cool hit counter
Home / মা ও শিশুর যত্ন / বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান সেইসব মায়েরা সাধারণত যেসব প্রশ্ন করেন

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান সেইসব মায়েরা সাধারণত যেসব প্রশ্ন করেন

আমার শিশু দিনে কয়বার বুকের দুধ খেতে চাইতে পারে?

সব শিশুর ক্ষেত্রেই এটি আলাদা, এবং শিশু কীভাবে জন্ম নিয়েছে তার উপরও এটি নির্ভর করে। জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে একবার বুকের দুধ খেয়ে তার শুভসূচনা করার কথা। এরপর শিশুরা ঘুমিয়ে পড়তে পারে এবং পরে আবার  দুধ খেতে চাইলে আপনাকে বিভিন্নভাবে সংকেত দেয়ার চেষ্টা করবে। এই সংকেতগুলো হচ্ছেঃ

* ঘুম থেকে উঠে নড়াচড়া করা শুরু করবে
* চারপাশে মাথা ঘোরাবে
* কোন একটা কিছু (বেশীরভাগ সময়ই আঙ্গুল) নিয়ে চোষা শুরু করবে

বুকের দুধ

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান সেইসব মায়েরা সাধারণত যেসব প্রশ্ন করেন

নার্স শিশুকে নিয়ে আসার সাথে সাথে তাকে এমন ভাবে বুকে নিন যাতে আপনার ত্বক তার শরীরের ত্বকের সংস্পর্শে আসে। এতে সে শান্ত হয়ে আসে। যতক্ষন না সে খেতে চাইছে তাকে ওইভাবে বুকের সাথে ধরে রাখুন। প্রথম ছয় মাস সে ২-৩ ঘণ্টা পর পর দিনে ৮-১০ বার করে বুকের দুধ খেতে চাইবে। কিন্তু জন্মের ৩য় ও ৬ষ্ঠ সপ্তাহে এবং ৩য় মাসে সে দিনে ১০-১২ বার করে খেতে চাইবে কারণ এ সময়গুলোতে তাদের বৃদ্ধির হার বেশি থাকে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ মাসে শিশু দিনে ৪-৫ বার করে বুকের দুধ খেতে চাইবে।
কীভাবে বুকের দুধ চেপে রাখবেন? জেনে নিন
বুকের দুধ শিশু “খেতে চাইলেই খেতে দেয়া” কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নবজাতকের পাকস্থলী একটা মার্বেলের সমান হয়, তাই তাদেরকে ‘অল্প করে বার বার’ বুকের দুধ খেতে হয়। এ কারণে বাচ্চা খেতে চাইলেই তাকে খেতে দেয়াটা জরুরি। আপনার শিশু একবার ভাল করে খাওয়ার একটু পরেই আবার ক্ষুধার্ত হয়ে পড়তে পারে। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্নভাবে খাওয়ার প্রবণতা দেখায়। তারা যখনই খেতে চায় তখনই তাদেরকে খেতে দিলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টির সরবরাহ করা নিশ্চিত হয়।

বুকের দুধ প্রতিবার কতক্ষণ করে খাওয়ানো উচিত?

প্রতিটি শিশুই আলাদা। কেউ কেউ অল্প করে বার বার খেতে চায় আবার কেউ কেউ অনেকক্ষণ ধরে খায়। শিশুকে প্রথমে একটি স্তনের দুধ খাইয়ে শেষ করুন, তারপর আরেকটি স্তন তার মুখে দিন। যদি বাচ্চা সারাক্ষণ খেতে থাকে এবং আপনার তাতে দুশ্চিন্তা হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর ২০-৪৫ মিনিট ধরে খাওয়ার কথা।

বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কিনা তা বুঝব কি করে?

আপনার বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে বুঝতে পারবেন, যদি

* তার ওজন নিয়মিত হারে বাড়তে থাকে
* দু’বার খাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে সে সন্তুষ্ট থাকে
* ঠিকভাবে গিলতে পারে (তার ঢোক গেলার আওয়াজ খেয়াল করে শুনুন)
* আপনার স্তন বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে শক্ত ও ভারি এবং খাওয়ানোর পর তুলনামুলকভাবে নরম মনে হয়।
* শিশুর নিয়মিত পায়খানা হয়

জেনে নিন মায়ের বুকের দুধ সম্পর্কে ১২টি অজানা তথ্য
জন্মানোর ৫ দিন পরে শিশুর কমপক্ষে ৩ বার পায়খানা হবে, এবং ৬-৮টি ডায়াপার ভেজাবে। তবে বড় হতে থাকার সময় সে পর পর কয়েকদিন পায়খানা না করেও থাকতে পারে।

শিশুকে কতদিন বুকের দুধ খাওয়াবো?

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে অন্যকোন খাবার ছাড়া শুধুমাত্র বুকের দুধ খাইয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর যতদিন আপানার শিশু চায় ততদিন তাকে অন্যান্য খাবারের সাথে সাথে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি শিশুর ২ বছর বয়স বা তারও পর পর্যন্ত তাকে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যেতে পারেন।

শিশুকে যে কয়দিন বুকের দুধ দিবেন সে কয়দিনই আপনার ও শিশুর জন্য ভাল। কতদিন বুকের দুধ খাওয়াবেন তা আগেভাগে ঠিক করে নেয়ার দরকার নেই। অনেক মা-ই কাজে ফিরে গিয়ে বা আবার
পড়াশোনা শুরু করার পরও শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে থাকেন।

স্তন থেকে বের করে রাখা দুধ কতক্ষণ ভাল থাকে?

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, বুকের দুধ যত বেশি সময় আপনি সংরক্ষণ করবেন, এমনকি তা ফ্রিজে রেখে করলেও, তত বেশি তা থেকে ভিটামিন সি কমতে থাকবে এবং তার চর্বির গুনাগুন নষ্ট হতে থাকবে। সংরক্ষণ করে রাখা বুকের দুধ আপনার নবজাতকের চাহিদা মেটাতে পারলেও, সে যখন বড় হতে থাকবে তখন তার জন্য এটি যথেষ্ট হবে না।

আমাদের দেশের গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় বুকের দুধ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। প্রতিবার ১-৪ আউন্সের বেশি সংরক্ষণ করবেন না। এটি ফ্রিজে রাখলে তিন দিন পর্যন্ত ভাল থাকার কথা।

আমার শিশুর ওজন কী পরিমাণে বাড়ার কথা?

জন্মের প্রথম সপ্তাহে শিশুর ওজন তার জন্মের সময়ের ওজনের চাইতে ৮-১০% কমে যাবে। এরপর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে তার ওজন ৫-৭ আউন্স করে বাড়তে থাকবে, ১২-২৪ মাসের সময় প্রতি সপ্তাহে তার ওজন ২ আউন্স করে বাড়তে থাকবে।

বুকের দুধ দেয়ার সময় আমি কেমন খাওয়া-দাওয়া করব?

বুকের দুধ দেয়ার সময় আপনি যথাযথ খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে এবং ব্যায়াম করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওজন কমাতে পারেন। প্রচুর খাওয়ার দরকার নেই। আপনার শরীরের চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখুন এবং খিদে লাগলে খান। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, মাছ (সামুদ্রিক মাছ নয়), এবং উপকারি চর্বিযুক্ত খাবার খান। আপনার শিশু ঘন ঘন বুকের দুধ খেলেও আপনি বাড়তি ক্যালরির চাহিদা একটা কলা বা আপেল অথবা পিনাট বাটার দিয়ে এক স্লাইস রুটি খেয়েও মেটাতে পারেন।

যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তারা সাধারণত যেসব মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ দেন না তাদের চাইতে এক লিটার পানি বেশি খান। তাই যখনই তেষ্টা পাবে তখনই পানি খান, এতেই আপানার পানির চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা।

বুকে দুধ তৈরির পরিমাণ বাড়াতে পারি কী করে?

* শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ দেয়া শুরু করুন, এমনকি যদি সে নাও খেতে চায় তাহলেও আপনার শরীর তার শরীরের সংস্পর্শে থাকলে জন্মের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাওয়ানোর অভ্যেস তৈরি করাটা সহজ হয়।
* ঘন ঘন খাওয়ান – প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর।
* আপনার শিশু স্তন যত চুষবে, দুধ তৈরির পরিমাণ তত বৃদ্ধি পাবে
* দুটি স্তন থেকেই শিশুকে খাওয়ান। আপনার শিশু যদি একটি স্তন থেকে দুধ খায়, অন্যটি থেকে খেতে না চায় তাহলে সেটির দুধ চেপে বের করে রেখে সংরক্ষণ করুন।
* বুকের দুধ খাওয়ানোর রুটিনের ব্যতিক্রম করবেন না। যদি আপনি শিশুকে খাওয়াতে না পারেন তাহলে স্তন থেকে দুধ চেপে বের করে রাখুন, তাতে দুধ তৈরির পরিমাণ ঠিক থাকবে।
* যেসব ওষুধের কারণে দুধ তৈরি হওয়া কমে যায় সেগুলো খাবেন না। কোন ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন।

বুকের দুধ দেয়ার সময় কোন ওষুধগুলো পরিহার করা উচিত?

এসময় যেসব ওষুধ খেতে পারবেন তার মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফেন (ibuprofen); ওমিপ্রাজোল (omeprazole) এবং এসোমেপ্রাজোল (esomeprazole)-এর মত আলসারের ওষুধ (তবে, রেনিটিডিন (ranitidine) খাবেন না); উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, যেমনঃ মেথিলডোপা (methyldopa), ল্যাবেটালোল (labetalol), ক্যাপটোপ্রিল (captopril); কৃমির ওষুধ, যেমন আল্বেনডাযোল (albendazole) ও মেবেনডাযোল (mebendazole)।

অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনিসিলিন খাওয়া এসময় নিরাপদ তবে যদি দেখেন যে আপনার শিশুর গায়ে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে তাহলে দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখুন এবং বিকল্প ওষুধ ঠিক করুন, কারণ এগুলোতে
শিশুর অ্যালার্জি থাকতে পারে। সেফট্রিওয়াক্সন (ceftriaxone)-এর মত সেফালোস্প্রিন (Cephalosporin) জাতীয় ওষুধ নিরাপদ মনে করা হয়, তবে এর কারণে শিশুর পায়খানার অভ্যেস পরিবর্তিত হতে পারে – তার পায়খানা পাতলা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল করুন।

যেসব ওষুধ খাবেন না তার মধ্যে রয়েছে, ক্লোরামফেনিকল (chloramphenicol), সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (ciprofloxacin), ডক্সিসাইলিন (doxycycline) এবং মেট্রোনিডাযোল (metronidazole)। আপনি যদি টিবি প্রতিরোধক কেমোথেরাপি (anti-TB chemotherapy) নিতে থাকেন তাহলে তার কোর্স সম্পূর্ণ করাটা জরুরী। চিকিৎসা সম্পূর্ণ করাটাই আপনি আপনার শিশুর দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে না দেয়া নিশ্চিত করার সবচেয়ে ভাল উপায়। যক্ষার সব ধরনের ওষুধ বুকের দুধ দিচ্ছেন এমন মায়েদের উপযোগী এবং এগুলো সেবন করার সময় আপনি দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন। শিশুকে আইসোনিয়াজাইড প্রোফিলাক্সিস এবং BCG-এর টিকা দিয়ে রাখা উচিত এবং এবং তার জন্ডিস হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

আপনি যদি খিঁচুনি প্রতিরোধক বা বিষণ্ণতার ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে, এটি বন্ধ করা বা বদলে দেয়া কঠিন হতে পারে তাই এমন অবস্থায় শিশুর ঝিমুনি আসছে কিনা বা অন্য কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখুন। অ্যামিট্রিপ্টিলাইন (amitriptyline)-জাতীয় বিষণ্ণতার ওষুধ দিনে ১৫০ মিলি গ্রাম পর্যন্ত নিরাপদে সেবন করা যায়।

যেসব মায়েদের ডায়াবেটিস আছে তারা নিশ্চিন্তে ইন্সুলিন এবং গ্লিবেঙ্কলামাইড (glibenclamide) নিতে পারেন, তবে এসময় শিশুর রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে তার যেন হাইপোগ্লাইসেমিয়া (hypoglycaemia) না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য। হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লেভোথাইরক্সিন (Levothyroxin) এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রোপিলথিউরাসিল (propylthiouracil) গর্ভকালীন সময়ে খাওয়া নিরাপদ। যেকোনো ধরনের টিকা নিরাপদ এবং এগুলোর জন্য কোন বিধি-নিষেধ নাই।

বুকের দুধ কম? জেনে নিন সমাধান

আমার বাচ্চা বুকের দুধ খাচ্ছে না, আমি কী করতে পারি?

জন্মের ঠিক পর পর বেশিরভাগ বাবা-মা এই প্রশ্নটি করেন। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার শিশু যথা সময়ে খাওয়া শুরু করবে। পুরোটা সময় মায়ের শরীরের সাথে তার শরীর লাগিয়ে রাখুন। শিশুকে আপনার কাছে রাখুন এবং সে যখন প্রস্তুত হবে তখন সে বুকের দুধ চুষে খাওয়া শুরু করবে। কোনমতেই জোর করবেন না।

জন্মের ১২-২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও শিশু বুকের দুধ খাওয়া শুরু না করলে তা মায়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসময় ফিডারে করে খাওয়ানোর বদলে স্তন থেকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম; colostrum) চেপে বের করে আঙ্গুলে নিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। যদি আপনার শিশু বেশিক্ষণ ধরে বুকের দুধ না খায়, কিন্তু নিয়মিত প্রস্রাব-পায়খানা করে তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এসময় ফর্মুলা মিল্ক বা চিনি মেশানো পানি খাওয়ানো শুরু করবেন না। এগুলোর কোন দরকার নেই এবং এতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি বেশি হয়।

লেখক: Dr. Kazi Mashfia Fardeen
Medical Consultant

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

নিপল

নিখুঁত নিপল তৈরির সাধনা…

টোকিওর কাছে ১৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকায় পিজন কর্পোরেশনের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে কাজে মগ্ন …