cool hit counter

এইডস (AIDS) রোধে করণীয় কী ?

এইডস
এইডস (AIDS) রোধে করণীয় কী ?

এইডস একটি সংক্রামক রোগ। ১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম রোগটি শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এইচআইভি এর কারণে এইডস হয়। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর সারাজীবন ধরে শরীরে অবস্থান করে। এটি ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। তখন যে কোনো সংক্রামক রোগ সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করে।
সাধারণত ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া এবং কিছু বিশেষ ধরনের ক্যান্সার শরীরকে আক্রমণ করে। এছাড়া শরীরের ওজন হঠাত্ করে খুব বেশি কমে যেতে পারে এবং শরীর খুব বেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এইডস রোগীর খুব সাধারণ সংক্রামক রোগও স্বাভাবিক চিকিত্সায় ভালো হয় না এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হয়। তবে রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করেও এইডসের ভাইরাস মানুষের শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং এ সময় অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।
শরীরে এইডসের ভাইরাস প্রবেশ করার পরপরই কোনো লক্ষণ থাকে না বা কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। তবে শরীরে প্রবেশের পরপরই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে বিভিন্নভাবে অন্যদের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। কারও শরীরে এইচআইভি আছে কিনা তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। শুধু রক্ত পরীক্ষা করে এ ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এইডসের ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণ হওয়ার কত বছর পর এইডস হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কয়েক মাস কিংবা ১০/১৫ বছরের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৭৫ জনের ১০ বছরের মধ্যেই এইডস হয়েছে। একবার এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এইডস হবেই, এর হাত থেকে রক্ষা নেই।
এইডস কিভাবে ছড়ায়
–আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে কনডম ব্যতীত যৌনমিলনের মাধ্যমে।
–আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি, বোনমেরু বা অস্থিমজ্জা ইত্যাদি শরীরে গ্রহণ করলে।
–আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা সুচ, সিরিঞ্জ, টুথব্রাশ ও ক্ষতসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি, যেমন—রেজার, ছুরি, ব্লেড, ক্ষুর, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করলে।
–এছাড়া আক্রান্ত মা থেকে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় অথবা প্রসবের পর বুকের দুধের মাধ্যমে।
–সন্তান আক্রান্ত হতে পারে।
এইডস কীভাবে ছড়ায় না
–আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘরে বসবাস করলে, তার সঙ্গে ওঠাবসা করলে বা তাকে স্পর্শ করলে।
–আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত থালাবাসন, গ্লাস, বিছানা, বালিশ ইত্যাদি ব্যবহার করলে।
–একই টয়লেট বা পায়খানা এবং বাথরুম ব্যবহার করলে কিংবা একসঙ্গে পুকুরে সাঁতার কাটলে।
–একই স্কুলে পড়াশোনা করলে বা একসঙ্গে খেলাধুলা করলে।
–মশা বা পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে।
–আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুথু বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
–জীবাণুমুক্ত উপায়ে রক্তদান করলে রক্তদানকারীর এইডস হবে না।
–যে রক্তে এইডসের ভাইরাস নেই তা গ্রহণ করার কারণে রক্তগ্রহিতার এইডস হবে না।
–এখন পর্যন্ত এইডস রোগীর সংস্পর্শে আসা কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়নি।
আমাদের আশপাশে কারও শরীরে এইচআইভি পাওয়া গেলে তা সহজভাবে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আক্রান্ত রোগীকে ভয় পাওয়া, ঘৃণা করা বা দূরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়। তাকে সমবেদনা জানানো, যত্ন করা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা আমাদের সবারই দায়িত্ব।
কারও নিজের শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেলে
–মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে সহজভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।
–দুশ্চিন্তা এড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।
–এ সময় ভালো থাকার জন্য ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
–পুষ্টিকর ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
–নিজের টুথব্রাশ, রেজার, ব্লেড, ক্ষুর অন্যকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।
–স্বাভাবিক কাজকর্ম, বিশ্রাম ও প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
–যৌন মিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে হবে।
–মহিলাদের ক্ষেত্রে বাচ্চা নিতে চাইলে বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে চিকিত্সকের পরামর্শমত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
এইডস প্রতিরোধে করণীয়
–ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এইডস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু বিশ্বস্ত একজন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখতে হবে। একাধিক যৌনসঙ্গী পরিহার করতে হবে।
সূরা নূর-এর ৩০ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মোমেনদেরকে বল, তারা যেন তাদের নজর সংযত রাখে, তাদের যৌনাঙ্গের সংরক্ষণ করে। এটা তাদের জন্য মঙ্গল।’ ইসলামে সমকামিতাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সূরা আরাফ’র ৮২ নাম্বার আয়াতে সমকামীদের সীমা লংঘনকারী কওম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
–যৌনসঙ্গীর এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে, অথবা নিয়মিত ও সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করতে হবে।
–শরীরে রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণের প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে, সে রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এইচআইভি নেই।
–একবার ব্যবহার করা যায় এমন জীবাণুমুক্ত সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
–পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সুচ, সিরিঞ্জ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পূর্বে নিশ্চিত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
–দেখা গেছে, যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই কারও যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে দ্রুত চিকিত্সা করাতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে প্রতিরোধমূলক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
এইডসের কোনো প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। এর যে চিকিত্সা বের হয়েছে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাছাড়া এ চিকিত্সা শুধু এইডস হওয়ার সময়কে বিলম্বিত করে। এইডস পুরোপুরি নিরাময় করে না। তাই এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এইডস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং সে অনুযায়ী সচেতন হয়ে নিরাপদ জীবনযাপন করা। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য ও পরামর্শ পেতে নিয়মিত আপনার ডক্টর হেল্থ সাইটরে সাথে থাকবেন।ধণ্যবাদ

ফেসবুক কমেন্ট

comments

About সাদিয়া প্রভা

সাদিয়া প্রভা , ইন্ডিয়ার Apex Group of Institutions এর BBA এর ছাত্রী ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিয়সক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।