তার কারণ ঋতুকালে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে নারী কামাতুর হয়ে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে।

বিবাহের চেষ্টা ও উপায়

বালিকা বয়স থেকে প্রেমালাপ

কখনও কখনও এমন ঘটে থাকে যে, কোন তরুণ যুবক, বহু চেষ্ট করে অতিপ্রেত তরুণীকে বিয়ে করে উঠতে পারে না। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে এরূপ হতে পারে।
(১) যখন কোন লোক গুণবান হয়েও নির্ধন।
(২) যখন কোন লোক দেখতে সুন্দর বা গুণবান হয়েও প্রতিপত্তিশালী বন্ধু বা আত্নীয়ের অভাবে বিবাহ স্থির করতে পারে না।
(৩) যখন কোন লোক ধনশালী হয়েও অত্যন্ত কলহ পরায়ণ হয়।
(৪) যখন কোন যুবক তার পিতামাতা বা ভাইদের উপর নির্ভরশীল থাকে।
(৫) যখন কোন লোক দেখতে স্ত্রীলোকের মত। অন্য লোকের অন্তঃপুরে গিয়ে মিলতে পারে।-কিন্তু কেউ বর বলে গ্রাহ্য করে না।
এরূপ ক্ষেত্রে সেই যুবক যাকে বিয়ে করতে চায়, বালিকা বয়স থেকেই সে বিষয়ে চেষ্টা করা উচিত।
দক্ষিণ ভারতে দেখা গেছে, কোন পিতৃমাতৃহীন বালক অন্য মানুষের ঘরে মানুষ হয়েও, এমন কন্যা বিবাহ করেছে, যে সে তা সাধারণভাবে করতে পারত না। কিন্তু তা ঘটেছে শুধু প্রেম-নিবেদন কৌশলে।
কোনও কোনও বালক প্রেমালাপ করেও বালিকার মাকে মাতৃ সম্বোধনের কৌশলেও উচ্চস্তরের মেয়ে বিয়ে করতে পারে। যা অনেক ধরনবান ব্যক্তিও পারে না।
অবশ্য এই বালক ও বালিকারা ছেলেবেলা থেকেই সাথী হওয়া চাই।
তারপর দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব বেশ দৃঢ় হওয়া চাই, বাল্যকাল থেকে।
দু’জনে একসঙ্গে নানা খেলা করবে-ফুল তুলবে, পুতুল তৈরি করে খেলবে, নানা ফুলের মালা গাঁথবে, মেয়েটা-ছেলেটাকে ফুল তুলে দিয়ে সাহায্য করবে।
তা ছাড়া চোর চোর খেলা, বিচি নিয়ে খেলা, পাখি ওড়ানো ইত্যাদি নানা প্রকার খেলা আছে।
এবারে এগুলি বিষয়ে বলা হচ্ছে।

বাৎস্যায়ন নিম্নোক্ত খেলাগুলির কথা অনুমোদন করেছেন।
(১) চোর চোর খেলা- এই খেলায় একজন অন্যজনের চোখ বেঁধে দেয়। সহচর সহচরিরা কোন গুপ্ত স্থানের ভেতর লুকিয়ে পড়ে। তারপর তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তখন সে তাদের খুঁজতে আরম্ভ করে দেয়।
একজনকে খুঁজে বের করে তাকে ছুঁয়ে দিলেই সে চোর হবে।
সাধারণতঃ প্রেমিক প্রেমিকা পরস্পরকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে-‌
(২) বিচি নিয়ে খেলা- বিভিন্ন ফলের বিচি নিয়ে এই খেলা হয়।
একজন হাতে কিছু বিচি নিয়ে প্রশ্ন করে, জোড় না বেজোড় তারপর সে হয়ত উত্তরে বলল জোড়। তখন খুলে গুণে দেখা হয়।
কথা মিলে গেলে সে জিতল-অন্যথায় হেরে গেল।
(৩) পাখি ওড়ান- সব খেলোয়াড় হাতে হাত দিয়ে দাঁড়ায়-একজন ঝাপটা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করে দেয়।
(৪) লবণ বীথিকা- বাৎস্যায়নের সময়ও খেলা ছিল-বর্তমানে আছে কিনা জানা নেই।
একদল ছেলেমেয়ে একটি লবণের ছোট স্তূপ তৈরি করে।
অন্য দল তাদের ধরবার চেষ্টা করে লবণের স্তূপটি জয় করতে চায়।
তারা কিছু লবণ চুরি করে পালায়-আগের দল তাদের ধরবার চেষ্টা করে।
(৫) গম নিয়ে খেলা- গম ও চাল একত্র মিশিয়ে দেয়। তারপর তা পৃথক পৃথক করার চেষ্টা।
(৬) কানামাছি খেলা- এই খেলার বর্তমান নাম কানামাছি খেলা।
খেলোয়াড়দের একজনের চোখ বেঁধে দেওয়া হয়ে থাকে। তারপর তার মাথায় সকলে থাবড়া মারতে থাকে।
সে যদি চোঁখ বাঁধা অবস্থায় একজনকে ধরতে পারে বা তার নাম বলতে পারে তখন সে আবার কাণাষাঁড় হবে। তখন আবার তার চোখ বেঁধে এইভাবে খেলা চলবে।

কৈশোর প্রেম

এইভাবে নানা খেলা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে তরুণ প্রেমিকের উচিত প্রেমাস্পদকে লাভ করার চেষ্টা করা।
তাছাড়া যারা একটু বয়সে বেড়েছে তারা তাদের অভিপ্সীতার সখা বা বাল্যবন্ধুর সঙ্গে আলাপ পরিচয় করবে।
যদি অভিস্পীতার কোন ধাত্রী কন্যা থাকে, তার সাহায্যে তার দেখা পেতে হবে। বা কোনও নারীর সাহায্যে ঐ নারীর সঙ্গে দেখা করবে।
আর যদি কোন বাধা না থাকে স্বাভাবিক ভাবে দেখা করবে।

কৈশোর প্রেমের কাজ

প্রেমিকের কাজ প্রেমিকাকে সর্বদা সুখী করে রাখা। তরুণী বা কিশোরী যা চায় তাকে তাই জোগাড় করে এনে দিতে হবে।
যে সব খেলার জিনিস প্রেমিকা কোথাও পায় না, তা জোগাড় করে দিতে হবে।
নানাবিধ খেলনা জোগাড়ে খুব সাবধান্তকোন পুরুষ বন্ধুর সাহায্য না নেওয়া হয় যেন। তা হলে সে পরে উক্ত প্রেমিকার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।
স্থান বা কাল অনুযায়ী প্রসাধন দ্রব্য, গন্ধদ্রব্য, কুমকুম, চন্দন ইত্যাদিও জোগাড় করে দেওয়া উচিত।
ওসব কিন্তু করতে হবে খুব নিভৃতে, যাতে আর পাঁচজন জানাতে না পারে।
প্রেমাস্পদকে চুপি চুপি বলতে হবে-তোমাকে যা দিচ্ছি তা যেন কাউকে বলো না।
যদি প্রেমিকা বলে-কেন?
তার উত্তরে বলতে হবে-তোমাকে আমার ভাল লাগে-তাই বলে তা কি সকলকে বলা উচিত?
যখন তরুণীর মন আরও জয় হয়েছে দেখবে, তখন নানা ম্যাজিক যাদুবিদ্যা ইত্যাদি দেখাবে।
যদি গান বা আবৃত্তি জান, গোপনে তাকে বা তার সখীদের সহ তাকে গান বা আবৃত্তি ধীরে ধীরে শোনাবে।
যখন শরৎ বা বসন্ত কালে আসে, পৃথিবী যখন চাঁদের আলো আর মন্দ মধুর বাতাসে ভেসে আসে, তখন নিরালায় প্রেমিকাকে ফুলের মালা গন্ধদ্রব্য উপহার দিবে।
তার সঙ্গে মিষ্ট সুরে নানা কথা বলবে।
এইভাবে নানা কাজের মাধ্যমে বুঝতে হবে যে নায়িকার মন টলেছে কি না।

নায়িকার প্রেমের লক্ষণ

নারীর কাম্য পুরুষের সঙ্গে দেখা হলে সে মুখের দিকে তাকায় না। যদি হঠাৎ কখনো দেখা হয় তাহলেও সে মাথা নামিয়ে নিয়ে চলে যায় বা আড়চোখে তাকায়। তবে মনের প্রেম জানাবার জন্য সে হয়ত কাপড় ঘুরিয়ে পরার অছিলায় দেহের অংশ যেমন স্তন, কাঁধ বা বগল নায়ককে দেখাতে পারে। এটি তাকে আকর্ষণের জন্যে।
যদি নারী দেখে যে তার প্রেমের মানুষটি তাকে ঠিক দেখতে না পেয়ে অন্যমনস্কভাবে চলে যাচ্ছে, তখন নারী দূর থেকে তার দিকে অজ্ঞাতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
যদি প্রেমিক কোনও কিছু জিজ্ঞাসা করে, নারী ধীরভাবে কিন্তু সংক্ষেপে তার জবাব দেয়। নায়িকা কেবলই তার কাছে কাছে থাকতে চায়-যদি নায়ক কোনও সময় একটু দূরে থাকে তা হলে নায়িকা তার আত্নীয়ের সঙ্গে কথা বলে -কিন্তু আড়চোখে নায়কের দিকে তাকায়।
সে নায়কের কাছ থেকে সরতে চায় না-কোন সামান্য বিষয়ের অজুহাতে বা কোনও অছিলা ধরে নায়কের সঙ্গে কথা বলতে সে আগ্রান্বিত হয়।
হয়তো সখীদের চুল নিয়ে তা গোছাতে গোছাতে প্রেমাস্পদের কাছে সময় কাটায়।
যে প্রেমিকের বন্ধুদের ওপর বিশ্বাস রাখে-তাদের প্রতি সম্মানসূচকভাবে কথা বলে। প্রেমিকের পরিচারকের কথা মন দিয়ে শোনে-তার সঙ্গে নিজের পরিচারকের মত ব্যবহার করে থাকে। নায়কের সঙ্গে নানা খেলা করতে চায়-যেমন তাস, পাশা ইত্যাদি- অবশ্য একটু পরিচয় হলে এটি হয়।
নায়ক কোনও বস্তু নায়িকার কাছে গচ্ছিত রাখতে দিরে সে তা বেশ যত্ন সহকারে রেখে দেয়।
বেশভূষা করলেই নারী চায় তার প্রেমাস্পদকে সেই সব বেশভূষা দেখাতে।
ঐ নায়ক যদি তার বেশভূষার প্রশংসা করে, তাতে সে মহাখুশী হয়।
যদি নায়ক বেশভূষার প্রশংসা না করে-তবে সে মনে করে তা মোটেই ভাল হয়নি। সে পরে সেই বেশ পরতে চায় না। নায়কের প্রতি বিরূপ মনোভাবও আসতে পারে।
নায়ক যদি তাকে কোনও বেশ বা অলংকার উপহার দেয়, নায়িকা সেগুলি পরিধান করে বাইরে বা কোনও উৎসবে যেতে খুব ভালবাসে।
যদি তার নিজের বাড়িতে অপর কোনও ভদ্রলোকের সঙ্গে তার বিয়ের কথাবার্তা হয়, তখন সে ভারি বিষণ্ন হয়ে ওঠে যাতে ও বিয়ে না হয় বা ভেঙ্গে যায়। আর এ বিয়ে যাতে না হয় সেই চেষ্টা করে। এছাড়া নায়ককে দূর থেকে দেখলে, তার কন্ঠস্বর শুনলে বা গান শুনলে সে খুব খুশী হ’য়ে ওঠে।
এ সময় সে বেশ হাসিখুশী থাকে।
অন্য সময়ে দূরে থাকলে সে কি যেন চিন্তা করতে থাকে।
যদি কোনও লোক নায়কের কোনও গুণের প্রশংসা করে, তবে নায়িকা খুশী হয়।
নায়ক কোন বড় পরীক্ষায় পাশ করলে বা কোন উচ্চ সম্মান লাভ করেছে শুনতে পেলে নায়িকা খুবই খুশী হয়ে ওঠে।
নায়ক কোনও অন্যায় কাজ করেছে শুনলে, সে তা প্রায় বিশ্বাস করে না-তবু সে মনে মনে বিষন্ন ও দুঃখিত হয়ে ওঠে।
নায়িকার মনোভাব বুঝে চালচলন ও কাজকর্ম করা নায়কের উচিত। তার ভালবাসার নায়িকাকে বিয়ে করার জন্যে সর্ব প্রকারে চেষ্ট ও যত্ন করবে।
বাৎস্যায়ন আরও বলেন্তবাল্যের বন্ধুকে বাল্যের খেলার মাধ্যমে বিয়ে করা উচিত। যুবকদের উচিত, যৌবন সুলভ কাম ক্রিয়ার সব চিহ্ন দেখলে সেই যুবতীকে লাভ করার জন্যে সর্ব প্রকার চেষ্টা করে। আর বর্ষীয়সীদের উচিত তাদের বিশ্বস্ত সখীদের মাধ্যমে পুরুষকে লাভ করা।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About ফারজানা হোসেন