cool hit counter

মহিলাদের সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া

সাদা স্রাব

মহিলাদের সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া

সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া কি?
মেয়েদের জরায়ু হতে সাদা, হলদে বা দুধের মত এক প্রকার তরলস্রাব নির্গত হয় যাকে প্রদর বা (Leucorrhoea) সাদা স্রাব বলা হয়। সাধারণত স্রাব শ্বেত বর্ণের হয়ে থাকে বলে ইহাকে শ্বেতপ্রদর বলা বলে। অনেক মহিলাদের বিয়ের আগে ও পরে এই রোগ হয়। কিন্তু অনেকে লজ্জায় বা অবহেলা করে নিজের নিকট তা লুকিয়ে রাখে। অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্বও দেয়না। তবে ইদানিং মহিলাদের শিক্ষিত হার বেড়ে যাওয়াতে অনেক সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন একে অন্যের নিকট বিভিন্ন সমস্যার কথা শেয়ার করে। যার কারনে এখন এই রোগের চিকিৎসা করে অনেকে সু্স্থ্য আছেন।

 

শ্বেতপ্রদর আমাদের দেশের সবারই জানা একটি নাম। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন সাদা স্রাব, প্রমেহ, মেহ ইত্যাদি। অনেকের ধারণা, শ্বেতপ্রদর বা লিউকোরিয়া কোনো একটি রোগের নাম, কথাটি সত্য নয়। এ নামে কোনো রোগ নেই। এটি একটি উপসর্গ মাত্র। যোনির নিঃসরণকেই শ্বেতপ্রদর বা লিউকোরিয়া বলা হয়। বিভিন্ন কারণে শ্বেতপ্রদর হতে পারে এবং সেই কারণের ওপর নির্ভর করবে নিঃসরিত স্রাবের রঙ কী হবে?

পড়ুন  কীভাবে বুকের দুধ চেপে রাখবেন?

মহিলাদের সাদাস্রাব কেন হয়?

মহিলাদের সাদা স্রাব – লিউকোরিয়া

শ্বেতপ্রদরের অন্যতম ও প্রধান কারণ হচ্ছে যোনিপথের ইনফেকশন বা জীবাণুদূষণ, এমনকি সে ক্ষেত্রে যদি নিঃসরণ কোনোরকম ইনফেকশন ছাড়াও ঘটে তবে তাকেও শ্বেতপ্রদর(সাদা স্রাব) বা লিউকোরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমনো যদি হয় যে যোনি বা জরায়ুগ্রীবায় ক্যান্সারের কারণেও রক্তাভ যোনি নিঃসরণ ঘটে তাকেও লিউকোরিয়া ধরা হয়। উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে লিউকোরিয়ার প্রধান কারণ ইনফেকশন। প্রধান যে দুটি জীবাণু লিউকোরিয়ার জন্য দায়ী তা হলো ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস এবং ক্যানডিডা অ্যালবিকানস। দুটি রোগই যৌনমিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। এর ভয়াবহতার গুরুত্ব বিবেচনা করে রোগ দুটিকে লঘু যৌনরোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গার্ডনেরেলা ভ্যাজিনালিস, মাইকোপ্লাসমা হোমিনিস, ইউরিয়াপ্লাসমা ইউরিয়া লাইটিকাম, গনোকক্কাস, ক্লামাইডিয়া, হারপিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি জীবাণুর কারণে বিভিন্ন রকমেরও রঙের নিঃসরণ ঘটতে পারে। তবে এ প্রতিবেদনে মূলত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দুটো জীবাণুর ওপরই আলোচনা সীমিত রাখা হবে।

সাদা স্রাব
ক্যানডিডিয়াসিস:

এর আরেকটি নাম মনিলিয়াসিস এবং এ রোগ যে ছত্রাক জীবাণু দিয়ে হয় সে জীবাণুটির নাম ক্যানডিডা অ্যালবিকানস। অতি প্রাচীন এ রোগ। তবে এ জীবাণু আবিষ্কৃত হয়েছে ১৯৩৯ সালে। যে বিজ্ঞানী একে আবিষ্কার করেন তার নাম ল্যানজেনবেক। এ জীবাণুগুলো মুখ, গলা, বৃহদন্ত্র এবং যোনিপথে সচরাচর সংক্রমণ ঘটায়। তারা ভেজা এবং গরম স্থানে অতি সহজেই আক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। তবে শুষ্ক স্থানে (ত্বকে) তারা কখনোই আক্রমণ ঘটাতে পারে না। তাই তারা মুখ থেকে শুরু করে ফুসফুস, যোনি, ভেজা ত্বকে বা চামড়ার ভাঁজ, অন্ত্রনালি ইত্যাদি স্থানে সংক্রমিত হয়। এটা নারী বা পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সংক্রমিত হয়ে থাকে।

পড়ুন  অন্তর্বাসে নারী শরীরের গোপন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ...

সাদা স্রাব
পুরুষের ক্ষেত্রে উপসর্গ :

পুুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা অনুভূত হয়। প্রস্রাবের পথে চুলকানি এবং সাদা পদার্থের নিঃসরণ যা পরিমাণে খুবই কম হয়ে থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের নালির অগ্রভাগে লক্ষ্য করলে প্রদাহজনিত লালচে ভাব দেখা যায়। মহিলাদের অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। যাদের থাকে তাদের সাদা স্রাব বা অন্য রঙের যোনি নিঃসরণ, যোনিপথের চুলকানি, প্রস্রাবের পথে জ্বালা-যন্ত্রণা, কারো কারো ক্ষেত্রে সহবাসের সময় ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। যোনিপথ পরীক্ষা করলে প্রদাহের কারণে ফোলা লালচে ভাব দেখা যায় এবং ভেতরে যে নিঃসরণ দেখা যায় তা পানির মতো এমনকি চুনের পানির মতো দেখা যেতে পারে।
রোগ নির্ণয় :

এ ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ছত্রাক নির্ণয় করা যায় ঠিকই তবে সাধারণত তা করা হয় না। রোগের উৎসর্গ বা লক্ষণ শুনেই চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। একটা কথা জেনে নেয়া প্রয়োজন যে এ জীবাণু আমাদের দেহে বিশেষ করে গলা, মুখে, বৃহদন্ত্রে, যোনিপথে, পরজীবী হিসেবে কোনোরকম ক্ষতি করা ছাড়াই মানবদেহে বসবাস করে। তবে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে, অন্তঃসত্ত্বা হলে, ডায়াবেটিক দেখা দিলে, কার্টিসোন গ্রুপের ওষুধ সেবন করলে, স্বাস্থ্যহীনতা ও দুর্বলতায় ভুগলে, বেশি পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক খেলে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে, খাবারে বেশি পরিমাণ সুগার খেলে দেহের অভ্যন্তরে (বৃহদন্ত্রের) নিষ্ক্রিয় জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আবার দেহে ত্বরিত আক্রমণ ঘটায়।
ট্রাইকোমোনিয়াসিস :

এ রোগের জীবাণুটির নাম ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস। ভ্যাজিনালিস শব্দটি শুনে মনে হয় যেন ভ্যাজিনা থেকে এসেছে ভ্যাজিনালিস শব্দটি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয় যেন এ রোগ বুঝি শুধু মহিলাদের হয়। আসলে কিন্তু তা নয়। নারী-পুরুষ উভয়েরই এ রোগটি হতে পারে। জীবাণু দেখতে ডিম্বাকৃতির এবং শ্বেতকণিকার চেয়ে কিছুটা বড়। এ জীবাণুটি যোনিপথ ছাড়াও কিডনিতন্ত্রের নিচের অংশে আক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। এটিও অন্যান্য যৌনরোগের মতো সহবাসের মাধ্যমে একের থেকে অপরের দেহে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত রোগীর অন্তর্বাস ব্যবহার করলে সংক্রমিত হতে পারে। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১২ দিনের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

সাদা স্রাবের উপসর্গ :

অধিকাংশ আক্রান্ত পুরুষের ক্ষেত্রে এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ মূত্রনালি নিঃসরণ থাকতে পারে। প্রস্রাবের রাস্তায় সামান্য জ্বালা-যন্ত্রণাও থাকতে পারে। মহিলাদরে ক্ষেত্রে যোনির নিঃসরণ যা পাতলা থেকে শুরু করে হলদে রঙের হতে পারে। যোনিপথের চুলকানি, তলপেটের ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং জ্বালা-যন্ত্রণাও একসঙ্গে থাকতে পারে। এ রোগটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সাহায্য ছড়াই চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তবে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য রোগটি শনাক্ত করা যায়।

নারীদের সাদাস্রাব এর লক্ষন এবং প্রতিরোধের উপায় সমূহ

সাদা স্রাবের চিকিৎসা :

এ ক্ষেত্রে অন্যান্য যৌনরোগের মতোই স্বামী-স্ত্রী দুজনের একসঙ্গে চিকিৎসার প্রয়োজন। ট্যাবলেট মেট্রোনিডাজল ২৫০ মিলিগ্রাম রোজ তিনবার সাত দিন পর্যন্ত দিতে হবে। অথবা একসঙ্গে ২ গ্রাম মেট্রোনিডাজল অর্থাৎ ৪০০ মিলিগ্রামের সাড়ে চারটি বড়ি একসঙ্গে খেতে হবে। ক্যানডিডা অ্যালবিকানসের ক্ষেত্রে ক্লোট্রিমাজল ১% ভ্যাজিনাল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্লোট্রিমাজল ভ্যাজিনাল ট্যাবলেট রোজ দুবার ছয় দিন পর্যন্ত ব্যবহার করলেও খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।
লেখক : ডা. দিদারুল আহসান
চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : আল-রাজী হাসপাতাল
১২ ফার্মগেট, ঢাকা।

আপনার ডক্টর হেল্থ সাইটে কোন প্রকার অশ্লীল আর্টিকেল দেওয়া হয় না। মূলত যৌন জীবনকে সুস্থ্য, সুন্দর ও সুখময় করে তোলার জন্য জানা অজানা অনেক কিছু তুলে ধরা হয়।এরপরও আপনাদের কোর প্রকার অভিযোগ থাকলে Contact Us মেনুতে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন, আমরা আপনাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করব। ধণ্যবাদ আপনার ডক্টর হেল্থ সাইটের সাথে থাকার জন্য।

অন্যরা যা খুঁজছেন: সাদা, স্রাব, সাদা স্রাবের কারণ, সাদা স্রাবের লক্সণ, সাদা স্রাবের চিকিৎসা, সাদা স্রাবের প্রতিকার, সাদা স্রাবের ওষুধ,মহিলাদের স্রাব, নারীদের স্রাব, মেয়েদের স্রাব, পুরুষদের স্রাব, ছেলেদের স্রাব, স্রাব কেন হয়, শেব্তপ্রদহ, শেব্ত রোড়, মেহ রোগ, মহিলাদের শেব্তরোগ, নারীদের শেব্তরোগ, মেয়েদের শেব্তরোগ, মেয়েদের লিউকোরয়িা, নারীদের লিউকোরয়িা, লিউকোরয়িা কেন হয়, লিউকোরয়িার কারণ, নারীদের লিউকোরয়িা, মহিরাদের লিউকোরিয়ার কারণ, নারীদের লিউকোরিয়া, লিউকোরিয়ার চিকিৎসা, লিউকোরিয়ার ওষুধ, লিউকোরিয়ার প্রতিকার, লিউকোরিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা, mashik, leukoriya, lukoria, sada srab, sada mashik, sada sraber karon, sada srab, sada sraber lokhon, sada srab theka mukti

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।