cool hit counter
Home / অজানা তথ্য / চুইংগাম কেমন করে বানানো হয় ?

চুইংগাম কেমন করে বানানো হয় ?

চুইংগামের ইতিহাস তো জানেন  (না জানলে এই পোষ্টটি পড়ে আসুন)। আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, চুইংগাম কীভাবে তৈরি করে। ঠিক আছে, এবার সেটাই বলছি।

চুইংগাম

চুইংগাম কেমন করে বানানো হয় ?

শুধু যে ম্যাসটিক গাছ, স্যাপোডিলা গাছ কিংবা স্প্রুস গাছের রস থেকেই যে চুইংগাম তৈরি করা হয় তা কিন্তু নয়। আমাজান উপত্যকার লিচ (Leche) কাসপি (Caspi) ও সর্ভা (Sorva), মধ্য আমেরিকার নিসপেরো (Nispero) ও টুনু (Tunu), ইন্দোনেশিয়া মালয় ও ব্রিটিশ বোর্ণিও এর জেলুতং (Jelutong) চুইংগাম উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পাইগাছের রসও চুইংগাম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে মানুষের তৈরি রেসিন ও মোম এর ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায় উপাদেয় চুইংগাম তৈরিতে। এছাড়া গাম-বেইজের সঙ্গে মেশানো হয় শস্যের সিরাপ তথা তরল, মিষ্টি ও সুগন্ধি উপাদান।

 

এ উপাদানগুলো গাম বেইজের সঙ্গে মিশানোর জন্য গাম-বেইজকে প্রথমে বাষ্প-জ্যাকেটযুক্ত কেটলিতে ২৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় গলানো হয়। এসময় এটা তরল মেপল সিরাপের মতো হয়ে যায়। এরপর ছাঁকনির সাহায্যে সিরাপকে ছেঁকে নিয়ে মিক্সার যন্ত্রে অন্যান্য উপাদান মেশানো হয়। এ পুরো পদ্ধতিতে গাম-বেইজকে উত্তপ্ত রাখা হয়। শস্য সিরাপ কিংবা গ্লুকোজ গামকে আর্দ্র ও চিবানোর জন্য আনন্দদায়ক করে তোলে এবং একই সঙ্গে নমনীয়তা ও স্থিতিস্থাপকতার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এরপর এ উত্তপ্ত তরল মিশ্রণকে যন্ত্রের সাহায্যে ঠাণ্ডা করা হয়। তারপর বিভিন্ন প্রকার ছাঁচের মাধ্যমে চুইংগামের বিভিন্ন রূপ দেয়া হয। শিট-রোলিং মেশিনে কেটে কোনো চুইংগামকে পাতলা শিটের রূপ দেয়া হয়, আবার অন্য মেশিনে কোনটার রূপ দেয়া হয় কিউব কিংবা বলের আকৃতির। তারপর চমৎকার প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা হয় আপনাদের জন্য।

 

ভালো-মন্দের চুইংগামঃ
চুইংগাম সম্বন্ধে তো এর আগে অনেক কিছুই জেনে ফেলেছেন। এবার একটু এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধেও জেনে নেন। মানুষ হাজার হাজার বছর হলো চুইংগাম চিবোচ্ছে। তারপরও কুসংস্কার আছে যে, চুইংগাম গিলে ফেললে তা ৭ বছর পর্যন্ত হজম না হয়েই নাড়িভুঁড়ির মধ্যে থেকে যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, চুইংগাম বেইজের সাথে নরম কারক উপাদান, সুগন্ধ, মিষ্টিকারক উপাদান এবং শস্য সিরাপ মিশিয়ে চুইংগাম তৈরি করা হয়। গাম অর্থাৎ চুইগাম বেইজ ছাড়া এর অন্যান্য সব উপাদানই মুখলালার সাথে দ্রবীভূত হয়ে যায়। তাই ৭ বছর ধরে গাম পেটের নাড়িভুঁড়ির মধ্য থাকার গল্প শুধুই কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। যদি ভুল করে গ্রাম চিবানোর পর গিলেও ফেলেন তা অন্যান্য বর্জ্যের মতোই জায়গা খুঁজে নেবে আপনার টয়লেটে। তবে চুইংগাম সম্পর্কে এই ধারণা মিথ্যে প্রমাণিত হলেও এটাও সত্যি যে, বেশি পরিমাণ চুইংগাম খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। পরিমিত চুইংগাম খাওয়ার উপকারিতা হলো, এটা মুখের লালা উৎপাদনের হার বাড়ায়, যা মুখের স্বাস্থ্য ও সতেজ নিঃশ্বাসের নিশ্চয়তা দেয়।

 

আর এদিকে এর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো, মিষ্টিহীন চুইংগামে ব্যবহৃত সর্বিটল, সিনামন ইত্যাদি সুগন্ধি ব্যবহারের কারণে মুখের ঘা হয়। আবার অতিরিক্ত চুইংগাম চিবানোর কারণে রক্তে পারদের উচ্চ হার, দাঁতের নানা রোগ প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একটু কুঝে শুনে চুইংগাম খাওয়া ভালো। কারণ চুইংগামের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ আপনার দেহের ক্ষতিই ডেকে আনে।

 

মনে রাখবেন, মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। তবে অল্প স্বল্প চুইংগাম খেলে ক্ষতির কিছু নেই।

লেখকঃ আবুল বাসার।
সম্পাদনায়ঃ জানা অজানার পথিক।

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

কুকুরের কামড়ে

কুকুরের কামড়ে পেটে কী আসলেই বাচ্চা হয়?

কুকুর নামটি শুনলেই আমাদের অনেকের মনে একটি বিশেষ ভীতি কাজ করে। ভীতির অন্যতম কারণ হচ্ছে …