cool hit counter
Home / খাদ্য খাবার / এলার্জিমুক্ত গরুর দুধ উৎপাদনে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সফল হলেন!

এলার্জিমুক্ত গরুর দুধ উৎপাদনে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সফল হলেন!

দুধ

দুধ হল স্তন্যপায়ী প্রাণীর(মাুনষের দুধ, গরুর দুধ) দুগ্ধগ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একপ্রকার সাদা তরল। অন্যান্য খাদ্যগ্রহণে সক্ষম হয়ে ওঠার আগে এটিই হল স্তন্যপায়ী শাবকদের পুষ্টির প্রধান উৎস। স্তন থেকে দুগ্ধ নিঃসরণের প্রাথমিক পর্যায়ে শাল দুধ উৎপন্ন হয় যা, শাবকের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
গুরুর দুধ

দুধে পরিপূর্ণ স্তন এবং শূন্যপ্রায় স্তন থেকে নিঃসৃত দুধের নমুনা

গবাদি পশু থেকে জাত দুধ হল মানুষের একটি প্রধান খাদ্য। কাঁচা দুধের পুষ্টির পরিমাণ বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও তাতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আবার গরুর দুধ হল সামান্য অম্লজাতীয়

মানুষের খাদ্য হিসেবে দুধ

আধুনিক ডেয়ারি শিল্পে সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রজাতি হলস্টাইন গবাদি পশু
যদিও ভিন্ন প্রজাতির দুধ গ্রহণ বা পান করা প্রকৃতিবিরুদ্ধ কাজ, তবুও বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতে শৈশব উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও মানুষ অন্যান্য প্রাণীর (মূলতঃ গরু, ছাগল, ভেড়া, ইত্যাদি গবাদি পশুর) দুধ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। বহু সহস্রাব্দ ধরে মানুষ গরুর দুধ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তা থেকে মাখন, দই, আইসক্রিম, ইত্যাদি প্রস্তুত করে এসেছে। এছাড়াও আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আরও বিভিন্ন প্রকারের দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।

 

প্রাণিজগতে মানুষেরাই হল একমাত্র ব্যতিক্রম যারা ল্যাকটোজ নামক শর্করার প্রতি সহ্যমাত্রা সামান্য কম (৫%-এরও কম) থাকা সত্ত্বেও শৈশবোত্তীর্ণ কালেও দুগ্ধপান করে থাকে। ল্যাকটোজ শর্করাটি পরিপাক করার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক ল্যাকটেজ জন্মের পর ক্ষুদ্রান্ত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণে ক্ষরিত হয় এবং নিয়মিত দুগ্ধপান না হলে ক্রমশঃ এর ক্ষরণ হ্রাস পেতে থাকে।ভারত হল বিশ্বে সর্বোচ্চ পরিমাণে গবাদি পশু ও মহিষের দুধের উৎপাদক এবং গ্রাহক

একটি গ্লাসভর্তি পাস্তুরায়িত গরুর দুধ

একটি গ্লাসভর্তি পাস্তুরায়িত গরুর দুধ

 

সমগ্র বিশ্বে ৬০০ কোটিরও বেশি দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের গ্রাহক রয়েছে এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলির নাগরিক। প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ গোপালক পরিবারে বসবাস করে। ২০১০ সালে বিশ্বের গব্যখামারগুলি থেকে ৭২ কোটি টন দুধ উৎপন্ন হয়। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদক এবং গ্রাহক হয়েও দুধ আমদানি বা রফতানি করে না। নিউজিল্যান্ড, ই ইউ-১৫ এবং অস্ট্রেলিয়া হল বিশ্বের তিন বৃহত্তম দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য রফতানিকারী দেশ। চীন, মেক্সিকো এবং জাপান হল বিশ্বের তিন বৃহত্তম দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য আমদানিকারী দেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পুষ্টি বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় দুধের অবদান সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। পালিত পশু, ডেয়ারি প্রযুক্তি, দুধের গুণগত মান, ইত্যাদির উন্নতিসাধন সারা বিশ্বে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

একটি স্তন্যপানরত মানবশিশু

একটি স্তন্যপানরত মানবশিশু

গরুর দুধ অনেক শিশুই খেতে পারে না তীব্র এলার্জি দেখা দেয়ার কারণে। একটি হিসাবে বলা হয়েছে, গড়ে ১.৫ শতাংশ শিশুর গরুর দুধে এলার্জি হয়। গরুর দুধের বেটাল্যাকটোগ্লোবিউন না বিএলজি নামের একটি আমিষ মূলত এ এলার্জি সৃষ্টি করে।

জেনে নিন মায়ের বুকের দুধ সম্পর্কে ১২টি অজানা তথ্য

 

মাতৃদুগ্ধ পানরত একটি ছাগশিশু

মাতৃদুগ্ধ পানরত একটি ছাগশিশু

এবার নিউজিল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী গরুর জিনে রদবদল ঘটিয়ে বিএলজিমুক্ত দুধ উতপাদন করতে পেরেছেন। ফলে তারা মনে করছেন, এলার্জির কারণে দুধ পান না করার বিষয়টি হয়ত শিগগিরই কল্পকাহিনীতে পরিণত হবে।

নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনের এজি রিসার্চ সংস্থার গবেষক স্টিফেন ওয়াগনার এবং তার সহযোগীরা এ গবেষণাটি চালান। প্রথমে তারা বিএলজি’র উতপাদন বন্ধ করে দিতে সক্ষম একটি জিন কাঠামো তৈরি করেন। এই জিন কাঠামো কোষের নিউক্লিয়াসে পুরে দেন গবেষক দলটি।
আধুনিক ডেয়ারি শিল্পে সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রজাতি হলস্টাইন গবাদি পশু

আধুনিক ডেয়ারি শিল্পে সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রজাতি হলস্টাইন গবাদি পশু

এরপর তারা এ কোষকে সরিয়ে নেন গরুর ডিম্বানুতে। একে নিষিক্ত করা হয় এবং তা গাভীর গর্ভে স্থাপন করেন গবেষক দলটি। গাভীটি নির্দিষ্ট সময় পরে একটি স্বাস্থ্যবান মাদী বাছুর প্রসব করে। তবে বাছুরটির কোনো লেজ ছিল না; যা বিজ্ঞানীদের বেশ কৌতূহলী করে তোলে।

গরুর দুধ পানে হজমে সমস্যার পাঁচ সমাধান

এ বাছুরকে হরমোন দিয়ে দ্রুত দুগ্ধবতী করে তোলা হয়। এ দুধ বিশ্লেষণ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন গবেষক দল। কারণ দুধে বিএলজি নামের সেই এলার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান সত্যিই নেই। এ ছাড়া, গরুর দুধে আর যে সব আমিষ থাকে তার পরিমাণও স্বাভাবিক দুধের তুলনায় বেশি দেখতে পান গবেষকরা।

অবশ্য অতিরিক্ত আমিষের উপস্থিতির কারণে এ দুধ বেশি স্বাস্থ্যকর হবে কিনা সে কথা নিশ্চিত করতে পারেননি গবেষক দলটির প্রধান স্টিফেন ওয়াগনার। তিনি বলেন, বাড়তি আমিষযুক্ত এ দুধ হয়তো ছানা বা পনির বানানোর কাজে লাগবে। সাধারণ দুধের তুলনায় বিএলজিমুক্ত দুধ খেতে আরো মজা কিনা তাও এখনো বলা সম্ভব হয়নি। কারণ আইনে জেনেটিক রদবদল করা দুধ খাওয়া এখনো নিষিদ্ধ।

গবেষক দলটি বলেছেন, বিএলজিমুক্ত গরুর দুধ যে প্রক্রিয়ায় উতপাদন করা গেছে একই পদ্ধতিতে উতপাদন করা যাবে হরমোন বা অ্যান্টিবডিসমৃদ্ধ দুধ। এ জাতীয় দুধ চিকিতসায় ব্যবহার করা যাবে। তবে এ ধরণের কোনো পরীক্ষায় নামার আগে আগের বাছুরটিকে আরো ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাছুরটি কেনো লেজ ছাড়া জন্মেছে তখন হয়ত সে রহস্যেরও সুরাহা হবে। অবশ্য এতসব পরীক্ষা চালানোর জন্য বাছুরটিকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় দিতে হবে। সে সময়টুকু পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা।

দুধ-আনারস একসাথে খেলে কী হয় জেনে নিন ?

গরুর দুধের অসাধারণ কয়েকটি গুণ

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রধান অংশই থাকে গরুর দুধ। শিশু থেকে বড়দের প্রায় সবারই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে দুধ। এছাড়া গরুর দুধ দিয়ে নানা ধরণের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা হয়ে থাকে। আসুন দেখে নেই গরুর দুধের কয়েকটি উপকারিতা-

১. গরুর দুধ দেহ শক্তিশালী ও মন তরতাজা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
২. আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভে গরুর দুধ সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে।
৩. গরুর দুধ ভোক্তাকে দীর্ঘায়ু লাভে সাহায্য করে। দুধপান যৌবনও ধরে রাখে।
৪. মেধা ও মনন শাণিত করতে গরুর দুধের জুড়ি নেই। এ কারণে দুধের বিজ্ঞাপনে শিশুদের মেধা শাণিত করার কথা তুলে ধরা হয়।
৬. গরুর দুধ অবসাদ ও বিষণ্নতা দূর করে। দিনমান কাজ শেষে এক গ্লাস দুধ মুহূর্তেই ফুরফুরে করে তুলতে পারে মন-মেজাজ।
৭. মাথা ঘোরা, দেহে বিষাক্ততা, শ্বাসকষ্ট, কাশি, তীব্র তৃষ্ণা ও ক্ষুধা, অনেক দিনের জ্বর দূরীকরণে গরুর দুধ অত্যধিক কার্যকর।
৮. নারীর রক্তপাত বন্ধে গরুর দুধের জুড়ি নেই।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

বাদাম

বাদাম খেলে কি শরীরের ওজন কমে?

প্রশ্নঃ আমি বাদাম খেতে ভালোবাসি। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে বাদাম খেলে নাকি ওজন কমে …