cool hit counter

২৪ বছরের নিচে লম্বা হতে পারে যে কেউ ই

বাংলাদেশে ছেলেদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি আর মেয়েদের ক্ষেত্রে গড় উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট ২। সাধারনত বলা হয়ে থাকে যে ১২ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত ছেলেরা লম্বা হয় আর মেয়েরা ১২ থেকে ১৬ (অনেক ক্ষেত্রে ৯ বছর থেকেই মেয়েরা লম্বা হয়, তবে সেটা ব্যতিক্রম)। সঠিক ভাষায় বলতে গেলে বলা উচিত পিউবার্টি পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা লম্বা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পিউবার্টি কি ? অনেকেই এই শব্দটা শুনে থাকলেও বা এর সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকলেও এর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অনেকেরই নেই। মূলত পিউবার্টি হচ্ছে মানুষের (ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ) জীবদ্দশার একটি ধাপ যেই ধাপে গ্রোথ হরমোন ( HGH hormone ) প্রচুর পরিমাণে নিঃসরন হয় এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ের শারীরিক বৃদ্ধি ও পরিবর্তন সাধিত করে। এই পিউবার্টির সময়েই ছেলে-মেয়ে সম্পুর্নতা লাভ করে এবং পিউবার্টি শেষ হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ই শারীরিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। যাই হউক, আমরা শারীরিক অন্যান্য বৃদ্ধি বাদ দিয়ে শুধু মাত্র লম্বা হওয়ার বিষয়টি নিয়েই এখানে আলোচনা করব। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে মেডিকেল সাইন্স অনুযায়ী পিউবার্টির পরে শারীরিক বৃদ্ধি (সোজা কথায় লম্বা হওয়া ) সম্ভব নয় । সাধারনত ছেলেদের ক্ষেত্রে পিউবার্টি শেষ হয় ১৭ বছর বয়সে আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তা শেষ হয় ১৫ বছয় বয়সে (কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১-২ বছর কম বা বেশী হতে পারে) । কিন্তু তবুও অনেক অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে পরিমিত ঘুম, সঠিক খাদ্য গ্রহন এবং কিছু ব্যায়াম এর মাধ্যমে পিউবার্টির পরেও লম্বা হওয়া ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পক্ষেই সম্ভব। আমরা সে বিষয়টি নিয়েই এখানে কথা বলব।

লম্বা

২৪ বছরের নিচে লম্বা হতে পারে যে কেউ ই

প্রথমে আমাদের জানতে হবে ঠিক কোন কোন বিষয় গুল একটি মানুষের উচ্চতা নির্ধারন করে (এখন থেকে আমি নিচে যা যা উল্লেখ করব তার সবকিছুই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য, যেসব বিষয় ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হবে )। উচ্চতার ক্ষেত্রে প্রথম যেই বিষয়টি কাজ করে তা হচ্ছে ১. জিনেটিক্স , তারপর ২. খাওয়া দাওয়া এবং ৩. ঘুম। যাদের বাবা – মা র উচ্চতা কম (এবং বাবা-মা উভয় ক্ষেত্রেই লম্বা কোন আত্মীয় নেই ) তাদের দিক থেকে জিনেটিক্স এর বিষয়টি বাদ। আসলে যাদের ক্ষেত্রে জিনেটিক্স অনেক সাহায্য করেছে লম্বা হওয়ার জন্য তাদের জন্য আমি এই লিখাটি লিখছি না। যেহেতু আমরা জিনেটিক্স এর বিষয়ে কিছু করতে পারব না কাজেই এই টপিক টি এখানেই বাদ দিয়ে দিচ্ছি। আর বাকি থাকল খাওয়া দাওয়া আর ঘুম। আমরা নিজেরা যেই বিসয়গুল নিয়ন্ত্রন করতে পারি শুধু মাত্র সেই বিষয়গুলোই এখানে উল্লেখ করা হবে। মনে রাখতে হবে যে পরিমিত ঘুম, সঠিক মাত্রায় আহার এবং ব্যায়াম এর মাধ্যমে আমরা ২ ইঞ্চি এবং অনেক পরিস্রম করলে ৪-৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারি।
আমার মূল আর্টিকেল এখান থেকে শুরু, এতক্ষন ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। দুঃসংবাদ হচ্ছে পুরো বিষয়টি বুঝতে হলে আপনাদেরকে আরও অনেক সময় ব্যায় করতে হবে এবং আরও দুঃসংবাদ হচ্ছে ২ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার জন্যই আপনাকে প্রায় ৩-৪ মাস ধৈর্য্য ধরে আমার রুটিন মেনে চলতে হবে। যেসব মানুষেরা আরও বেশী স্রম দিবে এবং ৯ মাস এর সময় ব্যায় করতে প্রস্তুত তারা ৪-৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারবেন। তবে আপনাকে অবশ্যই আমার রুটিন অনুসরন করতে হবে। আবারও বলছি, যেহেতু জিনেটিক দিক থেকে আপনি তেমন অনূকুলতা পান নি, কাজেই সেই অসুবিধা দূর করতে হলে আপনাকে অনেক অনেক শ্রম দিতে হবে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনাদের শ্রম যেন কম হয় সেই বিষয়ে নজর রাখার, তবে বিষয়টা যেন এমন না হয় যে প্রথম ১-২ সপ্তাহ খুব উদ্যম নিয়ে শুরু করলেন আর ৩য় সপ্তাহে সব শক্তি খুইয়ে একদম নিঃশেষ। তাহলে আপনার লম্বা হওয়া আজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে। তাহলে মূল কথায় আসি।

 
আগের সব কথা ভুলে যান (শুরুর কথা) এখন নতুন করে মনযোগ দিন। আপনার বয়স পিঊবার্টির ও অনেক অনেক পরে এবং আপনি জিনেটিক দিক থেকে তেমন সুবিধা পান নি জেনেই এই আর্টিকেল টি লিখা। কাজেই লম্বা হওয়ার জন্য যেই বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে ঃ
১। সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ন হচ্ছে – ঘুম
২। তারপরেই – খাওয়া দাওয়া
৩। সবশেষে – ব্যায়াম ।
আমরা একে একে সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

১। ঘুমঃ
আপনার লম্বা হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেই বিষয়, তা হচ্ছে ঘুম। নিয়মিত ৮ ঘন্টা ঘুম হচ্ছে প্রধান শর্ত। আপনি যদি নিয়মিত ৮ ঘন্টা ঘুমাতে না পারেন তাহলে হাজার খেয়ে বা ব্যায়াম করেও কোন লাভ হবে না। কাজেই অন্য বিষয়গুলো শুরু করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনি ঠিক ভাবে ঘুমাচ্ছেন কি না। বাঙ্গালী রা সাধারনত অন্যান্য উন্নত দেশ এর মানুষ থেকে অনেক কম সময় ঘুমায়। উন্নত দেশ গুল যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া , আমেরিকার মানুষজন রাত জাগা কি জিনিস তা জানেই না। তারা সাধারনত রাত ৮ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরে এবং ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে। কখনোও কি খেয়াল করেছেন উন্নত বিশ্বের মানুষজন অনেক বেশী লম্বা হয়ে থাকে? তার মূল কারণটাই হচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা। কাজেই এখন থেকে মনে রাখবেন, যদি লম্বা হতে চান অন্তত রাত ১০ টার আগেই শুয়ে পড়ার অভ্যাস করতে হবে এবং ভোর ৬ টায় উঠতে হবে। আপনি যদি আরও দেরী করে ঘুমাতে চান, সমস্যাই নেই। তবে নিশ্চিত করে নিন যে আপনার ৮ ঘন্টা ঘুম হচ্ছে কি না। যদি ১২ টায় ঘুমান তাহলে সকাল ৮ টায় উঠা হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন তাহলেই হবে। উল্লেখ্য ৮ ঘন্টার বেশী ঘুম হলে ক্ষতি নেই, তবে ৮ ঘন্টা যেন অন্তত ঘুম হয়। কোন কোন দিন ৮ ঘন্টার কম ঘুম হতেই পারে। তবে সেটা মনে নিয়ে হতাশ হয়ে রুটিন বাদ না দিয়ে সেই দিন টাকে হিসাবের বাইরে রেখে দিন। শুধু সেই দিন টাকে আবার অভ্যাস এ পরিণত না করলেই হবে। ঘুম যে মানুষের জন্য কত জরুরী তার একটা বাস্তব উধাহরন দেয়া যেতে পারে। জন্মের পর একটি ছোট্ট শিশু মাত্র ২-৩ মাসেই কত বড় হয় লক্ষ্য করেছেন ? তার প্রধার কারন হচ্ছে ঘুম (আর দুধ, খাওয়ার বিষয়টি পরে বলা হবে ) আরও একটি বাস্তব উদাহরন দেয়া যেতে পারে। আপনি আমার এই আর্টিকেল টি পড়ার পরেই আপনার উচ্চতা মেপে দেখবেন তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে নিজের উচ্চতা মেপে দেখবেন। অবশ্যই আপনার উচ্চতা আগের চেয়ে ১ ইঞ্চি বেশি পাবেন। আপনি নিজেই এই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আসলে আমরা সবসময় ই আমাদের সত্যিকারের উচ্চতা থেকে ১ ইঞ্চি খাটো হয়ে থাকি। এর কারন হচ্ছে অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রভাবে আমাদের মেরুদন্ডের হাড় গুল সংকুচিত হয়ে থাকে যা ঘুমের সময় প্রসারিত হয়ে যায়। আর এই জন্যই ঘুম থেকে উঠলে আমরা একটু ১ ইঞ্চি বেশী লম্বা হয়ে থাকি। পরে আবার সারাদিন অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রভাবে আমাদের ওই ১ ইঞ্চি উচ্চতা সঙ্কুচিত হয়ে আসে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। আরও মজার কথা হচ্ছে, একটি মানুষ অনেক লম্বা তার কারন শুধু এটা নয় যে তার হাড় গুল অনেক বড়। একটি মানুষের লম্বা হওয়ার পেছনে তার বড় হাড় থেকেও মজার যেই বিষয়টি কাজ করে তা হচ্ছে প্রতি হাড় এর মধ্যে ফাঁকা স্থান। লম্বা মানুষদের হাড় গুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান অবশ্যই বেশী। কাজেই লম্বা হওয়ার জন্য আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে হাড় এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ও পাশাপাশি হাড় এর মাঝখানে দূরত্ত বৃদ্ধি। যদি কোন কারন আমরা হাড় এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে অসমর্থ ও হই , হাড় এর মাঝখানে দূরত্ব বৃদ্ধি করেও ১-২ ইঞ্চি লম্বা হওয়া সম্ভব। যাই হউক, হঠাৎ অন্য প্রসঙ্গে চলে আসলাম। আসল কথা হচ্ছে ৮ ঘন্টা ঘুম এর কোন বিকল্প নেই। আপনি আগে নিশ্চিত করুন ৮ ঘন্টা ঘুম হচ্ছে কি না, তারপরে বাকি অংশগুলো পড়ুন।
এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে। ঘুমটি অবশ্যই নিরবিচ্ছিন্ন হতে হবে। ঘুম এর প্রথম ২ ঘন্টা পর থেকেই HGH hormone নিঃসরণ শুরু হয়। কাজেই অবশ্যই অবশ্যই ঘুমটি একদম নিরবিচ্ছিন্ন হতে হবে। আপনার ঘুম নিয়ে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে তা উল্লেখ করে আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব সাহায্য করার। এছাড়াও কিভাবে ভালভাবে ঘুমান যায়, অথবা অনিদ্রাজনিত সমস্যা অথবা ঘুম এর মাঝখানে বারবার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে হলে আমি “কিভাবে ভালভাবে ঘুমাব?” নামক একটি আর্টিকেল লিখেছি। সেখান থেকে সহায়তা নিতে পারেন।

 

২। খাওয়া দাওয়া ঃ
খাওয়া দাওয়া , ঘুম এর মতই লম্বা হওয়ার একটি পূর্ব শর্ত। আপনি দৈনন্দিন ৮ ঘন্টা ঘুমালেন অথচ ঠিকভাবে খাওয়া দাওয়া করলেন না। তাহলে আপনার লম্বা হওয়ার প্রচেষ্টার এখানেই ইতি। এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরী যে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নাস্তা অবশ্যই জরুরী। নাস্তা অবশ্যই ভালমত হওয়া চাই। যেসব মেয়েরা ডায়েট কন্ট্রোল করেন তাদের খেত্রেও সমান ভাবে সকালে ভরপেট নাস্তা করা জরুরী। সকালে ভরপেট নাস্তা করা ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করে। মেয়েরা সবাই সাধারণত বিষয়টা জানে তারপরেও যারা জানে না তাদের জন্য বলে দিলাম। সকালে ভরপেট নাস্তা করলে মেয়েদের ওজন বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই বরং তা ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
দৈনিক ৩ টি বড় বড় ডিশ এর বদলে যদি ৫-৬ টি ছোট ছোট ডিশ এ খাবার এর রুটিন ভাগ করে ফেলা যায় তাহলে আরও ভাল। মনে রাখা জরুরী, কখনোই কোন সময় এর খাবার বাদ দেয়া যাবে না। এতে করে গ্রোথ হরমোন বাধা প্রাপ্ত হয় এবং তা আপনার জন্য ক্ষতিকর হবে। আপনি যদি এতদিন ধরে নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া না করে থাকেন, আজকে থেকেই পণ করে ফেলুন যে আজকে থেকে আপনি ঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া করবেন, আর অবশ্যই কোন সময়ের খাবার বাদ দেয়া যাবে না। একটি বিশেষ সময়ের খাবার বাদ দিলে পরবর্তীতে বেশী খাওয়ার চাহিদা জন্মে যা অনেক ক্ষতিকর ।
এখন আসা যাক কি কি খাবেন আর কি খাবেন না, তার আগে আমি একটু উন্নত বিশ্বের দিকে আবারও তাকাতে চাই। উন্নত বিশ্বের মানুষজনের জীবনযাত্রা আমাকে কখনোই আকর্ষন করে না তবে তাদের খাওয়া দাওয়া ঘুম এর বিষয়টি অনুসরনযোগ্য – এজন্যই এগুল উল্লেখ করা। উন্নত বিশ্বের মানুষেরা সাধারণত কার্বোহাইড্রেট কম খায় (বা খায় ই না) । কার্বহাইড্রেট হচ্ছে শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, পেপ্সি,কোক আলু, রুটি, আটা জাতীয় খাবার ইত্যাদি । উন্নত বিশ্বের মানুষজন প্রোটিন (আমিষ) জাতীয় খাবার বেশী খায় যেমন – মাংস, মাছ ইত্যাদি। এছাড়া ফল, দূগ্ধজাত খাদ্য, শাক-সব্জি তারা প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বের মানুষজনের খাবারের কথা বলা হল। এই বিষয়টি মনে রেখে এবার নিচের অংশগুল পড়ুন ।
লম্বা হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেই বিষয়টি তা হল গ্রোথ হরমন বা HGH hormone এর নিঃসরণ। এ কথাটি আগেই একবার বলেছি। আর এই গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ এর জন্য সঠিক খাবার এর ভূমিকা অপরিসীম (ঘুম ও গুরুত্বপূর্ণ, তবে সে বিষয় শেষ করেই আমরা এসেছি) কি কি খাবার খাবেন এবং কি কি খাবার খাবেন না তা নিচে একে একে উল্লেখ করা হচ্ছে ঃ

ক. কার্বোহাইড্রেট ঃ
বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান সোজা কথা সাউথ এশীয়ান মানুষদের প্রধান খাদ্যই হচ্ছে কার্বহাইড্রেট। আর এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক কথা। এমন একটা খাবার ই আমাদের প্রধান খাদ্য যা গ্রোথ হরমোন নিঃসরন এর ক্ষেত্রে বড় বাঁধা। মানুষ যখন কার্বহাইড্রেট খায় তখন তা হজম করার জন্য পাকস্থলী তে ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসরণ হয় যার ক্রিয়া কাল ২ ঘন্টা ধরে থাকে। আর যতক্ষন ইনসুলিন হরমোন থাকে ততোক্ষণ পর্যন্ত পিটুইটারী গ্ল্যান্ড গ্রোথ হরমোন কে নিঃসৃত হতে বাঁধা দেয় যার অর্থ এই দাঁড়ায় যে যতক্ষন ইনসুলিন থাকবে ততোক্ষণ শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসরন হবে না আর যতক্ষন শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসরন হবে না ততোক্ষণ শরীরের বিভিন্ন হাড় পর্যাপ্ত পরিমাণ বাড়তে পারবে না। কাজেই ইনসুলিন এর নিঃসরন বন্ধ করতে হবে আর তা কেবল সম্ভব কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থেকে। কাজেই আমরা কি এখন থেকে ভাত ? রুটি না খেয়ে থাকব ? অবশ্যই না। আমরা ভাত, রুটি সব ই খাব। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সাথে যেন প্রোটিন বা ক্যালসিয়াম জাতীয় (সবুজ শাকসবজি) কিছু থাকে, এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল। আরও ভাল হয় যদি ঘুমের ২ ঘন্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা যায়। কারন রাতের খাবারে যদি কার্বহাইড্রেট থাকেও , তাহলেও ইনসুলিন তৈরী হয়ে ২ ঘন্টা পরে আবার তা বন্ধ হয়ে যাবে আর ঠিক সেই সময়টাতেই আপনি ঘুমুতে যাচ্ছেন। কাজেই ঘুমুতে যাবার সময় গ্রোথ হরমোন এর নিঃসরণ হতে আর কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। আর পেপসি, কোক, সেভেন আপ এ প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই খাবার গুল না খাওয়াই ভাল। মূলত বেশীরভাগ দেশেই কার্বহাইড্রেট জাতীয় খাবার ই প্রধান খাবার । কারন এগুল পরিমাণে অনেক বেশি হয়ে থাকে এবং দামে সস্তা হয়ে থাকে। কাজেই কার্বহাইড্রেট একেবারেই বাদ দেয়া উচিত নয়, বরং লক্ষ্য রাখতে হবে সাথে প্রচুর পরিমাণে আমিষ আর সবুজ শাক-সবজি আছে কি না ।

খ. ক্যালসিয়াম ঃ
আমাদের হাড় তৈরী ই হয় ক্যালসিয়াম দ্বারা । আর লম্বা হওয়ার জন্য হাড় এর বৃদ্ধি খুব ই জরুরী। আর এজন্যই ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন অপরিসীম। দেখা গেল, আপনি ঠিকভাবে ঘুমুচ্ছেন, কার্বহাইড্রেট পরিমিত খাচ্ছেন এবং আপনার শরীরে গ্রোথ হরমোন ও নিঃসৃত হচ্ছে অথচ দেহে পরিমিত কার্বহাইড্রেট না থাকার ফলে আপনার হাড় এর যেই বৃদ্ধি টা হত তা আর হচ্ছে না । কাজেই ক্যালসিয়াম এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমি দুঃখিত যে সবকিছুর গুরুত্বই আমি অপরিসীম বলছি। আসলে সত্যি কথা বলতে কি , সবকিছুর সমন্বয়েই আপনি ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক উপায়ে বেড়ে উঠবেন। আমরা শুধু সেই প্রাকৃতিক উপায়টিক সাহায্য করছি মাত্র। এক্ষেত্রে কোনোটির ই গুরুত্ব কম নয়।
ক্যালসিয়াম পাবেন যে কোন সবুজ শাকসবজি তে। কাজেই প্রচুর সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। যেমন ঃ ভেন্ডী, কলমী শাক, পালং শাক (যেটা খেয়ে পাপাই শক্তি পেত) , ফুলকপি ইত্যাদি। দুধ এও প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। আর এজন্যই জন্মের প্রথম ৬ মাস বাচ্চাদের কে দুধ খেতে বলা হয়। কারন দুধ এর মধ্যে একই সাথে ভিটামিন ডি আর ক্যালসিয়াম আছে যা শরীর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
যাদের বয়স ৯ থেকে ১৮ (ছেলে ও মেয়ে উভয়েই) তাদের জন্য দৈনিক ১৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। আর যাদের বয়স ১৯ এর উপরে তাদের জন্য ১০০০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।
কোন কারনে আপনার যদি মনে হয় ক্যালসিয়াম আপনার দৈনিক কম খাওয়া হচ্ছে আপনি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। সাপ্লিমেন্ট এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আপনার দৈনন্দিন খাবারের অভাব পূরন করতেই সাপ্লিমেন্ট এর আবির্ভাব । যে কোন ফার্মেসী তে গিয়ে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট চাইলেই পেয়ে যাবেন । এটি খুবই সহজলভ্য, ভিটামিন ট্যাবলেট এর মতই খাবেন। ওষুধ এর গায়েই লেখা থাকবে একটি ট্যাবলেট এ কি পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে । সেটা দেখেই আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার কয়টি ট্যাবলেট খেতে হবে ।

গ.ভিটামিন ডি ঃ
ভিটামিন ডি মজবুত হাড়, পেশী র গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে । আপনি দৈনিক যেই পরিমাণ ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন তা শরীরে হজম করার জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। দৈনিক সাধারণত ১২০০ আই.ইউ (IU) ভিটামিন একজন মানুষের দরকার হয় আর কখনোই যেন ২০০০ আই.ইউ র বেশী ভিটামিন খাওয়া না হয়। ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে পাবেন সামুদ্রিক মাছ এ। সব ধরনের মাছ এবং মাছের ঝোলেই ভিটামিন ডি রয়েছে। কাজেই প্রচুর মাছ খেতে হবে। এছাড়াও দুধ এ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি রয়েছে। ভিটামিন ডি এর সাপ্লিমেন্ট ও একই উপায়ে ফার্মেসী থেকে কিনে খেতে পারেন। সাধারণত যারা জিম করে তারা ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকে ।

ঘ.পানি ঃ
এতো কিছু বলে ফেললাম। অথছ পানির কথাই বলা হল না। আপনি যে এতো খাবার খাচ্ছেন, এতো ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন, ভিটামিন ডি খাচ্ছেন এই সবগুল শরীরে ভালভাবে হজম হওয়ার জন্য পানির কোন বিকল্প নেই। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক ৩-৪ লিটার পানির প্রয়োজন। পানির খেত্রেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে কারণ আপনি যা যা খাচ্ছেন তা শরীরে ভালভাবে হজম করতে হলে এবং রক্তের সাথে ভালভাবে মিশার জন্য পানির প্রয়োজন। কাজেই পানির বিষয়টি ও খেয়াল রাখতে হবে
যাই হউক। অনেক অনেক কথা বলে ফেল্লাম। আমার নিজের ই মনে হচ্ছে আর্টিকেল টি অনেক বড় হয়ে গেছে। আপনারা অবশ্যই জানাবেন কমেন্ট বক্সে আর্টিকেল টি কেমন হয়েছে, কারন আপনাদের মতামত এর উপর ভিত্তি করেই আমি আপনাদের জন্য নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করব। এখন আসব ব্যায়াম এর বিষয়টি। এই এতক্ষন যা যা বললাম তা আপনার লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে ৬০ ভাগ কাজে দিবে। বাকি ৪০ ভাগ কাজ করবে ব্যায়াম। আপ্নারা একটু বিস্রাম নিয়ে আসুন কারন আমি চাই ব্যায়াম এর অংশটি আপনারা আবার নতুন করে উদ্যম নিয়ে পড়েন।

ব্যায়ামঃ
প্রচুর পরিশ্রমের মাধ্যমে HGH hormone প্রচুর পরিমাণে ট্রিগার্ড হয়, এমন পরিশ্রম যা আপনার শরীরের ঘাম ঝরায় এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। আর HGH hormone যত বেশী ট্রিগার্ড হবে আপনার লম্বা হওয়ার রাস্তা তত বেশী পরিস্কার হবে। ব্যায়াম শুধু যে লম্বা হতে আপনাকে সহায়তা করবে তাই নয়, ছেলেদের ক্ষেত্রে এই ব্যায়াম গুল যৌন-শক্তি বৃদ্ধি করবে, সোজা কথায় সঙ্গম কে দীর্ঘস্থায়ী করবে আপনার ইজাকুলেশন(বীর্যপাত আটকে রাখা) ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে । আর মেয়েদের ক্ষেত্রে লম্বা হওয়ার পাশাপাশিও স্লিম রাখতে ও ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করবে। যারা মোটামুটি বিভিন্ন জিম এ ইয়োগা করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যায়াম গুল অবশ্যই পরিচিত।

 

সতর্কতাঃ
আমি অনেককেই দেখেছি প্রথম ১-২ সপ্তাহ খুব উদ্যম নিয়ে ব্যায়াম শুরু করতে এবং পরবর্তীতে ক্লান্ত হয়ে ব্যায়াম ছেড়ে দিতে। কাজেই ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে ব্যায়াম শুরু করলে যদি ছেড়েই দিতে হয় তাহলে ব্যায়াম শুরু করা টা আসলে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিদিন ২০-২৫ মিনিট করে ৬ দিন ব্যায়াম করা টা খুব একটা কষ্টকর হওয়ার কথা নয়। আরও কিছু ব্যায়াম আছে যা আপনি টিভি দেখতে দেখতেও করতে পারেন। যাই হউক প্রধান সতর্কতা হচ্ছে লম্বা হওয়া আসলে খুব একটা সহজ কাজ নয়। আপনি ২ ইঞ্চি লম্বা হতে চান অথচ সেই জন্য কোন ধরনের পরিশ্রম করতে রাজি নয় তাহলে হবে না। আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। কাজেই ধৈর্য্য ধরতে হবে। কোন কোন দিন ব্যায়াম না হলে সমস্যা নেই, এক্ষেত্রে নিরাশ হয়ে ব্যায়াম ছেড়ে না দিয়ে সেই দিন গুলো কে “ছুটির দিন” ভেবে পরের দিন থেকে ঠিকভাবে ব্যায়াম করুন। লক্ষ্য রাখলেই হবে যেন ব্যায়াম বাদ দেয়া টা আপনার রুটিন এ পরিণত হয়। ভাত খাওয়া, ঘুমানো টা যেরকম অভ্যাস এ পরিণত করেছেন এই ব্যায়াম টিকে সেভাবে অভ্যাস এ পরিণত করলে সবচেয়ে মঙ্গল। তখন ই আপনার কাছে লম্বা হওয়ার প্রক্রিয়াটি মজাদার হবে। মনে রাখতে হবে, প্রচুর ধৈর্য্য ধারন করতে হবে। আর প্রথম ১ মাস ই যা কষ্ট। এরপর আপনার ই সব কিছু অভ্যাস হয়ে যাবে। আর প্রথম ১ মাস ঠিক ভাবে ব্যায়াম করলে আপনি ১ ইঞ্চির মত লম্বা হতে পারবেন। এবার তাহলে শুরু করা যাক।

লম্বা হওয়ার ব্যায়াম প্রধাণত ৩ প্রকার ঃ
১. স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ (Stretching Exercise)
২. লেগস এক্সারসাইজ (Legs Exercise)
৩. সাঁতার, সাইক্লিং ও ঝুলে থাকা
আগে থেকেই বলে রাখছি, ব্যায়াম লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করে, আর বাকি ৬০ ভাগ কাজ করে খাওয়া দাওয়া ও সঠিক খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে। আর ব্যায়াম করতে হলে দৈনিক ৪৫ মিনিট খুবই কষ্টসাধ্য ব্যায়াম করতে হবে (সকালে ২৫ মিনিট আর রাত্রে ২০ মিনিট) ব্যায়াম এর রুটিন নিয়ে খুব শিঘ্রই আমরা সাত দিনের মধ্যে আপনাদের কাছে আসব। এই পর্যন্ত ভাল থাকবেন। আর জানাবেন অবশ্যই আমাদের এই লিখা টি আপনাদের কেমন লাগল। আমাদের চেষ্টায় যদি আপনাদের উপকারে আসতে পারি তবেই আমাদের সার্থকতা।লম্বা হওয়ার জন্য সবথেকে ভাল ব্যায়াম কী? জেনে নিন

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।