cool hit counter
Home / স্বাস্থ্য পরিচর্যা / কানে তালা শীতের ঠান্ডায়

কানে তালা শীতের ঠান্ডায়

কানেকানে তালা শীতের ঠান্ডায়

Ear  Problem

শীতে ঠান্ডা লেগে হাঁচি ও সর্দিকাশির সঙ্গে অনেক সময় কানে তালা লাগার ঘটনাও ঘটে। কানে তালা মানে কান বন্ধ হয়ে থাকা, কিছু না শোনা। ব্যথাও হতে পারে।

এ বিষয়টি আবার একেবারে হালকাও নয়। এ থেকে মধ্যকর্ণে অর্থাৎ কানের পর্দার ভেতরের দিকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।

কাদের এ সমস্যা হতে পারে?

শিশুরা এ সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। এ ছাড়া যাদের ঘনঘন ঊর্ধ্বশ্বাসনালির প্রদাহ বা সংক্রমণ হয়, কাশি হয়, প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ হয় ও ক্রনিক টনসিলের প্রদাহ আছে এমন ব্যক্তিদেরও ঝুঁকি বেশি।

শিশুদের ক্ষেত্রে এডিনয়েড নামক লসিকা কোষগুচ্ছের আকার অতিশয় বেড়ে গেলেও এ সমস্যা দেখা দেয়।

উপসর্গ কী?

মধ্যকর্ণে প্রদাহ হলে ঠান্ডা সর্দিকাশির সঙ্গে হঠাৎ করেই কানে বেশ ব্যথা হয় ও কান বন্ধ মনে হয়। কানে কম শোনা যায়। মাঝেমধ্যে কানের মধ্যে ফড়ফড় শব্দ করে।
রোগ বেশি তীব্র হলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে কান বেয়ে রক্তমিশ্রিত পানি বা পুঁজ পড়তে পারে।

কানের সাধারণ সমস্যা ও প্রতিকার

বহিঃকর্ণের প্রদাহ

কানের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো বহিঃকর্ণে প্রদাহের সৃষ্টি হওয়া। যেকোনো বয়সেই এ সমস্যার উদ্ভব হতে পারে; তবে বাচ্চাদের এ সমস্যা বেশি হয়।

মূলত কানে ময়লা জমে যাওয়া এবং সেটা নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে বহিঃকর্ণে প্রদাহ দেখা দেয়। কানের খৈল বা ওয়াক্সের সঙ্গে ধুলাবালি জমেও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে।

ময়লা পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই কটনবাড ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কটনবাডে লেগে থাকা ময়লা কানে প্রবেশ করেও কানে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এ জন্য কটনবাডের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে খৈল নরম করে নেওয়াই শ্রেয়। এতে কানের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

 

মধ্যকর্ণের সমস্যা

১. কান পচা রোগ

বিভিন্ন কারণে কান পচা রোগ দেখা দিতে পারে। দুই ধরনের কান পচা রোগ আছে। একটি তুলনামূলক কম বিপজ্জনক, আরেকটি বেশি বিপজ্জনক। বেশি বিপজ্জনক কান পাকা রোগ দীর্ঘমেয়াদে আরো বড় সমস্যা করে এবং এ থেকে কখনো কখনো মৃত্যু ঘটাও অস্বাভাবিক নয়।

পানি বা অন্য কিছুর কারণে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে গেলে কান পচা রোগ দেখা দেয়। এ ছাড়া আমাদের কানের ভেতরে অবস্থিত ছোট ছোট হাড় আছে। সেগুলো ক্ষয় হয়ে গেলেও এ সমস্যা হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় মধ্যকর্ণে কলেস্টিটোমার উপস্থিতির কারণে। এটি এক ধরনের ক্ষতিকর অবাঞ্ছিত পাতলা আবরণ, যা মধ্যকর্ণে সৃষ্টি হয় এবং বাড়তে বাড়তে একসময় মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে এবং পরবর্তী সময়ে রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু ঠিক সময়ে অপারেশনের মাধ্যমে শ্রবণশক্তি ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এ ছাড়া কম বিপজ্জনক কান পচা রোগ (কলেস্টিটোমার উপস্থিতি ব্যতীত) বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধের মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। বাংলাদেশে সব ধরণের কান পচা রোগের চিকিৎসা করা হয়; দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এ কারণে কানে কম শুনতে পেলে বা কান দিয়ে দুর্গন্ধ বের হলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত, কোনোভাবেই বিলম্ব করা ঠিক নয়।

২. ওটোস্ক্লেরেসিস

ওটোস্ক্লেরেসিস সমস্যাটা কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে কানের অভ্যন্তরে যে ছোট ছোট হাড় আছে, সেগুলোর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়, নড়তে পারে না। ফলে শব্দ আর অন্তঃকর্ণ পর্যন্ত যেতে পারে না, তাই শুনতে সমস্যা হয়।

অন্তঃকর্ণের সমস্যা

শ্রবণশক্তি হ্রাস ও লোপ পাওয়া

কানের অভ্যন্তরে হিয়ারিং সেল নষ্ট হয়ে গেলে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি বার্ধক্যজনিত কারণে হয়। কানে সঠিকভাবে শুনতে পাচ্ছেন কি না তা বোঝার জন্য নিজে নিজেই কয়েকটি পরীক্ষা করতে পারেন।

এই যেমন সবার সঙ্গে টিভিতে কোনো অনুষ্ঠান দেখতে বসে বারবার টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দিতে বলছেন কি না কিংবা মিটিংয়ে একটু পেছনে বসে বক্তার আওয়াজ আপনার কানে ঠিকমতো এসে পেঁৗছাচ্ছে কি না ইত্যাদি।

এভাবে নিজেই কানের অবস্থা সম্পর্কে সজাগ থাকতে পারবেন। সমস্যা শুরু হবার আগেই বুঝতে পারবেন।শ্রবণশক্তি হ্রাস পেলে তা পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের হিয়ারিং অ্যাইড (শ্রবণসহায়ক যন্ত্র) সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শব্দদূষণের কারণে শ্রবণবৈকল্য

আমাদের কান একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরের শব্দের প্রতি সংবেদনশীল। শব্দের মাত্রা গ্রহণের জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ স্থান রয়েছে। স্থানগুলো হচ্ছে উচ্চমাত্রা গ্রহণের জন্য ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা-সংলগ্ন অংশ, মধ্যমমাত্রা গ্রহণের জন্য মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণের জন্য শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।

কী করা উচিত?

এ রকম সমস্যা দেখা দিলে প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ, প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। বয়স উপযোগী নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। সমস্যা না মিটলে জটিলতার আগেই একজন নাক কান গলার চিকিৎ সকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো।

কেন লাগে তালা?

কানের সঙ্গে গলার সংযোগ রক্ষা করে অডিটরি টিউব। মধ্যকর্ণ ও আবহাওয়ার বায়ুচাপের ভারসাম্য রক্ষা করে এ টিউব। টিউবটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যকর্ণে প্রদাহ দেখা দেয়।

এতে মধ্যকর্ণে তরল পদার্থের উপস্থিতি, পুঁজ সৃষ্টি, পুঁজের কারণে পর্দা ফুটো হয়ে তা কান দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে ইত্যাদি।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About Farzana Rahman

Check Also

জিহ্বা

জিহ্বা পুড়ে গেলে করনীয়

গরম খাবার খেতে গেলে অনেক সময় অসতর্কতাবশত জিহ্বা পুড়ে যায়। এতে জিহ্বা জ্বালাপোড়া করে। এই …