cool hit counter

বহেড়া খান আয়ু বাড়ান !

ত্রিফলার অন্যতম ফল বহেড়া। লোকশ্রুতি আছে, বহেড়া ভেজানো এক কাপ পরিমাণ পানি নিয়মিত পান করলে দীর্ঘায়ু হওয়া যায়। সুদীর্ঘকাল ধরে এর বীজ, ফল, বাকল প্রভৃতি নানা রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। এখানে এর কিছু গুণাগুণ উল্লেখ করা হলো।

বহেড়া

বহেড়া গাছ

বহেড়া এক ধরনের ঔষধি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম “Terminalia belerica”। এই ফলের আরেক নাম বিভিতকি, তবে বহেড়া নামেই বেশি পরিচিত। এই গাছের জন্ম ভারতবর্ষে। কথিত আছে,হিন্দু ধর্মের দেবরাজ ইন্দ্র অমৃতের সন্ধানে যখন সমুদ্র মত্থন করেছিলেন,সেই সময় এক ফোঁটা অমৃত পৃথিবীতে পড়ে যায়। আর সেই অমৃতের ফোঁটা হতেই বহেড়া গাছের জন্ম।

 

বহেড়ার পরিচিতি

গাছের নাম: অক্ষ বা বহেড়া Beharda

স্থানীয় নাম: বয়ড়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Terminalia balerica

ব্যবহার্য অংশ: ফল ও বাকল

গাছের বিবরণ ও পরিচয়:

বহেড়া গাছ উচ্চতায় ৬০-১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় অর্থাঁৎ খুবই বড় গাছ। গাছের গুড়িও অনেক লম্বা। শীত কালে এর ফল পুষ্ট হয়, তারপর নিজ থেকেই গাছ থেকে খসে পড়ে।

এ গাছের ফল দু’রকমের হয়-এক প্রকার গোল, আরেকটি ডিম্বাকৃতির। এর ফল ও ফলের শাস ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পড়ুন  রোজা রেখে পানিশূন্যতা রোধে যা করবেন! জেনে নিন

 

বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও গ্রামে এই গাছের দেখা মেলে। বহেড়া গাছ ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর বাকল ধূসর ছাই রঙের। পাতা কাঁঠাল পাতার মতো মোটা, লম্বায় প্রায় ৫ ইঞ্চি। এর ফুল ডিম্বাকৃতির প্রায় ১ ইঞ্চির মতো লম্বা। কাঁচা পাকা বহেড়া ফলের রঙ সবুজ থাকে। পেকে গেলে লাল যার। পর শুকিয়ে ক্রমশ বাদামী। ফলের বাইরের আবরন মসৃণ ও শক্ত এবং ভেতরে একটি মাত্র শক্ত বীজ থাকে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের ভেতর এর ফল পেকে যায়।

 

এ ফলের খোসা ভালো করে গুঁড়ো করে পানির সাথে মিশিয়ে দিনে দুইবার খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হবে। বহেরা পিষে গরম ঘি মিশিয়ে আবার গরম করে খেলে সর্দি-কাশি নিরাময় হয়। প্রতিদিন সকালে বহেড়ার গুঁড়ো মেশানো পানি খেলে আমাশয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। বহেড়া বীজের শাঁস দুই ঘণ্টা অন্তর চিবিয়ে খেলে হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কৃমি দূর করতেও বহেরা বেশ উপকারী। ডায়রিয়া হলে বহেড়ার খোসা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। নিদ্রাহীনতা দূর করতে বহেরা চমৎকারভাবে কাজ করে। বহেড়ার বিচির শাঁসে তেল থাকে। এ তেল দিয়ে শ্বেতী স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া শরীরের নানা রোগ নিরাময়ে বাহেড়া বেশ উপকারী।

পড়ুন  মন ভালো করার উপায়

 

বহেড়ার প্রাপ্তিস্থানঃ

আমাদের দেশের কোন কোন অঞ্চল এবং ভারতের ছোটনাগপুর, বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে প্রধানতঃ বহেড়া গাছ বেশি দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম, বাঁকুড়া ও বর্ধমানের শালবনেও বহেড়া গাছ প্রচুর জন্মে। উত্তোলণের সময়: শীতের প্রাক্কালে ফল সংগ্রহ করা হয়।

আবাদী/অনাবাদী/বনজ: এই গাছটি সাধারনতঃ বনজ জাতীয় গাছ।

চাষাবাদের ধরণ: গ্রীষ্মকালে বহেড়া গাছে ফুল আসে। তারপর হয় ফল। সেই ফল পুষ্ট হয় শীতের প্রাক্কালে। তারপর আপনা আপনি ঝরে পড়ে। এই গাছ রোপনের দরকার হয়না। পতিত জমির ধারে, জমির আইলে এটি আপনা আপনি জন্মে।

অন্যরা যা খুঁজছেনঃ

আরো অনেকে খুজেছে
বহেরা; বহেড়া; বহেরা; বহেরা গাছ; ক্ষুধামন্দা; বহে; বহেরা ফল; বহেরা কি; বহেরা জৌন কাজ; বহেরা উপকারিতা; বহেরা গুণাগুণ; বহেড়া দেবরাজ; বহেড়া; বহ; ঘরে বসে আমাশয় প্রতিকার; লিংগ বর হবা ঔষধি গাছের নাম; বহেড়া; বহেরা ফলের; যৌনশক্তির উপকারি ঔষধি ফল বহেরা;

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।