cool hit counter

ভাপা পিঠা দারুন মজা

প্রকৃতিতে শীত চলে এসেছে। শহরে তেমন শীত না লাগলেও, গ্রামে গাছপালার মাঝে শীতটা ঠিকই ঝেঁকে বসতে শুরু করেছে। শীতকালে অন্যান্য খাবারের চাইতে ভাপা পিঠার ধুম পড়ে যায় চারদিকে।পিঠার সাথে নবান্নের আমেজও থাকে। আর এই ধুমটা যদি হয় শীতের ভাপা পিঠা খাওয়ার তাহলে তো কোন কথায় নেই।

ভাপা পিঠা

ভাপা পিঠা দারুন মজা

 

পিঠা একটি মুখরোচক উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য। এটি চালের গুড়া, আটা, ময়দা, অথবা অন্য কোনও শষ্যজাত গুড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন এবং আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণতঃ নতুন ধান উঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়। শীতের সময় পিঠার বাহারি উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। মিষ্টি, ঝাল, টক বা অন্য যে কোনও স্বাদ হতে পারে।

ভাঁপা পিঠা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা যা প্রধানত শীত মৌসুমে প্রস্তুত ও খাওয়া হয়। এটি প্রধানতঃ চালের গুড়া দিয়ে জলীয় বাষ্পের আঁচে তৈরী করা হয়। মিষ্টি করার জন্য দেয়া হয় গুড়। স্বাদ বৃদ্ধিবর জন্য নারকেলের শাঁস দেয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে এটি একটি গ্রামীণ নাশতা হলেও বিংশ শতকের শেষভাগে প্রধানত শহরে আসা গ্রামীন মানুষদের খাদ্য হিসাবে হিসাবে এটি শহরে বহুল প্রচলিত হয়েছে। রাস্তাঘাটে এমনকী রেস্তরাঁতে আজকাল ভাঁপা পিঠা পাওয়া যায়।

 

নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠার মজাই আলাদা। জেনে নিন তিন ধরনের ভাপা পিঠার রেসিপি।

দুধ পুলির ভাপা পিঠা

যা লাগবে

দুধ ২ লিটার, খেজুর গুড় আধা কাপ, চিনি ১ কাপ, ছানা আধা কাপ, এলাচ ৩টি, নারিকেল আধা কাপ, সুজি দেড় টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম কুচি আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ কাপ, লবণ ১ চা চামচ।

যেভাবে বানাবেন

* দুধ জ্বাল দিয়ে ১ লিটার করে চিনি, গুড় ও এলাচ দিন।
* কড়াইয়ে ঘি দিয়ে সুজি, নারিকেল বাটা, পেস্তা বাদাম, ছানা, চিনি ও অল্প গুড় দিয়ে অল্প আঁচে নাড়ুন। মাখা মাখা হলে নামান।

* একটু লবণ দিয়ে গরম পানিতে চালের গুঁড়া মাখান।
* ছোট করে লেচি বানিয়ে পুর ভরে পিঠার আকারে গড়ে নিন। অল্প আঁচে ঘন দুধের মধ্যে দিন।
* পুলি সেদ্ধ হয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

ধুপি পিঠা

যা লাগবে

চালের গুঁড়া ৪ কাপ, পানি পরিমাণমতো, নারিকেল কোরা ২ কাপ, খেজুরের পাটালি ৬০০ গ্রাম, ঘন দুধ ২ কাপ, সন্দেশ ২ কাপ, লবণ অল্প।

যেভাবে বানাবেন

* চালের গুঁড়া একটু লবণ দিয়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে মাখিয়ে জালিতে চেলে নিন।

* ঘন দুধেও সন্দেশ মিশিয়ে নিন। ছোট স্টিলের বাটিতে প্রথমে চালের গুঁড়ো এরপর নারিকেল দিন, তার ওপরে পাটালি দিন (ছোট করে ভেঙে নিন), তারপর দুধ-সন্দেশের মালাই দিন।

* এরপর চালের গুঁড়া দিন। পাতলা সাদা কাপড় দিয়ে পিঠাটা মুড়ে ভাপা পিঠার পাত্রের পানি ফুটে উঠলে তার ওপরে বসিয়ে দিয়ে স্টিলের বাটিটি উঠিয়ে নিয়ে পিঠাটা কাপড় দিয়ে ভালোমতো ঢেকে দিন।

* উপরে একটা ঢাকনা দিন। ১০ মিনিট পর পিঠা নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফুলকপির ভাপা পুলি

যা লাগবে

চালের গুঁড়ো ৪ কাপ, মাংস ১ কাপ (কিমা), চিংড়ি মাছ আধা কাপ, ফুলকপি ১ কাপ, আদা বাটা আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ বাটা ১ চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়ো আধা চা চামচ, তেল আধা কাপ, লবণ ১ চা চামচ।

যেভাবে বানাবেন

* চালের গুঁড়ো গরম পানিতে অল্প লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিন।

* কড়াইয়ে তেলে পেঁয়াজ কুচি বাদামি হলে আদা বাটা, মরিচ বাটা দিন। একটু কষিয়ে মাংসের কিমা ও চিংড়ি দিন। অল্প পানি দিন।

* পানি শুকিয়ে গেলে ফুলকপি কুচি দিন। কিছুক্ষণ ঢেকে রান্না করুন।

* তেল উপরে উঠলে ভাজা ভাজা করে কষিয়ে নিন। গরম মসলা দিয়ে নেড়ে নামিয়ে ফেলুন।

* এবার মাখা আটা দিয়ে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে ভেতরে পুর ভরুন।

* হাঁড়িতে পানি দিয়ে উপরে একটা স্টিলের জালি বসিয়ে তার ওপরে একটা পাতলা সাদা কাপড় বিছিয়ে নিন। পানি এমন পরিমাণ দিন যেন পিঠা না ছোঁয়, পানি ফুটে উঠলে পুলি দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন ১০-১৫ মিনিট।

এই শীতে গরম গরম ভাপা পিঠা

* নামিয়ে চাটনি বা সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।