cool hit counter
Home / অজানা তথ্য / বায়োমেট্রিক পদ্বতিতে আংগুলের ছাপে সিম নিবন্ধন করা লাগবে না…

বায়োমেট্রিক পদ্বতিতে আংগুলের ছাপে সিম নিবন্ধন করা লাগবে না…

আংগুলের ছাপে অনেকেই সিম নিবন্ধন করতে রাজি নন,অনেকেই বলাবলি করছেন দরকার হলে সিম ব্যাবহার করবেন না কিন্তু বায়োমেট্রিক পদ্বতিতে সিম নিবন্ধন করবেন না,প্রতিনিয়ত এই বিষয় নিয়ে আমরা অনেক মেসেজ পেয়ে থাকি তাই আজকের এই কলাম টি তুলে ধরলাম. মুল বিষয়ে যাবার আগে আপনাদেরকে পুর্বের কিছু বিষয় অবশ্যই জানতে হবে তাই এই কলামটি দুটি ভাগে বিভক্ত করা হলো,প্রথম ভাগে পুর্বের বিষয় এবং দ্বিতীয় ভাগে আজকের মুল বিষয় থাকছে. প্রথম ভাগঃ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে যারা ব্যবসা করে যায় তাদের কাছে আপামর জনসাধারনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে ভাবলাম। বিশ্বাসের জায়গাতে জুয়া চলবেনা। এয়ারটেলের ডাটাবেস হইতে সব আঙ্গুলের ছাপ ভারতীয় ইন্টেলিজেন্সের কাছে যাবেনা তার গ্যারান্টি কি? কিংবা জিপির হাত ধরে ইউরোপ, আমেরিকা? ভাবুন, প্যারিস হামলার পর অবিস্ফোরিত বোমায় কোন বাঙ্গালীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেল। ভাবুন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর বদৌলতে কোন আন্তর্জাতিক জংগী সংগঠনের সাথে বাংলাদেশের একটা মেলবন্ধন কোন বিদেশী পত্রিকার হেডলাইন হল…ফ্যান্টাসি মনে হচ্ছে? বাদ দেন।

বায়োমেট্রিক

বায়োমেট্রিক পদ্বতিতে আংগুলের ছাপে সিম নিবন্ধন

খালি ভাবুন, মিথ্যা আসামীকে বাঁচানোর জন্য সত্য প্রমাণ খুঁজতে গিয়ে উকিলগণের চুল ছিঁড়ার মুহূর্তে বাদী পক্ষের উকিল একটা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে আসলেন (ক্রয় মারফত); ভাবুন, যে তল্লাটে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হোক অথবা সত্য মামলাতেই হোক যেখানে মিথ্যা আসামী ধরে জেলে ভরার একটা তুমুল কম্পিটিশন সেখানে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আঙ্গুলের ছাপের ডাটাবেস নিয়ে বসে আছে… ভাবতে বিরক্ত লাগছে?-বাদ দেন। চলুন ফ্যাক্ট দেখি কয়েকটা… মিডিয়া মারফত আমরা ইতিমধ্যেই জানি বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের ইতিহাসে বাংলাদেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয় দেশ হিসাবে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে! রাষ্ট্রীয়ভাবে এধরনের একটা ভুল সিদ্ধান্ত কোন দেশ প্রথম নিয়েছিল তা জানতে ইচ্ছা হয়? আমারও ইচ্ছা হল, ঘেঁটে চমকপ্রদ তথ্য পেলাম। এই দুর্ঘটনা প্রথম ঘটায় কোন দেশ- অনুমান করেন তো দেখি কোন মাথামোটারা এই কার্য সাধন করেছিল? সমঝদার মানুষের জন্য ইঙ্গিতই যথেষ্ঠ, তবুও বললাম, ২০১৩ তে পাকিস্তান এই ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ডিজিটাল বোকাচোদা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। বোঝার ব্যাপার একটাই, ব্যক্তি হিসাবে না ভেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাবার চেষ্টা করুন। সরকারি ডাটাবেসের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া আর কোন বেনিয়া মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেটের কাছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা দেওয়ার মধ্যে ফারাকটুকু বুঝতে পারলেই খেল খতম। সরকারের কাছে একটাই আরজি, অপরাধ দমনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অবশ্যই জরুরী বিষয়। প্রয়োজনে ন্যাশনাল আইডি রিনিউইয়াল হিসাবে সরকারি উদ্যোগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা নেওয়া হোক। অপরাধ নিধন চাইলে অপরাধীর ভেরিফিকেশনের দায়িত্বটা রাষ্ট্রের হাতেই বর্তাক। ন্যাশনাল আইডি দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন হলে তো প্রাথমিক শনাক্তকরণ হয়েই যায়। মোবাইল মাধ্যমে কোন ক্রাইম হলে তার সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্টের কি সম্পর্ক? ভয়েস কলে কি অপরাধী ফিঙ্গারপ্রিন্ট রাইখা আসবে কি? কথা সহজ, কোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়া চলতে থাকা কিছু বেনিয়া মাল্টিন্যাশনাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এই ভয়ানক ডাটাবেস করতে দিয়ে রাষ্ট্রের এবং তার নাগরিকদের মাথার উপর ছড়ি ঘুরাতে দেওয়া যাবেনা।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট একজন মানুষের চূড়ান্ত লেভেলের প্রাইভেট, এ জিনিস লিফলেট বানাইয়া বেচার জন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া হয়তো ঠিক হবে না, অনেকেই রাজি না। **** আপনাদের সামনে আমি ছোট্ট একটি উদাহরণ উপস্থাপন করছি,বিদেশে যাবার জন্য অনেকেই ঢাকায় আসেন এবং কিছু প্রয়োজনে তাদের পাসপোর্ট কিংবা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি অথবা স্কানিং করতে হয়,এই ডকুমেন্ট গুলো কিন্তু সেখানে অনেক সময় থেকে যাই.অনলাইনে অনেক কাজেই এসব ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়,অনেকেই এসব ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে ফ্রিল্যান্সিং বিভিন্ন সাইটে আইডি খুলে ব্যাবসা করে. এসব ডকুমেন্টস দিয়ে কেউ যদি কোন অঘটন ঘটায় তার দায়ভার কিন্তু অপরাধী কে নিতে হবে না,এই দায়ভার থাকে ব্যাক্তির উপর,আপনার একটি ডকুমেন্টস দিয়ে কেউ আমেরিকা থেকে একটি পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড নিয়ে আসলো এবার এই কার্ড দিয়ে অবৈধ লেনদেন করলো,তাহলে দায়ভার কিন্তু আপনারই.আশা করি বিষয়টি হয়তো বুঝতে পারছেন **** বিঃদ্রঃ সরকারের সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে সবসময় চিরধার্য,আমরা এটা অবশ্যই মানবো তবে এই বিষয়টি নিয়ে আরো একটু ভাবা উচিত ছিলো বলে অনেকেই মনে করেন. আমি আবারো বলছি আমরা রাষ্ট্রের নাগরিক আমাদের ডাটাবেজ রাষ্ট্রের কাছেই থাকুক. আমার ছোট মাথায় যেটা আসলো আমি সেটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম. তবে এই সিদ্ধান্ত অব্যহত থাকলে নিদিষ্ট সময়ের ভিতরে সবাই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করে ফেলবেন কারণ রাষ্ট্র অবশ্যই আমাদের ক্ষতি চাইবে না. হাইকোর্টের রুল এবং মাননীয় মন্ত্রী মহাদয়ের বক্তব্যঃ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ) সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দায়ের করা রুল কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাংলালিংক ও টেলিটকের এক চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ কথা জানান টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। তারানা হালিম বলেন, ‘ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

 

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

কুকুরের কামড়ে

কুকুরের কামড়ে পেটে কী আসলেই বাচ্চা হয়?

কুকুর নামটি শুনলেই আমাদের অনেকের মনে একটি বিশেষ ভীতি কাজ করে। ভীতির অন্যতম কারণ হচ্ছে …